স্টাফ রিপোর্টার । হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: নববর্ষের বাকী আর মাত্র দু’দিন। এরকম দিনে পাহাড় সাজে নতুন রূপে। উৎসবের উন্মাদনা ছড়ায় চারপাশ। হাট-বাজার থেকে শুরু করে বিপনী বিতানগুলো নবরূপে সেজে উঠে। মানুষের ঢলে ভরে যায় পুরো জনপদ। সেই সময়ে পাহাড়ি এ জনপদে পর্যটকদের ছড়াছড়ি। উৎসবের নগরীতে মুখরিত হয় এলাকাগুলো।

তবে বৈশি^ক করোনা গত বছরের ন্যায় এইবারও বৈসাবির আনন্দটা কেড়ে নিয়েছে। বৈসাবির মূল আকর্ষণ হলো মারমা জনগোষ্ঠির (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি) ‘জনকেলি’ উৎসব। মূলত বাংলা নববর্ষের পরের দিন মারমা সম্প্রদায় তাদের জনপদগুলোতে নিজস্ব সংস্কৃতি রীতি-নীতি অনুযায়ী জলকেলি উৎসবের আয়োজন করে থাকে।

নববর্ষের পরের দিন তথা মগ বা রাখাইন সম্প্রদায়ের মতে মারমা-রাখাইন জনগোষ্ঠি ওইদিন সকালে গৌতম বৌর্দ্ধের মূর্তিকে স্মান করিয়ে মানুষের মাঝে পবিত্রতার ছোয়া ছড়িয়ে দেয়। এরপর ওইসব জনগোষ্ঠির যুবক-যুবতীরা গ্রামে গ্রামে জলকেলির আয়োজন করে। জলকেলির (‘মিঠারী’ মারমা ভাষা) মূল কারণ হলো- পুরাতন বছরের সকল গ্লানি, দু:খ-কষ্ট এবং সকল অশুভ শক্তিকে বিদায় জানিয়ে মৈত্রিজালে বন্ধন সৃষ্টি এবং নতুন বছরে মঙ্গল কামনা করায় হলো এই জলকেলির উদ্দেশ্য। তবে জলকেলি কোন ধর্মীয় উৎসব নয় এটি সামাজিক উৎসব। তবে এ উৎসবকে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন স্থানে আয়োজন করে।

এ বছর করোনার কারণে পাহাড়ের এ সামাজিক অনুষ্ঠানটি থেকে যেমন মারমা সম্প্রদায় বঞ্চিত হয়েছে তেমনি বঞ্চিত হয়েছে পাহাড়ের স্থানীয় বাসিন্দাসহ দেশী-বিদেশী পর্যটকরা। সবুজ অরণ্য ভরা উৎসবের নগরী পাহাড় এখন ঘন মেঘে ঢাকা। নিস্তব্দ, নিরবতা, রংহীন পুরো জনপদ।

মারমা সংস্কৃতি সংস্থা (মাসাস) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মউচিং মারমা বলেন, বৈশি^ক করোনার কারণে আমরা এইবার জলকেলি উৎসব করছি না। মনে করেছিলাম দু’য়েকদিনের মধ্যে সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি তুলে নিবে। তাই আমরা জলকেলি উৎসব পালন করার জন্য সকল প্রস্তুতি সেরে ফেলেছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রথমে রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় উৎসবটির আয়োজন করার কথা থাকলেও পরবর্তী কাউখালী উপজেলায় করার পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। করোনা বেড়ে যাওয়ায় বড় পরিসরে উৎসবটি না করে চেয়েছিলাম রাঙামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি ইন্সটিটিউটে করার জন্য। কিন্তু সম্প্রদায়ের এ উৎসবটি আয়োজন করলে লোকারণ্যে ভরে যাবে। কাউকে নিষেধ করতে পারবো না।

তাছাড়া করোনার যেভাবে সংক্রমণ হচ্ছে তাতে ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে। তাই সকলের স্বার্থে, দেশের আইন মেনে করোনার এ ক্লান্তিকালে উৎসবটি বাতিল করতে বাধ্য হলাম।