॥ কাপ্তাই প্রতিনিধি ॥

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নে কর্ণফুলী পেপার মিল (কেপিএম) থেতে রাতের আঁধারে মিলের পুরাতন যন্ত্রাংশ দেখিয়ে কয়েকলাখ টাকার মূল্যবান নতুন যন্ত্রাংশ বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচারের সময় স্থানীয় শ্রমিক, ওই এলাকার স্থানীয়রা ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় মালবাহি ট্রাকগুলো জব্দ করেছে।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারী) রাতে কেপিএম এলাকা থেকে এসব মালামাল জব্দ করা হলেও কেপিএম কর্তৃপক্ষের দাবি এসব মালামাল বিক্রির বৈধ কাগজপত্র তাদের রয়েছে।

তবে এসব মালামাল জব্দ করা হলেও কেপিএম কর্তৃপক্ষের দাবি তারা টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব মালামাল বিক্রির উদ্দেশ্যে বাইরে পাঠাচ্ছে। এ নিয়ে দু’পক্ষের উত্তেজনা সৃষ্টি হলে স্থানীয় প্রশাসন জরুরী ভিত্তিতে বুধবার রাতে একটি বৈঠকের ডাক দেয়।

বৈঠকে ওইদিন রাতে সিন্ধান্ত হয়, মালগুলোর বিক্রির বৈধ টেন্ডার কাগজপত্র নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিতে হবে। এসময় ট্রাকসহ জব্দকৃত যন্ত্রাংশগুলো পুলিশ থানায় নিয়ে আসার সিন্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার সারাদিন পার হলেও কোন বৈধ কাগজপত্র জমা দিতে পারেনি মিল কর্তৃপক্ষ।

চন্দ্রঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী বেবি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বুধবার রাতে মিল থেকে নতুন যন্ত্রাংশ পাচার করা হচ্ছে এমন সংবাদ জেনে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মালবহনকারী ট্রাকগুলো জব্দ করি।

তিনি আরও বলেন, মিল কর্তৃপক্ষ কোন মালামাল বিক্রি করতে হলে টেন্ডারের আহ্বান জানাতে হবে। কিন্তু মিল কর্তৃপক্ষ টেন্ডার দেওয়ার কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। চট্টগ্রামের সাগরিকস্থ মেসার্স ইকবাল এন্ড ব্রাদার্স’র কর্তৃপক্ষের সাথে কেপিএম কর্তৃপক্ষ আঁতাত করে গোপনে এসব যন্ত্রাংশ বিক্রি করতে চেয়েছিলো বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কাপ্তাই থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. খলিল  জানান, কেপিএম কর্তৃপক্ষ কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় মালামালগুলো এখনো থানা হেফজতে রাখা হয়েছে।

কর্ণফুলী পেপার মিলের ব্যবস্থাপক আহসান আলী ভূইয়া  জানান, মিলের পরিত্যক্ত যন্ত্রাংশগুলো বিক্রির করার জন্য বিসিআইসি কর্তৃক বৈধ কাগজপত্র আমাদের রয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের কারণে আমরা এখনো মালামালগুলো থানা থেকে ছাড়াতে পারেনি।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইএনও) আশ্রাফ আহমেদ রাসেল  বলেন, কর্ণফুলী পেপার মিল থেকে যন্ত্রাংশ বহনকারী ৩টি ট্রাক আটক করে স্থানীয় জনতা। তবে ট্রাকগুলোতে পুরনো যন্ত্রাংশ থাকার কথা থাকলেও অনেক দামি নতুন যন্ত্রাংশ পাওয়া গেছে। এছাড়া যন্ত্রাংশগুলো বিক্রির বৈধ কাগজপত্র দেখানোর জন্য বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হলেও মিল কর্তৃপক্ষ সারাদিনে কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মফিজুল হক বলেন, বিসিআইসি’রর বোর্ড সভার অনুমোদন ছাড়া এমন কাজ যদি কেপিএম কর্তৃপক্ষ করে থাকে, তাহলে আমি এটাকে চুরি বলবো। যারা চুরি করে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান কেপিএমকে ধ্বংস করতে চাই তাদের কঠোর শাস্তি দাবি জানাচ্ছি।