মঈন উদ্দীন বাপ্পী । হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: নাম তার শহিদুজ্জামান মহসিন রোমান। মানুষের চরম আস্থা ও ভালবাসার ভোটে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন এখন অবধি পর্যন্ত।

মানুষটি বর্তমানে পরিবহন খাতের নেতাও। তারপরও সকল বাঁধা-বিপত্তি পিছলে ফেলে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন নির্ভীক সাহসী নাভীকের মতো। তার মতো অনেক রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধি থাকলেও তারা তাদের মতো কর্মকান্ড নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিন্তু রোমান তাদের উল্টো পিঠের যাত্রা।

দেশের এ ক্রান্তিকালে একদিকে তিনি পরিবহন শ্রমিকদের সামলাচ্ছেন অপরদিকে তার নির্বাচনী এলাকার হত-দরিদ্র, কর্মহীন মানুষদের পাশে দাঁড়াচ্ছোন। এ যেন সুপারম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন তিনি।

দিন-রাত শহর, পাহাড়,নদী, সমতল চারদিক দাপড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। খোঁজ নিচ্ছেন মানুষদের সুখ-দু:খের। সেসব মানুষদের তুলে দিচ্ছেন নিজের সাধ্যমতো খাদ্য- সামগ্রী। কোন বৈষম্য কাজ করছে না তার মধ্যে।

তিনি শুধু খাবার তুলে দিয়ে বসে থাকেননি। দূর্গম গহীন অরণ্য ডিঙ্গিয়ে, নদী পার হয়ে তার নির্বাচনী এলাকার মানুষদের মাঝে প্রবেশ করে ভালবাসার আবেশ ছড়িয়ে দিচ্ছেন। জানান দিচ্ছেন এই দুর্দিনে তিনি অন্যান্য ভোট পলিসি জনপ্রতিনিধির মতো হারিয়ে যাননি। তিনি তাদের পাশে আছেন।

নিজে হাতে বিলি করছেন হ্যান্ড লিফলেট, চালাচ্ছেন মাইকিং, করছেন সচেতনতা। এ মানুষটি শুধু সেসব করে ক্রান্ত হয়নি। দূর্গম গ্রামগুলোকে জীবাণুমুক্ত করতে নিজের পিঠে স্প্রে কন্টিনার নিয়ে তৃপ্তি নিয়ে চিটাচ্ছে জীবাণুনাশক স্প্রে। কোন ক্লান্তি তাকে ছুঁয়ে যায় না। প্রতিদিন নতুন নতুন কাজের সৃষ্টি করছেন তিনি। একদম দম ফেলার ফুসরত নেই তার।

করোনার মহামারিতে দেশের এমন ক্রান্তিকালে যখন অনেক জনপ্রতিনিধি নিজেকে বাঁচাতে ঘরের মধ্যে বসে থেকে যখন সময় ক্ষেপন করছেন সেখানে চির তরুণ রোমান নিজেকে ঘর বন্দি রাখতে পারেননি। হাজার ঝুঁকি মাথায় নিয়ে শহর, পাহাড়, নদী সব পথ মাড়াচ্ছেন।

আইনের মারপ্যাচে ইউএনও নির্ভর সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এই দুর্দিনে পায়নি তেমন কোন বরাদ্ধ। তারপরও বসে থাকেননি তিনি। কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন নিজের মতো করে। তার গতিপথ আটকিয়ে রাখা যে বড় কঠিন। কারণ তিনি যে কাজ পাগল মানুষ।

এইবার সেই আলোচিত রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারমানের মুখোমুখি হন হিলরিপোর্ট ২৪ ডট নিউজ। এই মানুষটির মনে অনেক ক্ষোভ, আক্ষেপ থাকলেও দেশের এই দুর্দিনে সেইসব বিষয় নিয়ে মুখ খুলতে চান না তিনি।

চেয়ারম্যান রোমান বলেন, সীমিত বাজেট দিয়ে মানুষের উপকার করা কোনদিন সম্ভব নয়; সেটা আমি অনুধাবন করতে পারি। কারণ আমার এলাকার মানুষ হত-দরিদ্র। এখানে উল্লেখযোগ্য কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই। মানুষ ঘরবন্দি থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তারা খাবার সংকটে পড়েছে। তাদের মুখে একবেলার খাবার দিতে পারলে নিজেকে সুভাগ্যবান মনে করছি।

তিনি আরও বলেন, আমি কোন কিছু চিন্তা করছি না। নিজের পকেটে যতক্ষণ টাকা থাকবে ততক্ষণ আমি হত-দরিদ্র মানুষের জন্য আমার এই কর্মকান্ড চালিয়ে যাবো; কারোর সাহায্যর আশায় বসে থাকবো না।

চেয়ারম্যান রোমান ক্ষোভের সাথে জানান, অনেক কিছু জানি। অনেক কিছু বুঝি। বুকে-পিঠে সব সয়ে নিয়েছি। শুধু এটা বুঝি, নিজেকে থামিয়ে রাখা যাবে না। তাই সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করার লক্ষ্যে ছুটে চলছি।

তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত কেটে খাওয়া হাজারেরও অধিক মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে পেরে খুব ভাল লাগছে। পাশাপাশি জেলা শহর, দূর্গম নদীপথসহ পুরো সদর এলাকায় প্রবেশ করেছি যথাযথ সাধ্য নিয়ে। সেইসব মানুষদের ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি ওইসব এলাকাগুলোতে জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটানো হয়েছে। করা হচ্ছে মাইকিং, লিফলেট বিতরণের মতো নানা কর্মসূচি। দেশের এই দুযোর্গকালীন সময়ে কাজ করতে চাই সাধারণ মানুষের জন্য।

রোমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করেছি। প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার নের্তৃত্বে কাজ করছি। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কি থাকতে পারে। তাই যে যাই বলুক, যত আমাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হউক। জনগণের কল্যাণে জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমি আমার কাজ নিয়ে এগিয়ে যেত চাই বহুদূর হতে বহুদূর………..