॥ আজগর আলী খান, রাজস্থলী ॥

চট্টগ্রাম জেলার রাঙুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ইটভাটার ধোঁয়াতে পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে৷ইটভাটার ধোঁয়ার কারণে প্রতিটি নিশ্বাসে অক্সিজেনের পরিবর্তে বিষ নিচ্ছে রাঙুনিয়া এলাকার জনসাধারণ৷

উপজেলায় এক সময় ইসলামপুর মগাছড়ি নামক স্থানে কয়েকটি ইটভাটা থাকলেও গত কয়েক বছওে উত্তর পোমরা, সরফভাটা,শিলক,নিচিন্তাপুর, রাঙুনিয়া পৌর এলাকার পাহাড় ঘেসে গড়ে উঠেছে ইটভাটা৷

বর্তমানে এই উপজেলাতে ১০০টির উপরে ইটভাটা রয়েছে যার মধ্যে মাত্র পাঁচটি ইটভাটার অনুমোদন থাকলেও বাকিগুলো সব অবৈধভাবে ক্ষমতার দাফটে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে যত্রতত্রভাবে ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে৷ মূল ভূখন্ডের একাংশ এখন ইটভাটার মাটির জোগান দিতে গভীর কুঁপে পরিণত হয়েছে৷

পুরো বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসের আগ্রাসনে মানব জীবনকে কাঁপিয়ে তুলতেছে ঠিক সেই পরিস্থিতিতেও বন্ধ হয়নি পরিবেশ ধ্বংসকারী অবৈধ ইটভাটাগুলো৷

এ ব্যাপারে জানতে রাঙুনিয়া উপজেলার রাজানগর ও ইসলামপুর এলাকার ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতির সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনেক চেষ্টার পরও তা সম্ভব হয়নি৷

এসব ইটভাটাগুলো রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মালিকানাতে হওয়ায় প্রশাসনের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা বলে মনে করছেন স্থানীয়রা৷

এদিকে উপজেলার ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটো মাদ্রাসার কয়েশত গজ দুরে প্রায় চারটি ইটভাটা রয়েছে। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনায় লোকালয় থেকে প্রায় আট-দশ কিলোমিটার দূরত্বে ইটভাটা করার কথা থাকলেও এই উপজেলার ইটভাটার মালিকরা তা মানছে না।

এসব ইটভাটা বন্ধ না করলে আগামী কয়েক বছরের ভিতরে এই উপজেলার পরিবেশ ধ¦ংস হয়ে যাবে৷করোনা ভাইরাস ঠেকাতে এই মূহর্তে উপজেলায় স্থাপতি যত্রতত্র স্থাপিত অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা জরুরী৷

রাঙুনিয়ার প্রবীন সাংবাদিক শেলু কোরাইশী বলেন, আমি এসব অবৈধ ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে অনেকবার লেখনির মাধ্যমে অনেকবার সোচ্চার হয়েছি। বারবার তাদের হুমকি-ধমকিতে শিকার হয়েছি।

রাঙুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান,এসব ইটভাটার জন্য পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে বিধায় ইতিমধ্যে প্রত্যেক ইটভাটা বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি নির্দেশ অমান্য করে তাহলে তাদের করলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে৷

তিনি বলেন কোন প্রভাবশালীর হুকুমে আমি কাজ করিনা। দেশের জন্য কাজ করি, জনগনের জন্য কাজ করি৷ করোনা ভাইরাস বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান।

ইসলামপুর ইউনিয়ন ও রাজানগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কাছে মুঠোফোনে গত দু’দিন বেশ কয়েকবার কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেনি।