॥ দীপ্ত হান্নান ॥

সময়টা ভাল যাচ্ছিল না বাংলাদেশের ক্রিকেটের। শনির দশা ভর করেছিল শ্রীলংকার সেই নিদাহাস ট্রুফিতে। কাটেনি এখনো। আফগানিস্তানের কাছে হোয়াইট-ওয়াশ প্রমান করলো কঠিন বৃত্তে আটকে আছে এদেশের ক্রিকেট।

সমালোচনার পরিধি এত বেশি বাড়তে লাগল, সহ্য আর হচ্ছিল না। কিছু একটা আশা জাগানিয়া খবর তো দরকার। যখন নানা সমস্যায় জর্জরিত ক্রিকেটের মান বাঁচানোটা খুব জরুরী হয়ে উঠেছিল, ঠিক তখনি চমকে দেয়ার মতন একটি খবর উপহার দিল নারী ক্রিকেট দল। আলোচনার পাদপিঠে না থাকা এই দলটি রোববার এশিয়া কাপ জিতে নিল ভারতকে হারিয়ে।

চাট্টিখানি কথা নয়, এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ! হোক নারী ক্রিকেট, ক্রিকেট তো। বছরের পর বছর ক্রিকেট খেলে পুরুষ ক্রিকেট দলের কাছে এ শিরোপাটি এখনো অধরা। যদিও বা নারীদের থেকে পুরুষ ক্রিকেট অনেক সিনিয়র, অনেক অভিজ্ঞ। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম, ক্রিকেটের মানটা ঠিকসময়ে বাঁচাল নারীরা।

অভিনন্দন সালমা-রুমানাদের, অভিনন্দন দলটির কোচ-ম্যানেজার-স্টাফদের। মালয়েশিয়ার কিনারানা ওভাল স্টেডিয়ামে ভারতকে ৪ উইকেটে হারিয়ে এই ঐতিহাসিক জয় ও শিরোপা অর্জন করে নিল, সুবিধায় অনেকটা পিছিয়ে, প্রচারণায় পিছিয়ে নারী ক্রিকেট দল। কম কথা?

ভারতের দেরাদুনে যখন তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দলকে নিয়ে আফগানিস্তান যেভাবে নাকানি-চুবানি খাওয়াচ্ছিল, ঠিক ওল্টোপিঠে এশিয়া কাপে নারী ক্রিকেট দল গ্রুপে পাকিস্তান, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়াকে একের পর এক পরাভুত করে ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

সর্বশেষ, রোববারে ফাইনালে প্রতিপক্ষ ভারতকে হারিয়ে শিরোপা অর্জন করে নেয়। বহুজাতিক টুর্ণামেন্টে পুরুষ হোক, নারী হোক এটাই প্রথম টুর্ণামেন্ট বাংলাদেশের জন্য। এটা অবশ্যই গর্বিত হওয়ার মতই ইতিহাস। নারী ক্রিকেটারদের হাত ধরেই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁয় করে নিল বাংলাদেশ। চাট্টিখানি কথা?

শিরোপার এ জয়ে উচ্ছসিত পুরো বাংলাদেশ। অভিনন্দনের ফুলঝুরি ঝরছে বৃষ্টির মতন। ক্রিকেট পাগল দর্শক হিসেবে ক্রিকেটের কাছে আমরা এখন শিরোপার দাবিদার। ক্রিকেটের মুল স্রোতধারা থেকে পুরুষ ক্রিকেট দলের কিছুটা বিচ্যুতি ঘটলেও, একেবারে কঠিন সমীকরণে ক্রিকেটের মান বাঁচাল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। আবারো প্রাণ ঢালা অভিনন্দন এই দলটিকে।