মঈন উদ্দীন বাপ্পী । হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: কাপ্তাই উপজেলা মৎস্য ব্যবসায়ীদের থেকে চাঁঁদা আদায়ের পর এইবার রাঙামাটি মৎস্য ব্যবসায়ীদের থেকে চাঁদা দাবি করেছে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা। আর চাঁঁদা দিতে গড়িমশি করায় গত দুই-তিনদিন ধরে জেলা সদরের কাপ্তাই হ্রদের মগবান ইউনিয়ন, বড়াদম, কেইল্যামুড়া, বালুখালী ইউনিয়ন এলাকায় মৎস্য ব্যবসায়ী জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে নিষেধ করেছে সন্ত্রাসীরা।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এমন তথ্য নিশ্চিত করে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙামাটি শাখার ব্যবস্থাপক লে.কমান্ডার (নৌ-বাহিনী) মো. তৌহিদুর ইসলাম বলেন, আমরা এই ব্যাপারে অবগত আছি। বিষয়টির ব্যাপারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করা হয়েছে। আগামীকালের মধ্যে একটি সমাধানের পথ খুঁজে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে দুই-তিনদিন ধরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা পড়েছে চরম বিপাকে। তাদের আয়ের চাকা বন্ধ হয়ে গেছে। কেননা গত ১০আগষ্ট কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় জেলা প্রশাসন। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে আয়ের চাকা সচল করার আগে সন্ত্রাসীদের এহেন কার্যক্রমে ক্ষোভ প্রকাশ করছে ব্যবসায়ীরা ।

সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানান- জেলা সদরের বালুখালী, বড়াদম, মগবান, কেইল্যামুড়া এইসব এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন সন্তু গ্রুফের পিসিজেএসএস এবং প্রসীত গ্রুফের ইউপিডিএফ এর অবস্থান রয়েছে। মূলত এই দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন।

রাঙামাটি মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লি: এর সাধারণ সম্পাদক উদয়ন বড়–য়া বলেন, মন ভাল নেই। সন্ত্রাসীদের চাঁদার দাবিতে ব্যবসাটা বন্ধ রয়েছে। কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা শুরু হলো একমাস। ব্যবসা করার আগে সন্ত্রাসীদের চাঁদার দাবি মিটানো সত্যিই খুব কষ্টের।

গত ২৬ আগস্ট পাহাড়ের সশস্ত্র গ্রুপ কাপ্তাই উপজেলার মৎস্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আট লাখ টাকার চাঁদা দাবি করেছিলো। সরকারি একটি গোয়েন্দা সংস্থা এবং একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সন্তু গ্রুপের নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সশস্ত্র গ্রুপ এই চাঁদা দাবি করেছিলো।