উপজেলা প্রতিনিধি। হিলরিপোর্ট

কাপ্তাই: কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা খ্রীস্টিয়ান হাসপাতাল সংলগ্ন মিশন ঘাট। ঘাটের পাশে দাঁড়ানো বেশ কয়েকটি এ্যাম্বুলেন্স। পাশে বসে অলস সময় পাড় করছেন ঐ এ্যাম্বুলেন্স এর চালক আলী, রুবেল এবং আব্দুর রহমান। কথা হয় তাদের সাথে এই প্রতিবেদকের।

তারা জানান,করোনাকালে মানুষ যখন এই মরনগাতী ভাইরাস থেকে বাঁচতে গৃহবন্দী হয়ে জীবনযাপন করছে তখন তারা অসুস্থ রোগীদের জন্য প্রতিনিয়ত সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

কি দিন, কি রাত, নেই তাদের করোনা ভয়, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জীবন বাঁচাতে ছুটে চলেছেন তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন হাসপাতালে, দিয়ে যাচ্ছেন তাদের জরুরী এ্যাম্বুলেন্স সেবা। শুধু কি রোগী বহন করেন তারা তা কিন্তু নয়, অনেক সময় তারাই মৃত ব্যক্তিদের শেষ ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
অন্যসময় হয়তো তাদের এতোটা ভয় না থাকলেও করোনাকালীন সময়ে তাদের করোনার সাথে যুদ্ধ করে চলতে হচ্ছে। কারন তাদের নেই কোন পিপিই, অথচ যেকোন রোগী হতে তারা সংক্রমিত হতে পারেন।

আলী এ্যাম্বুলেন্স এর মালিক মোঃ আলী জানান, করোনাকালীন সময়ে তিনি ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী বহন করেছে এবং এর মধ্যে অনেক রোগী করোনা আক্রান্ত ছিলেন যা তিনি বহন করে হাসপাতালে নেওয়ার পর জানতে পেরেছেন।

২য় জন রাঙ্গুনিয়া এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মোঃ আব্দুর রহমান জানান, এই সময়ে বিভিন্ন ধরনের রোগী তিনি বহন করেছেন যার মধ্যে শ্বাস কস্টের উপসর্গ হওয়া রোগী বেশী ছিলো। তিনি আরো জানান, অধিকাংশ রোগী তাদের করোনা উপসর্গের কথা গোপন করে রাখেন, পরবর্তীতে মাঝপথে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন যে উক্ত রোগীরা করোনা উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ। তবুও মানবিক দিক থেকে তারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পৌঁছে দেন হাসপাতালে।

হাফসা এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের চালক মোঃ রুবেল একই কথা জানান, তিনি আরো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ইতিমধ্যে অনেক বিত্তবানদের সহায়তায় ফ্রি এ্যাম্বুলেন্স চালু হওয়ায় সেই চালকদের নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন সরন্জাম দেওয়া হলেও যারা জীবন জীবিকার তাগিদে এই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তাদের কথা কেউ চিন্তা করেনা।

তারা সকলেই জানান, ইতিমধ্যে তারা নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে নিজেদের খরচে নিরাপত্তা সরন্জাম ক্রয় করেছেন এখনো পর্যন্ত কোন ব্যাক্তি প্রতিষ্ঠান কেউ তাদের কথা চিন্তা করেনি, তারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিয়ে যাচ্ছে এ্যাম্বুলেন্স সেবা।

চন্দ্রঘোনা খ্রীস্টিয়ান হাসপাতাল এর পরিচালক ডা: প্রবীর খিয়াং জানান, অনেক ক্ষেত্রে গুরুতর কোন রোগীকে চট্রগ্রামে রেফার করতে হয়, তাই এই সব এ্যাম্বুলেন্স এর চালকদের যখন কল করা হয় সেটা রাতের মধ্য সময় হউক, তারা এসে রোগী নিয়ে চট্রগ্রামে চলে যান।

এই মূহুর্তে এই সব চালকদের প্রয়োজনীয় পিপিই প্রদান না করলে যে কোন সময় তারা আক্রান্ত হতে পারে এই ভাইরাসে, তেমনটা মনে করছেন স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে জড়িত কর্মকর্তারা।