॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

আগ্রাসন, চাঁদা দাবি এবং প্রাণ নাশের হুমকি থেকে বাঁচতে দীপেন দেওয়ান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংবাদ সন্মেলন করেছেন রাঙামাটি শহরের স্থানীয় বাসিন্দা অদ্বিত দেওয়ান নামের এক ব্যক্তি। তিনি রাঙামাটি পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান একে দেওয়ানের ছোট ছেলে।

সোমবার (১৬সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন আবাসিক হোটেলের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সন্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, তার বাবার মালিকানাধীন ১০২ রাঙাপানি মৌজার ৫৮শতাংশ জায়গা ১৯৬৯-৭০সালে অস্থায়ী ভিত্তিতে তৎকালীন জেলা প্রশাসন বন্দোবস্তি প্রদান করেন। এরপর ১৯৭৮সালে প্রয়াত সুবিমল দেওয়ান নামের এক ব্যক্তি ১৯৭৮সালে তার বাবার মালিকানাধীন জমির পাশে ১.৬৪ একর জায়গা বন্দোবস্তি পেতে জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেন। ঐ ব্যক্তির আবেদেনের মধ্যে তার বাবার মালিকানাধীন ৫৮শতক জায়াগা অর্ন্তভুক্তি ছিলোনা বলে জানান।

পরবর্তী কোন এক সময়ে প্রয়াত সুবিমল আমিন কানুনগোদের সাথে যোগসাযোজে ৫৮শতাংশ জমি নিজের ১.৬৪ একর জমির সাথে যোগ করে মোট ২.২২একর জমি তার নামে স্থায়ী বন্দোবস্তি হিসেবে রেকর্ড করিয়ে নেন।

এরপর তার বাবা বিষয়টি সম্পর্কে জেলা প্রশাসককে অবগত করলে জেলা প্রশাসক উভয়ের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে ২.২২একর জমির রেকর্ডীয় জমি বাতিল করে তর্কিত ৫৮শতাংশ জমি পুনরায় তার বাবা তথা একে দেওয়ানের নামে বন্দোবস্তি প্রদান করেন এবং এ ঘটনার সাথে জড়ির আমিন-কানুনগোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ প্রদান করেন বলে সংবাদ সন্মেলনে সাংবাদিকদের অবগত করেন।

এরপর জেলা প্রশাসকের রায়ের বিরুদ্ধে প্রয়াত সুবিমল দেওয়ান চট্টগ্রাম বিভিাগীয় অতিরিক্ত কমিশনার বরাবরে আপিল করলেও সবকিছু পর্যালোচনা করে জেলা প্রশাসকের রায় পূণ:বহাল রাখেন।

এরপর দীর্ঘ সময় আদালতে মামলা বিচারাধীন ছিলো। পরবর্তী মামলাটি মহামান্য হাইকোর্টে ২০০৩ সালে সুবিমলএকটি রিট দায়ের করলে রিট পিটিশনে মেরটি না থাকায় খারিজ করেন দেন বিজ্ঞ আদালত।মহামান্য হাইকোর্টে রায়ের পরবর্তী সময়ে সুবিমল দেওয়ান উচ্চতর আদালতে আপিল করেননি।

এদিকে সুবিমল দেওয়ানের ছেলে দীপেন দেওয়ানসহ তাদের লোকেরা তাদের জমিতে স্থাপতি দোকান-পাঠ ভাংচুর চালায়। দেড় কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করেন বলে অভিযোগ করেন অদ্বিতীয়। এ ঘটনায় রাঙামাটি কোতয়ালী থানায় দীপেন দেওয়ান গংদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করলেও মামলা থেকে তারা বর্তমানে জামিনে রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, আর পারছি না। দীপেন দেওয়ানের অতিষ্ট হয়ে সংবাদ সন্মেলন করতে বাধ্য হয়েছি এবং সন্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন

সংবাদ সন্মেলনে উপস্তিত ছিলেন, প্রয়াত ডা: এ.কে দেওয়ানে ছোট ছেলে ছাড়াও তার মেয়ে অপরাজিতা দেওয়ান, স্বজন অনিমেষ দেওয়ান, পার্থ প্রতিম তালুকদার, প্রীতম রায়, উত্তম চাকমা এবং স্বরুপ দেওয়ান প্রমুখ।

অপরদিকে সংবাদ সন্মেলনের মধ্যে সাংবাদিকদের অনুমতি নিয়ে কিছু বক্তব্য পাঠ করেন, জেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম স্বপন। তিনি বলেন, আমি একে দেওয়ানের দোকানের ভাড়াটিয়া। কিন্তু কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা দীপেন দেওয়ান তার স্বীয় স্বার্থ হাসিলের নিমিত্তে আমার দল এবং আমার বিরুদ্ধে ষড়যস্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আমাকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়েছে এবং একটি সংবাদ সন্মেলনের মাধ্যমে অভিযোগ তুলেছে। তার এমন নোংরা চিন্তা ধারার তিব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

প্রসঙ্গত: সংবাদ সন্মেলনে অভিযুক্ত দীপেন দেওয়ান নামের ব্যক্তি কেন্দ্রীয় বিএনপি’র উপ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি জেলা যুগ্ম জজ ছিলেন ।