স্টাফ রিপোর্টার । হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: বৈশ্বির করোনার ক্রান্তিকালে রাঙামাটিতে নিত্য-পণ্য সামগ্রীর দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। আর পণ্যর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খেটে খাওয়া মানুষেরা পড়েছে চরম বিপাকে। এসব হত-দরিদ্র মানুষেরা ঘরবন্দি থাকায় একদিকে তারা যেমন কর্মহীন অন্যদিকে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের উপর বাজ পড়েছে। উভয় সমস্যা যেন ‌‌‌‌‍‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌তাদের উপর মরার উপর খাড়ার ঘা পরিণত হয়েছে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনার অজুহাত এবং আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে এক শ্রেণীর কালোবাজারী খাদ্যর কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যর দাম বৃদ্ধি করেছে। চাল, ডাল, হলুদ,ভোজ্য তেল, মরিচ গুড়া, আদা, পেঁয়াজ, রসূনসহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ঠেকাতে নিয়মিত মাঠে কাজ করছেন প্রশাসন। দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা অভিযান। শাস্তি হিসেবে করা হচ্ছে অর্থদন্ড। তারপরেও থামানো যাচ্ছে না দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ঘটনা।

সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরীবের মোটা চাল প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, এক মাস আগে এই চাল প্রতি কেজি ৩২ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। অর্থাৎ এই চালের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ১৩ থেকে ১৫ টাকা।

এছাড়া মাঝারি মানের চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। আর সরু বা চিকন দানা চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। তাও বেড়েছে ১০ টাকা। বর্তমানে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি, যা এক মাস আগে ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি। অর্থাৎ চিকন চালের দাম একমাসের ব্যবধানে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

এছাড়াও পবিত্র মাহে রমজান মাসকে ঘিরে বেড়েছে ছোলার দাম। যা এক মাস আগে ছোলা প্রতি কেজি ছিল ৫৫ থেকে ৬০টাকা। বর্তমানে প্রতিকেজি ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এক মাস ব্যবধানে কেজি প্রতি ২০টাকা বেড়েছে। পেঁয়াজের প্রতিকেজি ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে। এক মাসের ব্যবধানে কেজি প্রতি বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা।

রসুনের প্রতি কেজি ছিল ১৬০ টাকা,দাম বেড়ে বর্তমানে ২০০ টাকা। কেজি প্রতি বেড়েছে ৪০ টাকা। আদা প্রতি কেজি ছিল ১২০ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি ২০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে,দাম বেড়েছে ৮০ টাকা।

ডাল প্রতি কেজি ছিল ৫০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৯০ টাকা দরে,দাম বেড়েছে ৪০ টাকা। মরিচের গুড়া প্রতি কেজি ছিল ২৪০ টাকা। বর্তমানে ২৬০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে,তাতে বেড়েছে ২০ টাকা।

ভোজ্য তেল প্রতি কেজি বিক্রি করা হচ্ছে ১০০ থেকে ৯৫ টাকা দরে এবং পাম ওয়েল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে। হলুদ প্রতি কেজি ছিল ১৬০ টাকা। বর্তমানে কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা। হলুদেও কেজি প্রতি বেড়েছে ৪০ টাকা।

করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজের দাম দফায় দফায় বাড়লেও তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে সবজি। বাজারে ভালো মানের টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা। তবে ২০ টাকা কেজিও অনেক জায়গায় বিক্রি হয়েছে।

সব মিলিয়ে সজনে ডাটা বাদে বাকি সব সবজির দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। করলা ২০ টাকা, বরবটি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শসা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, শিম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, গাজর ২৫ থেকে ৩০ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পটল, ঝিঙা ৪০ টাকা কেজি। চিচিংগা, ঢেঁড়শ ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের লাউ প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকার মধ্যে।

ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষ কর্মহীন হয়ে এখন ঘরবন্দী। কোন আয় নেই তাদের। এই পরিস্থিতিতে নিত্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। তাই নিত্য পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ আনতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে আগের মতো পণ্য সরবরাহ হচ্ছে না। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে মানুষকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে অধিকাংশ পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে রমজানকে কেন্দ্র করে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে।

তারা আরও জানান, চালের প্রতি বস্তায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সেই সাথে বেড়েছে ছোলা,পেঁয়াজ,রসুন, আদা, তেল সহ বিভিন্ন নিত্য পণ্যের দাম। যার ফলে তাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে তারা জানান।