॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

সম্প্রতি একাদশ জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের ঢামাঢোল শেষ হয়েছে। এবার নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার লক্ষ্যে। এ কারণে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান পদে সারাদেশে প্রার্থীদের দৌড় ঝাঁপ শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিতায় পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী আমেজ।

সারাদেশের ন্যায় গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে রাঙামাটি আসনে দীপংকর তালুকদার বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। আর এ বিজয়ের ফলে সংগঠনটির জেলার নেতা-কর্মীরা বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন।

আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং স্থানীয় আঞ্চলিক সংগঠন পিসিজেএসএস’র কোন প্রার্থীকে প্রচার-প্রচারণায় মাঠে দেখা না গেলেও আ’লীগের হয়ে শুরু থেকে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন উচ্চ শিক্ষিত, তরুণ রাজনীতিবিদ, পরিবহন নেতা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শহীদুজ্জামান মহসিন রোমান।

স্থানীয় ভাবে রাঙামাটি আ’লীগ থেকে কোন প্রার্থীর নাম একক ভাবে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা না করলেও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রোমানের নাম দল ও দলের বাইরে বেশ চাওড় হয়েছে।

খোদ দলের ভিতর গুঞ্জন উঠেছে রোমানই এবার আ’লীগের হয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়াইয়ে সামিল হবেন, এমন তথ্য জানা গেছে জেলা আ’লীগের প্রথম সারির কয়েকজন নেতার মুখে। রোমান ছাড়া এখনো কোন প্রার্থীর নাম শুনা যাচ্ছে না আ’লীগ থেকে।

আ’লীগের হয়ে রাঙামাটি সদরে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রোমান অতীতে রাঙামাটি শহর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

এমবিএ পাস করা রোমান রাঙামাটি শহরের অন্যতম স্বনামধন্য ব্যবসায়ী, দানবীর মরহুম হাজী মো. মহসিন কোম্পানীর মেঝ ছেলে। তার বড় ভাই মণিরুজ্জামান মহসিন রানা সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাবেক এ ছাত্রলীগ নেতা গতবার পৌরসভা নির্বাচনে আ’লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দলের দিক-নির্দেশনা মেনে এবং দলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দলের প্রার্থীর স্বার্থে নিজেকে প্রত্যাহার করেন এবং দলের স্বার্থে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে কাজ করেছেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে দলের এমপি প্রার্থী দীপংকর তালুকদারকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়িয়েছেন। দিন-রাত কাজ করেছেন নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করার জন্য।

  • Facebook
  • Twitter
  • Print Friendly

রোমান প্রার্থী হিসেবে কেন সেরা ?

অনেক রাজনীতিবিদ প্রাথমিক শিক্ষার গন্ডি পেরুতে না পারলেও রোমান কিছুটা ব্যতিক্রম; তিনি উচ্চ শিক্ষিত। সম্প্রতি তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফলতার সাথে এমবিএ পাশ করেছেন।

রোমান শুধু রাজনীতির মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধা রাখেনি। স্থানীয় পরিবহন সেক্টরে নিজেকে জড়িয়ে এ খাতের নানা সমস্যা সমাধান এবং উন্নয়নে অনন্য ভুমিকা রেখেছেন।

পর্যটকদের রাঙামাটি যাতায়াতের সুবিধার্তে নিজ খরচে তিনি জেলার পর্যটন স্পটগুলোর ছবি সংবলিত স্টিকার তৈরি করেছেন এবং সেই স্টিকারের ছবি অনুযায়ী পর্যটকরা যাতে সাবলীল ভাবে পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতে বেড়াতে পারেন সে ব্যাপারে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

পরিবহন খাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের উন্নয়নে নিয়েছেন নানা উদ্যোগ। তাদের জন্য তৈরি করেছেন বিশাল অর্থনৈতিক ফান্ড। আর শ্রমিকদের বিপদে ছুটে গিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। এতেও তিনি ক্ষান্ত হননি।

সমাজের দুস্থ, অসহায় পরিবারদের সাহায্য-সহযোগিতা করার লক্ষ্যে গড়ে তোলেছেন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। এ সংগঠনের মাধ্যমে অসহায় পরিবারের অনেক বিয়ে উপযুক্ত নারীকে আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে বিয়ের ব্যবস্থা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহযোগিতা এবং রোগীদের চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করেছেন।

এসব সেবার জন্য তিনি সংগঠনের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগেও অনেক দু:স্থ, অসহায় পরিবারের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তার এমন সামাজিক, মানবিক কাজগুলো তাকে প্রার্থী হিসেবে সবার সেরা একবাক্য বলা চলে।

রোমানই একমাত্র যোগ্য প্রার্থী:

অতীতে অনেক রাজনীতিবিদ, অনেক প্রার্থীর সামাজিক কর্মকান্ডে তেমন কোন উল্লেযোগ্য ভূমিকা লক্ষ্য করা না গেলেও এসব প্রার্থীর মধ্যে জেলার সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান তরুণ ব্যবসায়ী রোমান অন্যান্য প্রার্থীদের থেকে ভিন্নতর। তিনি যেমন উচ্চ শিক্ষিত তেমনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সক্ষমতা দেখিয়েছেন।

বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার উন্নয়নে অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটাচ্ছেন। আর এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে রোমানের কোন বিকল্প নেই। কেননা রোমান উচ্চ শিক্ষিত ।

সাধারণ মানুষ একজন জনপ্রতিধিদের কাছ থেকে একটু সহযোগিতা পাওয়ার আশা করেন। কারণ সাধারণ মানুষের ভোটে এসব জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনে জয় লাভ করে। কিন্তু দু:খের বিষয় এসব জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনে জয় লাভ করার পর সাধারণ মানুষকে ভুলে যায়।

আর এদিক থেকে রোমান একেবারে ব্যতিক্রম। অতীতের কোন নির্বাচনে রোমান প্রতিদ্বন্ধীতা না করলেও জেলার অসহায় গরিব-দু:খী মানুষের পাশে থেকেছেন। সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। এজন্য এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রোমানই সেরা যোগ্য প্রার্থী।

এবার আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে তরুণ রাজনীতিবিদ, সফল ব্যবসায়ী ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শহিদুজ্জামান মহসিন রোমান সরাসরি কথা বলেন হিলরিপোর্টের সাথে। জানান তার ভাল লাগা, মন্দ লাগার কথা। চেয়ারম্যান হতে পারলে জনস্বার্থে তিনি কি কি কাজ করবেন।

ব্যবসায়ী রোমান জানান- আমার প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে সমাজের পিছিয়ে পড়া অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করা। কেনন নিজের পকেটের টাকা দিয়ে কোন বৃহত্তর উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব নয়। আর এ চিন্তা থেকে মানুষের জন্য বড় পরিসরে কল্যাণ করতে এবারের উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

এছাড়া বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক হিসেবে জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের সাথে নিজেকে সামিল করতে এ নির্বাচনী ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছি।

যদি দল আমাকে নির্বাচনী যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য টিকেট প্রদান করে তাহলে আগামী নির্বাচনে ইনশাল্লাহ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে দলের স্থানীয় অভিভাবক এমপি দীপংকর তালুকদার এবং জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এ চেয়ারম্যান পদটি উপহার দিবো।