স্টাফ রিপোর্টার । হিলরিপোর্ট

কাপ্তাই হ্রদে নৌযোগাযোগে দীর্ঘ বছরের অন্যতম বড় সমস্যা হলো কচুরীপানা। কচুরীপানার কারণে সারা বছর নৌ-যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাপ্তাই হ্রদ হতে কচুরীপানা অপসারণ কার্যক্রম গ্রহণ করলেও কিছুদিন পর আবারো কচুরীপানায় ভরে যায় কাপ্তাই হ্রদ।এইবার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একদল স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণী কচুরীপানাকে সম্পদে রূপ দিয়েছে।

বছরের বেশিরভাগ সময় কচুরীপানার জন্য নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাপ্তাই হ্রদ হতে কচুরীপানা অপসারণের জন্য বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নিয়েছিলো।তবে সেই উদ্যোগ কখনো সফলতার মুখ দেখিনি। আবারো কচুরীপানার জঞ্জাল কাপ্তাই হ্রদে ভরে যায়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাপ্তাই হ্রদের দূষণ কমাতে কচুরীপানার ব্যবহার করার উদ্যোগ নিলেও সফলতার মুখ দেখিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া স্বপ্নবাজ একদল তরুণ-তরুণী এইবার কাপ্তাই হ্রদের জঞ্জাল নামক কচুরীপানাকে সম্পদে পরিণত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কচুরীপানাকে উন্নতমানের জৈব সারে রূপান্তর করছে তারা। বিষমুক্ত হওয়ায় তাদের উৎপাদিত জৈব সার ব্যবহার করে চাষীরা যেমন অধিক ফসল পাবে তেমনি তাদের টাকা সঞ্চিত হবে দাবি করছে তারা। এইজন্য তারুণ্য ভরা উদ্যোমী দলটি তাদের স্বপ্নবুনা পাইলট প্রকল্পটি কৃষক-কৃষাণীদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তারা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কচুরীপানা দিয়ে সার উৎপাদনের জন্য কৃষক-কৃষাণীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। শুধু তাই নয় তাদের গুরুতত্বপূর্ণ আইডিয়াটার জন্য ইউনিসেফ থেকে পুরুষ্কার বাগিয়ে নিয়েছেন সম্প্রতি।

স্বপ্নবাজ দলটির লিডার পার্সন এবং তরুণ উদ্যোক্তা মো. আসাদুজ্জমান বলেন- কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমণ করার সময় দেখলাম কচুরীপানার জন্য নৌ-যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটছে। সময়ের অপচয় হচ্ছে। নদীর পানি দূষণ করছে। সেই চিন্তা থেকে আমার আইডিয়াটা আসে।
তরুণ এই উদ্যোক্তা আরও বলেন- কচুনীপানা দিয়ে আমরা উন্নতমানের জৈব সার তৈরি করছি। কৃষক আমাদের তৈরি সার ব্যবহার করলে যেমন অধিক ফসল পাবে তেমনি তাদের খরচের পরিমাণ কমে যাবে।

টিমটির লিডার পার্সন বলেন-আমরাজেলার তৃণমূল কৃষকদের মাঝে আমাদের আইডিয়াটা ছড়িয়ে দিতে চাই। কারণ পুরো রাঙামাটি জেলা কাপ্তাই হ্রদ পরিবেষ্টিত। কৃষকরা যদি কচুরীপানার সদ্ব্যবহার করতে পারে তাহলে ফসল উৎপাদনের জন্য তাদের পকেটের টাকা খরচ করতে হবে না। কচুরীপানার সার ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করতে পারবে। কাপ্তাই হ্রদের পানি দূষণমুক্ত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া স্বপ্নবাজ তরুণদের পাইলট প্রকল্পটি যদি সফল হয় তাহলে কাপ্তাই হ্রদ থেকে দ্রুত কচুরীপানা অপসারণ হবে তেমনি উৎপাদিত ভালমানের জৈব সার ব্যবহার করে কৃষক অধিক ফসল পাবে, সঞ্চিত হবে অধিক অর্থ।