॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পতি কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ার উল হক বলেছেন, পার্বত্য ভূমি কমিশনকে কার্যকর করতে সরকার যে প্রবিধান প্রণয়ন করছে তার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রবিধান প্রণয়ন শেষ হলে আগামী অক্টোবর থেকে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির কাজ তথা শুনানী শুরু হবে।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিচারপ্রতি আরও বলেন, এ পর্যন্ত কমিশনে ২২ হাজার ৯০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এখনো যে কেউ অভিযোগ দায়ের করতে পারবে। কারণ প্রক্রিয়াটি চলমান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে আপাতত দু’টি কক্ষ নিয়ে কমিশনের কাজ পরিচালনা করা হবে। যখন অফিস নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে তখনি আপনারা জানতে পারবেন।

কমিশনের পরবর্তী সভা অক্টোবর মাসের ১০তারিখ অনুষ্ঠিত হবে বলে যোগ করেন বিচার প্রতি

চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিষ্টার দেবাশিষ রায় বলেছেন, আমাদের সদস্যদের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়ছে। যদিও এখনো শুনানি পর্যায়ে যায়নি। শুনানি হলে বিধিমালা প্রণয়ন করা সহজ হবে। বিধিমালায় আরো কিছু যোগ করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। যাতে বিধিমালা পড়লে সবকিছু স্পষ্ট বোঝা যায়।

এক প্রশ্নের জবাবে রাজা আরও বলেন, বিধিমালাটি প্রণয়ন হলে যে সবাই খুশি হবে এমন নয়। কেননা সকলকে খুশি করা কোনকালে সম্ভব নয়।

বান্দরবান বোমং সার্কেল চীফ উ চ প্রু চৌধুরী বলেন, কাজ শুরু করা গেলে শেষ হতে বেশিদিন লাগবে না। এজন্য কাজ শুরু করাটি জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এর আগে একইদিন সকালে রাঙামাটি সার্কিট হাউজে রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পতি কমিশনের সদস্যরা এক রুদ্ধতার বৈঠকে মিলিত হয়। এটি কমিশনের ৫ম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে বিচার প্রতি আনোয়ার উল হক ছাড়া কমিটির সদস্য রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়াম্যান কংজেরী চৌধুরী, রাঙামাটি চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়, খাগড়াছড়ি মং সার্কেল চীফ সাচিং প্রু চৌধুরী, বান্দরবান বোমং সার্কেল চীফ উ চ প্রু চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের প্রতিনিধি গোতম কুমার চাকমা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পতি কমিশনের সচিব মো. আলী মনছুর উপস্থিত ছিলেন।