মঈন উদ্দীন বাপ্পী । হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: লেখাপড়ায় মন বসে না। তাই স্নাতক পরিক্ষাও দেওয়া হয়নি তার। বাবা-মায়ের সারাদিন বকাবকি। চাকরী করো, পরিবারের আয়ের চাকা ঘোরাও। কিন্তু চাকরি তার ভাল লাগে না। উদাস মনে সারাদিন ভাবে, নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। এইজন্য হতে হবে উদ্যোক্তা। কিন্তু কিভাবে? এটা নিয়ে সারাদিন ভাবা হয় তার।

একদিন হাতে থাকা শখের এন্ড্রেট ফোনটিকে নাড়াচাড়া করে ইউটিউব থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার কোন উপায় পাওয়া যায় কিনা তা নিয়ে বিভিন্ন উপায় খুঁজতে থাকে।

এইবার তিনি ইউটিউব’র সাহায্যে তার উদ্যোক্তা হওয়ার কাঙ্খিত পথ খুঁঁজে পেয়ে যান। তার স্বপ্ন পূরণের নাম-কাশ্মিরী নূরানী আপেল কুল। অল্প সময়ের মধ্যে এ ফলের চাষ করে অনেকে চাষী স্বাবলম্বী হয়েছেন। এই ধরণের ভিডিও দেখে সিন্ধান্ত নিলেন- তিনিও কাশ্মিরী নূরানী আপেল কুল চাষ করবেন এবং নিজের উদ্যোক্ত হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করবেন।

তাই তো নিজের বাবার পরিত্যক্ত ৪০শতক জায়গায় কাশ্মিরী নূরানী আপেল কুল এবং সাথে বল সুন্দরী কুলের চাষাবাদ শুরু করেন। এইজন্য তিনি স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার সাহায্য নিয়েছেন।

যার কথা এতক্ষণ বলছিলাম; তার নাম হলো- বিনয় চাকমা ওরফে ধর্ম চাকমা (৩৩)। বসবাস করেন, রাঙামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের সাপছড়ি গ্রামে। বাবা আনন্দ কুমার চাকমা। পেশায় সরকারি চতুর্থ শ্রেণীর চাকরী করে। বাবা-মা-ভাই-বোন মিলে চারজনের সংসার। তিনি বাড়ির বড় ছেলে। বোন স্কুলে পড়ে।

বিনয়ী, নম্র স্বপ্নবুনা যুবক ধর্ম চাকমা বাংলানিউজকে বলেন- আমার লেখা-পড়া করতে ভাল লাগে না। তাই ডিগ্রী পরিক্ষা দেওয়া হয়নি। বাবার শত বকুনী স্বত্তেও চাকরি করতে মন চাই না। নিজে কিছু একটা করবো এমন ভাবনা থাকে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের পরিত্যক্ত ৪০শতক জায়গায় দু’টি উন্নত জাতের ১৫০টি আপেল কুল চারা রোপন করি। এর মধ্যে- কাশ্মিরী নূরানী আপেল কুল এবং বল সুন্দরী কুল (অস্ট্রেলিয়ান জাত) ।

ধর্ম জানান, চলতি বছরের মে মাসে আপেল কুল রোপন করা হয়। নভেম্বর মাসের শেষ দিকে প্রতিটি গাছে ফলন চলে এসেছে। এখন জানুয়ারীর শেষ দিকে গাছ থেকে ফলন তোলা হবে এবং বাজারে বিক্রি করা হবে।

তিনি আরও জানান, ৪০শতক জায়গায় আপেল কুলের চাষ করতে আমার দেড়লাখ টাকা খরচ হয়েছে। জমিতে সাথী ফসল হিসেবে রেডলেডি জাতের ৫৫টি পেঁপে গাছ লাগানো হয়েছে। পেপে গাছগুলোতেও ফলন এসে গেছে।

যুবক ধর্ম চাকমা বলেন, জমিতে আমি জৈব সার, কেঁচোসার, টিএসপি এবং এমোপি (লাল সার) ব্যবহার করেছি। অল্প সময়ের মধ্যে গাছে এত দ্রুত ফলন আসবে নিজে চিন্তা করতে পারছি না। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গাছ থেকে ফলন বিক্রি করে প্রায় তিনলাখ টাকা আয় করতে পারবো।

ধর্ম আরও বলেন,বাবা এখন আর বকাবকি করে না। বাবা নিজেও সময় করে আমার স্বপ্নে বাগানে ঘুরতে যায়, পরামর্শ প্রদান করে এবং আমাকে সহযোগিতা করে।
ধর্ম জানান, যে মানুষটির কাছে আমি কৃতজ্ঞ, যিনি প্রতিটি সময় পরামর্শ ও সহযোগিতা করেছেন তিনি হলেন, রাঙামাটি সদর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া।

রাঙামাটি সদর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া বাংলানিউজকে বলেন, ধর্ম চাকমা তার আগ্রহের কথা আমাকে জানায়। আমি তাকে সহযোগিতার জন্য আশ্বস্থ্য করি। এরপর তাকে পিছনে ফিরতে হয়নি।

তিনি আরও বলেন, কাশ্মিরী নূরানী আপেল কুল এবং বল সুন্দরী কুল (অস্ট্রেলিয়ান জাত) জাত দু’টি আমি তাকে নাটোর থেকে সংগ্রহ করে দিয়েছি। এ জাতে ফলন আসতে এক বছর সময় লাগে। কিন্তু এত দ্রুত ফলন চলে আসবে তা কল্পনা করতে পারিনি।