॥ বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি ॥

প্রধান নির্বাচন কমিশনার একেএম নুরুল হুদা পাহাড়ের সন্ত্রাসীদের উদ্দেশ্য বলেছেন, নিজেদের আইনের কাছে সোপর্দ করুন, না হলে ধ্বংস অনিবার্য। রোববার (৭এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাঘাইছড়িতে নির্বাচনী কাজে নিহত স্বজনদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সিইসি প্রধান আরও বলেন, হিংসাত্মক সশস্ত্র কর্মকান্ড চালিয়ে বিশ্বের প্রায় সবগুলো বিদ্রোহী সন্ত্রাসী গোষ্ঠিগুলোসহ বাংলাদেশেরই উত্তরাঞ্চলের একসময়ে নকশাল থেকে শুরু করে নিষিদ্ধ চরমপন্থী সংগঠনগুলোর কোনো সদস্যই আইনের হাত থেকে বাঁচতে পারেনি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে যারাই সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন অবিলম্বে আপনারা সকলেই এক সময়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন। সেদিন আর বেশি দূরে নয়।  তাই সন্ত্রাসী জীবন থেকে সরে এসে একটি সুন্দর সম্মৃদ্ধশীল দেশ গঠনে এগিয়ে আসুন।

এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার একইদিন বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে হেলিকপ্টারযোগে বাঘাইছড়ি পৌছেন এবং গার্ড অব অনার প্রদান করেন স্থানীয় প্রশাসন। এরপর স্থানীয় প্রশাসনের সাথে একান্ত বৈঠক করে সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ উক্ত ন্যাক্কারজনক হামলায় হতাহত পরিবারের সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেন সিইসিসহ তার সফরসঙ্গীগণ।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাৎ হোসেন, নির্বাচন কমিশন সচিব হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার জিওসি মেজর জেনারেল মতিউর রহমান, বাংলাদেশ পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জেরডিআইজি গোলাম ফারুক, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএমমামুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার মো: আলমগীর কবিরসহ স্থানীয় গন্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় শেষে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিহতদের প্রতি পরিবারকে নগদ সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা এবং আহতদের প্রতিজনকে এক লক্ষ করে নগদ টাকা তুলে দেন। এসময় হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকেও নিহতদের এক লাখ ও আহতদের পঞ্চাশ হাজার টাকা করে প্রদান করা হবে বলেও জানিয়েছেন সিইসি

গত ১৮ই মার্চ সন্ধ্যায় নির্বাচনী কাজ শেষে করে বাঘাইছড়িতে ফিরার পথে একদল সন্ত্রাসী গুলি করলে নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ ৭জন নিহত এবং অসংখ্য আহত হন।