॥ আল-মামুন,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥

মাত্র পাচ দিনের ব্যবধানে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ফের ছাত্রী যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষনের চেষ্টার শিকার সপ্তম শ্রেনীর ঐ ছাত্রীকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ধর্ষক মিঠুন চাকমা ওরফে বড়পেটা চাকমা পালিয়ে গেছে।

এর আগে গত ২৮ জুলাই একই উপজেলার নয়মাইলে পুনাতি ত্রিপুরা কৃত্তিকা নামে পঞ্চম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষনের পর নশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ নিয়ে গত মাত্র সাত মাসে খাগড়াছড়িতে ৮ শিশু ও কিশোরী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

বিশেষ গোষ্ঠী ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো নির্বিকার থাকার কারনে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ সচেতন মহলের।তবে পুলিশের দাবী খাগড়াছড়িতে সংঘঠিত সকল যৌন নির্যাতনের ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনে আওতায় আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়ায় সন্ধ্যা ৬টার দিকে ছাগল খোঁজতে গিয়ে মেরুং ইউনিয়ের উত্তর রেংকার্য উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী বখাটে মিঠুন চাকমা ওরফে বড়পেটা চাকমা কর্তৃক যৌন নির্যাতনের শিকার হয়।

ছাত্রীর শিশুটির চিৎকার শোনে লোকজন এগিয়ে গেলে ধর্ষক পালিয়ে যায়। তাকে উদ্বার করে প্রথমে দীঘিনালা ও পরে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ নিয়ে নির্যাতিতার পরিবার মুখ খুলতে না চাইলেও খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মীর মোশাররফ হোসেন শিশুটি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে।

একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি বছরের মাত্র ৭ মাসের ব্যবধানে খাগড়াছড়িতে ৮ শিশু ও কিশোরী যৌন নির্যাতন এক জনকে নির্যাতনের পর খুন হয়েছে। এরা প্রায় সকলেই স্কুল পড়–য়া শিশু ও কিশোরী।

তার মধ্যে গত ২৮ জুলাই দীঘিনালার নয়মাইলে বিদ্যালয় থেকে টিফিনে খেতে এসে নরপশুর লালসার শিকার হয়ে পৃথিবী ছাড়তে হয়েছে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী পুনাতি ত্রিপুরা কৃত্তিকা। নরপশুরা ঐ স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষনের পর নৃশংসভাবে লাশ কেটে টুকরা করে কয়েক’শ ফুট পাহাড়ের নিচে ফেলে দেয়। নৃশংস এই হত্যাকা-ের প্রতিবাদে উত্তাপ্ত খাগড়াছড়িসহ সারাদেশ। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি স্বজন ও সর্বমহলে।

এ ছাড়া গত সাত মাসে জেলা আরো ৬ শিশু-কিশোর যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। প্রত্যেক ঘটনায় আসামীরা গ্রেপ্তার হলেও বিশেষ গোষ্ঠী ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো নির্বিকার থাকার কারনে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ সচেতন মহলের ও আইনের ফাঁকফোঁকড় দিয়ে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ সুশীল সমাজের।

ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের মতো সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও মূল্যবোধ সৃষ্টিতে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উইমেন্সে রির্সোস নেটওয়ার্ক এর সমন্বয়ক শেফালিকা ত্রিপুরা।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান জানান প্রত্যেক ঘটনায় অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে খাগড়াছড়ি পুলিশ। এ ছাড়া এক কিশোরীকে গণধর্ষণের দায়ে চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল দীঘিনালার তিন যুবককে যাবজ্জীবন এবং এক লক্ষ টাকা করে অর্থদ- দেয় আদালত। এদিকে বিশেষ ট্রাইবুনাল চালু করে অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবি সচেতনমহলের।