স্টাফ রিপোর্টার । হিলরিপোর্ট

নানিয়ারচর: করোনার ভয়াবহতার করাল গ্রাসে সারা বিশ্ববাসী। বিশ্বের চারদিকে চোখ মিললে মৃত্যুর মিছিল। বাংলাদেশও এর ভয়বহতার শিকার হচ্ছে। আর করোনার ভয়াবহতা ঠেকাতে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার সচেতন বাসিন্দারা একটি যুগপযোগী সিন্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সোমবার (০৬এপ্রিল) রাতে তারা এমন সিন্ধান্ত গ্রহণ করে।

নানিয়ারচর উপজেলাকে আনারসের রাজত্ব বলা হয়। তাই প্রতি মৌসুমে আনারস কিনতে জেলা ও জেলার বাইরে ব্যবসায়ীদের ঢল নাম নামে এই এলাকায়। বহিরাগতদের আগমনে করোনা ভাইরাসের আক্রান্তের শিকার হতে পারে স্থানীয়রা। এমন চিন্তা থেকে উপজেলার সচেতন বাসিন্দারা মিলে এইবার আনারস ব্যবসায়ীদের নিয়ম বেঁধে দিয়েছেন। নিয়ম মেনে ব্যবসায়ীরা তাদের আনারস সংগ্রহ করবেন।

মহলটি বলেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের হার যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে আমরা আতংকিত। কেননা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হতে আমাদের এলাকায় আনারস ফল ও কাঁঠাল ক্রয়ের জন্য সওদাগর, ট্রাক চালক, হেলপারসহ প্রতিদিন বহু মানুষের আনাগোনা লক্ষনিয়।

তাই সমাজের গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মিলে আলোচনা সাপেক্ষে কিছু সিন্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

সিন্ধান্তগুলো হলো- ০৭.০৪.২০২০ তারিখ হতে বুড়িঘাট এলাকার পানিঘাটে কোন প্রকার আনারস, কাঁঠাল লোড-আনলোড হবে না।স্থানীয় চাষিদের ফলের বাজারজাত করনের জন্য যে সকল ট্রাক এলাকায় প্রবেশ করবে সে ট্রাকগুলােকে উপজেলার মূল সড়কে জীবাণুনাশক স্প্রে করার পর প্রবেশ করবে। ট্রাক চালক, হেলপার, ব্যবসায়ী ও চালানদারগণ জীবাণুনাশক স্প্রে দ্বারা জীবাণুমুক্ত হবেন এবং মাস্ক পড়ে প্রবেশ করবেন।

এছাড়াও উপজেলার ফার্মেসী ব্যতীত সকল প্রকার দোকান-পাট সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চালিয়ে বন্ধ করবেন। এসময়ের মধ্যে ক্রেতা-বিক্রেতা সকলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন। দোকান-পাটে আড্ডাবাজি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান মহলটি।

নানিয়ারচর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সচেতন বাসিন্দা মো. আব্দুল ওয়াহাব বলেন, করোনার ভয়াবহতা ঠেকাতে আমরা উপজেলার সকল ব্যবসায়ী, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং সমাজের সচেতন বাসিন্দারা মিলে এ সিন্ধান্ত নিয়েছি। যারা এই সিন্ধান্ত মানবে না তাদের প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হবে।