॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

বন্ধকালীন সময়েও কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার, পাচার হরদম চলছে। একটি অসাধু চক্র প্রতিনিয়িত এ কাজটি করে যাচ্ছে। তাদের প্রতিহত করতে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রতিনিয়ত সাহসী অভিযান পরিচালনা করলেও চক্রটির মাছ পাচারে থেমে থাকেনি।

প্রতি মূহর্তে তারা কৌশল বদলিয়ে পাচার কাজ চালাচ্ছে। পাশাপশি বিএফডিসি’র কর্মতৎপরতার উপর তাদের সোর্স কাজ করছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ছে । এ নিয়ে চরম বিপাকে বিএফডিসি। কেননা কাপ্তাই হৃদে সবে মাত্র পোনা ছাড়া হয়েছে। হ্রদে মাছ ডিম ছাড়ছে। এসময়ে অসাধু চক্রটি ডিমওয়ালা মাছ শিকার করে উচ্চ দামে রাঙামাটি ও রাঙামাটির বাইরের বাজারে বিক্রি করছে।

এদিকে খোজঁ নিয়ে জানা গেছে- বিএফডিসি’র চোখ ফাঁকি দিয়ে কাপ্তাই হ্রদের পানি পথের তিনটি রুটে মাছ শিকার ও পাচার চলছে প্রতিনিয়ত। ইঞ্জিন চালিত বোটযোগে লংগদু, মেরুন, জামতলী নদী পথ হয়ে বাইরুটে খাগছড়ি জেলা এবং চট্টগ্রামে পৌছে শিকার করা হ্রদের মাছ। এছাড়া মাইনী হয়ে খাগড়াছড়িতে নৌপথে স্যুটকি পাচারও চলছে।

এদিকে শহরের নিকটবর্তী হ্রদের কালিন্দিপুর, বালুখালী, কাইন্দারমুখ নদী পথের ঘাটগুলো ব্যবহার করছে চক্রটি এবং বাইরুটে শহরের তবলছড়ি- আসামবস্তী এবং আসামবস্তী- কাপ্তাই সংযোগ সড়ক ব্যবহার করে অসাধু চক্রটি মাছ পাচার করে চট্টগ্রাম বা তার পাশ্ববর্তী জেলায় বিক্রি করছে। মাছ পাচারের জন্য চক্রটি সেহেরি এবং ইফতারের সময়টাকে উপযুক্ত সময় হিসেবে বেচে নিয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে। দ্রুত যান হিসেবে তারা ব্যবহার করছে মাইক্রো, হাইস, মাহেন্দ্র পিকআপ এবং অটোরিক্সা (সিএনজি)।

বিএফডিসি সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণ বন্ধের একমাসের মধ্যে বিএফডিসি কাপ্তাই হ্রদে অবৈধ মাছ শিকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে লংগদু উপজেলা থেকে ১৫টি এবং শহর এলাকা থেকে ২টিসহ ১৭টি ইঞ্জিনচালিত বোট আটক করেছে।

এ পর্যন্ত পাচারকালে বিভিন্ন জাতের দুই টন মাছ আটক করতে সক্ষম হয়েছে যার আনুমানিক মূল্য দেড় লাখ পর্যন্ত বলে বিএফডিসি সূত্রে জানানো হয়। তবে এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি।

এদিকে বিএফডিসি সর্বশেষ বুধবার (২০জুন) রাতে অভিযান চালিয়ে এসএ পরিবহন থেকে বিভিন্ন সাইজের ডিমওয়ালা ১১৬ কেজি ওজনের কাতাল মাছ উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত মাছগুলো ২৪হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করে বিএফডিসির ফান্ডে জমা হয়েছে বলে বিএফডিসি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে এসময় কাউকে আটক করা যায়নি।

  • Facebook
  • Twitter
  • Print Friendly

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন’র (বিএফডিসি) রাঙামাটি শাখার উপ-ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম  বলেন, সীমিত লোকবল দিয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাচারের খবর যেখানে পাওয়া যাচ্ছে সেখানে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

বিএফডিসি’র এ কর্মকর্তা আরও বলেন, একদিকে লোকবল সংকট অন্যদিকে ৭২৫ বর্গকিলোমিটারের বৃহৎ হৃদের মাছ রক্ষা করা সত্যিই কঠিন ও চ্যালেঞ্জের ব্যাপার বলে জানান।

এ কর্মকর্তা ক্ষোভের সাথে জানান, রাঙামাটিতে রয়েছে মাত্র ২৬জন নৌ-পুলিশ। অভিযানের সময় তাদের সঠিক সময়ে পাওয়া যায় না। প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ ভাবে হৃদে মাছ শিকারী অসাধু চক্রটির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত করা হচ্ছে বলে তিনি যোগ করেন।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন’র (বিএফডিসি) রাঙামাটি শাখার ব্যবস্থাপক কমান্ডার (নৌবাহিনী) মো. আসাদুজ্জামান  বলেন, আমি নিজে সরাসরি অভিযানে চলে যাচ্ছি। সেটা সকাল কিংবা রাত হোক। কাপ্তাই হ্রদের হৃদের মাছ রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। হৃদের মাছ শুধু দেশের সম্পদ নয় এ অঞ্চলের মানুষেরও সম্পদ। কারণ এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ মৎস্য ব্যবসার সাথে জড়িত।

প্রতি বছর তিন মাসের জন্য হ্রদে মাছ শিকার বন্ধকালীন একটি চক্র অবৈধ ভাবে হ্রদে মাছ শিকারে নেমে পড়ে। চক্রটি হ্রদের গহীন অরণ্যকে ব্যবহার করে মাছ শিকার ও পাচারে। বিশেষ করে এসময় মাছ শিকার করলে হ্রদের ডিমওয়ালা মা মাছ ধরা পরছে। এভাবে চললে হ্রদ একদিন মাছ শূন্য হয়ে পড়বে।

কমান্ডার আরও বলেন, তাই হৃদের মাছ রক্ষা করা শুধু বিএফডিসি’র দায়িত্ব নয়, এ অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব রয়েছে।