॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ভাসাইন্যাদাম এলাকার কাপ্তাই হ্রদের দক্ষিণ দিকের একাংশকে কাট্টলী বিল বলা হয়। অনেকে নাম শুনে মনে মনে হকচকিয়ে যায়; বলে উঠে নদীতে আবার কিসের বিল?

নামের সাথে বাস্তবে কোন মিল পাওয়া যায় না। তাই সরেজমিনে গেলে দেখা মিলে এটা তো বিল নয়; স্বচ্ছ গভীর জলরাশির মিঠা পানির হ্রদ। কাপ্তাই হ্রদের এ এলাকাটি মাছের অভরাণ্য বলা হয়। হ্রদের সকল বিখ্যাত বড় মাছের আস্তানা এ বিলে।

কাট্টলী বিলটি শুধু মাছের অভয়রাণ্য নয়। বর্তমানে বিলটি এখন অতিথি পাখিদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। সারাবছর কোন না কোন পাখির বিচরণ থাকে বিলটিকে ঘিরে।

পাখিগুলো শীত প্রদান দেশগুলো থেকে হাজার-হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে পাহাড়ি জেলা রাঙামাটির লংগদু উপজেলার কাট্টলী বিলে আগমন করে। শীতের ভরা মৌসুমে এসব পাখিগুলো এ বিলে আশ্রয় গ্রহণ করে।

কেননা পাহাড়ি এ এলাকায় শীতের তীব্রতা তেমন একটা থাকে না। তাই পাখিগুলো উষ্ণতার ছোঁয়া পেতে এবং খাবারের সন্ধ্যানে এ এলাকায় এসে ভীড় করে। শীত শেষ হওয়ার সাথে সাথে পাখিগুলো আবার নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে যায়।

  • Facebook
  • Twitter
  • Print Friendly

কাপ্তাই হ্রদে ভ্রমণ করা পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু থাকে কাট্টলী বিলটি দেখার। এখানে ভ্রমণ করার সময় দেখা মিলবে জেলেরা নানা রকম জাল দিয়ে মাছ ধরতে ব্যস্ত সময় পার করছে ঠিক অন্যদিকে অতিথি পাখিরা তাদের ভুড়ি ভোজন সারতে মাছ শিকারে মহা ব্যস্ত।

হাজার-হাজার অতিথি পাখিগুলো ঝাঁকে-ঝাঁকে উঁড়ে বেড়াচ্ছে। স্বচ্ছ জলধারায় ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব পাখিদের কিচিরমিচির কলকাকলিতে ভ্রমণ পিপাসু যেকোন মানুষের মনকে আছন্ন করে তোলে।

এ এলাকায় যেসব বিদেশী প্রজাতি পাখিগুলোর দেখা মিলে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বৈধর হাঁস, রাজ বৈধর, কোরালী, সাদা ঝুঁটি, পানকৌড়ি, কালোঝুঁটি পানকৌড়ি উল্লেখযোগ্য।

এখানে যেসব দেশীয় প্রজাতির পাখির দেখা মিলে তার মধ্যে যেমন- সাদা বক, গাংচিল, শামুকখোল বকসহ প্রভৃতি জাতের। এর মধ্যে বিদেশী জাতের কালোঝুঁটি পানকৌড়ি সারাবছর এ এলাকায় বাস করে।

এক সময় এ বিলে হাজার-হাজার অতিথি পাখির মিলন মেলা ঘটলেও বর্তমানে এর সংখ্যা দিন-দিন হ্রাস পাচ্ছে। হ্রদ এলাকায় জেলেদের আনা-গোনা, সাধারণ যাত্রীবাহী ইঞ্জিনচালিত নৌকা এবং স্টিমার চলাচলে পাখিদের বিচরণ ভূমিটি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দিনদিন।

এছাড়া ওই এলাকায় অসাধু একটি চক্র তৈরি হয়েছে যাদের কাজ হচ্ছে এ বিল থেকে অতিথি পাখি শিকার করা। এসব অতিথি পাখি শিকার করে বাজারে চড়াদামে হরদম বিক্রি করে যাচ্ছে চক্রটি। এ অসাধু পাখি শিকারীদের কারণে বর্তমানে পাখিদের সংখ্যা আরও কমে যাচ্ছে

স্থানীয় পাখি প্রেমীদের দীর্ঘদিনের দাবি- এ বিলে সাধারণ যাত্রীবাহী নৌকা চলাচল এবং জেলেদের মাছ শিকার বন্ধ এবং অবৈধ পাখি শিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে বিলটি তার হারানো ঐতিহ্যর গৌরব ফিরে পাবে।

লংগদু উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও পাখি প্রেমী ওমর ফারুক মুছা জানান- আমাদের দূর্গম এলাকার একটি মাত্র প্রাকৃতিক সম্পদের লীলা ভূমি বলা চলে কাট্টলী বিলকে। এ বিলে যেমন মাছের অভরাণ্য তেমনি বিভিন্ন দেশী-বিদেশী প্রজাতির পাখির মিলন মেলা ঘটে।

এ বিলে এক সময় হাজার-হাজার দেশী-বিদেশী পাখির বিচরণ থাকলেও বর্তমানে এর সংখ্যা দিনে দিনে কমে যাচ্ছে।

সাধারণ যাত্রবাহী নৌকা, স্টিমার চলাচল, জেলেদের আনাগোনা বন্ধ এবং অবৈধ পাখি শিকারীদের রোধ করা গেলে এ বিলটি হতে পারে প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলা ভূমি পর্যটন কেন্দ্র।

প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর কাট্টলী বিলকে রক্ষা করা অপরিহার্য। এজন্য তিনি স্থানীয় সচেতন মহল এবং প্রশাসনের প্রতি বিলটিকে রক্ষার্থে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।