মঈন উদ্দীন বাপ্পী । হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: করোনা ভাইরাস (কোভিট -১৯) পুরো পৃথিবীকে গ্রাস করছে দিনদিন। মৃত্যু পুরীর সংখ্যা বাড়ছে। সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত। দেশের অন্যান্য স্থানের ন্যায় পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতেও করোনা থাবা দিয়েছে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জেলায় দু’জন ব্যক্তি মারা গেছেন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১৪৬জন।

দিন যতই অতিবাহিত হচ্ছে ততই ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব বাড়লেও মানুষের মধ্যে এখনো সচেতনতা বৃদ্ধি পাইনি। বিশেষ করে শ্রমিজীবি মানুষেরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন। এইসব শ্রমজীবি মানুষেরা কেউ কেউ মুখে মাস্ক পরিধান করলেও শারীরীক দূরত্ব বজায় রাখতে পারছে না। যে কারণে করোনার সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকরা।

সরেজমিনে জেলা শহরের পুরাতন বাস স্টেশন এলাকার ইজারা ঘাটে গেলে দেখা যায়, কাপ্তাই হ্রদে অবস্থান করা মালবাহী বোট থেকে শ্রমিকরা বিভিন্ন মৌসুমী ফল ও পণ্য বোঝায় করে গাড়িতে লোড করছে। গাদাগাদি ভাবে ভাবে বোট থেকে এই পন্যগুলো খালাস করছে। তাদের মধ্যে নেই করোনার ভয়। মানছে না সামাজিক দূরত্ব। বেশির ভাগ শ্রমিকের মুখে নেই মাস্ক। তাদের কাছে পেটের দায়টা করোনায় চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেননা রাঙামাটিতে প্রায় দু’মাস লকডাউন থাকার কারণে সকলে ঘরবন্দি ছিলো। অলস সময় পার করেছে, হয়ে পড়েছিলো বেকার, পকেটে ছিলো না অর্থ। কষ্টে জীবন করেছে পার। লকডাউন খোলার পরপরই এইসব নিম্ন আয়ের শ্রমিকরা করোনায় ভয়কে উপেক্ষা করে পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিতে ব্যস্থ হয়ে পড়েছে। তাই সামাজিক দূরত্ব বা শারীরকি কিছুই মানছে না।

পুরাতন বাস স্টেশন এলাকার ইজারঘাটের শ্রমিক নুরুল আমীন বলেন, যতক্ষণ শ্বাস-প্রশ্বাস আছে ততক্ষণ পরিশ্রম করে যাবো। কেননা করোনার ভয়ে ঘরে বসে থাকলে কেউ একমুঠো খাবার দিয়ে যাবে না। তাই আমার কাছে করোনার ভয়ের চেয়ে ক্ষুধার ভয় বেশি। কারণ ক্ষুধার জ্বালায় মরে যাবো।

একই ঘাটের শ্রমিক নুরুল আলম বলেন, করোনার কারণে আমরা দুইমাস ঘরবন্দি ছিলাম। বউ-বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটিয়েছি। এখন বেশ ভাল আছি। শ্রম দিচ্ছি টাকা আয় করছি। করোনার ভয়ে আর ঘরে থাকতে পারবো না।

মৌসুমী ফল ব্যবসায়ী উদয় বড়ুয়া বলেন, করোনার কারণে অনেকদিন ব্যবসা করতে পারিনি। এখন স্বল্প পরিসরে ব্যবসাটা চালু রাখার চেষ্টা করছি। ব্যবসা না করলে খাবো কি?
এই ফল ব্যবসায়ী আরও বলেন, চেষ্টা করছি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার। কিন্তু বাস্তবতা বড় কঠিন। এই স্থানে সত্যিই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা বেশ কঠিন। কেননা আমাদের শ্রমিকরা বোট থেকে মালগুলো তোলার সময় কয়েকবার হাত বদল করে গাড়িতে লোড করতে হচ্ছে। যে কারণে একজন আরেকজনের সংস্পর্শে চলে আসছে। এছাড়াও পুরো এলাকায় শ্রমিকদের এত আনাগোনা। সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা কোনদিন সম্ভব না।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) উত্তম কুমার দাশ বলেন, মানুষের জীবন বাঁচাতে, করোনার ভয়াবহতা রুখতে এবং ভাইরাসটি ভয়াবহতার সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন শুরু থেকে কাজ করে যাচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে এসডিসি আরও বলেন, আমাদের কাছে মানুষের জীবন বাঁচানো আগে। যে কারণে আমরা সকাল এবং বিকেলে রাঙামাটি শহরে দু’টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি এবং কেউ সরকারি নিয়ম না মানলে তাদেও সাজা প্রদান করছি।

এনডিসি উত্তম কুমার দাশ জানান, আমরা হাট-বাজার, ইজারঘাট সব এলাকায় অভিযান চালাবো। সামাজিক দূরত্ব না মানলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।