॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় মারমা জনগোষ্ঠির ‘সাংগ্রাই জল উৎসব’ বা ‘জলকেলি উৎসব’ পালন করা হয়েছে। সোমবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে মারমা সংস্কৃতি সংস্থা’র (মাসস) উদ্যোগে উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের নারানগিরি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ উৎসব পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় আ’লীগের সদস্য দীপংকর তালুকদার।

মারমা সংস্কৃতি সংস্থা (মাসস) রাঙামাটি অঞ্চলের সভাপতি অংসিসাইন চৌধুরী’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা, ৩০৫ পদাধিক রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার রিয়াদ মেহমুদ, ডিজিএফআই রাঙামাটি অঞ্চলের অধিনায়ক কর্ণেল সামসুল আলম প্রমুখ।

প্রধান অতিথি এমপি দীপংকর বলেছেন, বিজুর আগে সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষের মনে আতংক সৃষ্টি করেছে যেন বিজু ভাল ভাবে পালন করতে না পারে। কিন্তু সাধারণ জনতার সচেতনতার কারণে সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্যপূরণ করতে পারেনি।

এমপি দীপংকর আরও বলেন, সন্ত্রাসীরা গত ১৮মার্চ নির্বাচনী কাজে জড়িত সাধারণ সরকারি চাকরীজীবিদের হত্যা করেছে। কিন্তু যাদের হত্যা করা হয়েছে তারা তো কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত নয়। এরপর ১৯মার্চ বিলাইছড়ি উপজেলা আ’লীগের সভাপতি সুরেশ তঞ্চঙ্গ্যাকে হত্যা করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের এমন কান্ড কখনো মেনে নেওয়া যায় না।

দীপংকর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সেদিন আর বেশি দূরে নয়, পাহাড় থেকে সন্ত্রাসী নামক গোষ্ঠিটি বিলীন হয়ে যাবে।

বক্তৃতা পরবর্তী এমপি দীপংকর মঙ্গল ঘন্টা বাজিয়ে ‘জলকেলি’ উৎসবের শুভ সূচনা করেন। এরপরই মারমা সম্প্রদায়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে উপ-বৃত্তি প্রধান করেন আগত অতিথিরা।

পরবর্তী সময়ে প্রধান অতিথি দীপংকরসহ আগত অতিথিরা একজন আরেকজনের গায়ে পানি ছিটিয়ে‘জলকেলি’ উৎসবে মেতে উঠেন এবং নববর্ষকে স্বাগত জানান।

প্রসঙ্গত: পাহাড়ে অন্যান্য সম্প্রদায়ের মত মারমা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা পুরনো বছরে সকল দু:খ-কষ্ট ভুলতে এবং নতুন বছরকে বরণ করতে নববর্ষের ২য় দিন একে অপরকে পানি ছিটিয়ে ‘জলকেলি’ উৎসবে মেতে উঠে। ঐতিহ্যবাহী এ সামাজিক উৎসব পাহাড়ে ‘জলকেলি বা সাংগ্রাই জল উৎসব’ নামে বেশ পরিচিত।