॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণ বন্ধের এক মাস চার দিনে পার হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে নিবন্ধিত জেলেরা এখনো সরকারি বরাদ্দকৃত খাদ্য সহায়তা পায়নি। এতে তিন মাসের জন্য বেকার বনে যাওয়া জেলে পরিবারগুলো অভাব, অনাহারে- অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে ।

সরেজমিনে গেলে কথা হয় রাঙামাটি শহরের কাপ্তাই হ্রদের পাড়ে গড়ে উঠা নতুন জালিয়া পাড়ার জেলেদের সাথে। এ পাড়ায় বসবাস করে ৩৮২ পরিবার জেলে। ওই পাড়ার জেলে রনু দাশ  বলেন, আমরা এখনো খাদ্যশস্য বরাদ্ধ পাইনি। পেটে ভাত নেই, ঘরে চাল নেই।

রুনু জানালো, গত বছরও ভূমি ধসের জন্য আমাদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়নি। একই অভিযোগ জেলে জগদীশ দাশ, চন্দন দাশ, শিবু দাশ এবং ঝন্টু দাশের।

নারী জেলে বেবী দাশ  জানান, আমরা কষ্ট করে হ্রদ থেকে মাছ ধরে বিক্রি করেই কোনরকমে দিনিপাত করি কিন্তু মাছ ধরা বন্ধ হলে পুরুষ জেলেরা দিনমজুরী কাজ করে চলতে পারলে আমরা কোন কাজ পায় না। উপাস, অভাব অনটনে দিন কাটে। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে বন্ধকালীন সময়ে খাদ্যশস্য বরাদ্ধ এখনো পাইনি। একই অভিযোগ নারী জেলে বিফলা দাশ, এবং কমলা দাশের।

  • Facebook
  • Twitter
  • Print Friendly

খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, গত বছর রাঙামাটিতে ব্যাপক ভূমি ধসের কারণে জেলেদের ৭০০ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য আশ্রয় কেন্দ্রে বন্টন করার কারণে জেলেরা খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়। এবছরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রক্রিয়াগত জটিলতায় জেলেরা খাদ্যশস্য পেতে দেরি হচ্ছে।

এদিকে রাঙামাটি জেলা ত্রাণ ও দূর্যোগ শাখা সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটিতে ১৯হাজার ৪৭৩জন নিবন্ধিত জেলা পরিবার জন্য আগামী দু’মাসের জন্য সরকারের ত্রাণ ও দূযোর্গ ব্যবস্থপপনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৩৮৯মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। রাঙামাটি সদরের পাঁচ হাজার ৪৩, লংগদু উপজেলা ছয় হাজার ৫৪৩, বরকল উপজেলায় দুই হাজার ৯৫৭, কাঘাইছড়ি উপজেলায় এক হাজার ৯৫৭, জুরাছড়ি উপজেলায় ৪০৭, নানিয়াচর উপজেলায় এক হাজার ৫১৯, কাপ্তাই উপজেলায় ৬২৫ ও ও বিলাইছড়ি উপজেলার ৬৩৬ জেলা পরিবার আগামী দুই মাসের জন্য ২০ কেজি করে খাদ্য সহায়তা পাবে।

কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবারে এসব জেলেদের জন্য প্রতিমাসে ২০ কেজি করে চাল বরাদ্ধ দিতো। এবছর জেলেদের জন্য ১০ কেজি করে চাল বরাদ্ধ দেয়ায় জেলে পরিবারগুলো ক্ষোভে পেটে পড়েন।

লংগদু উপজেলা একতা মৎস্যজীবি ও ব্যবসা কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম কামাল  জানান, রাঙামাটির মধ্যে লংগদু উপজেলায় সবচেয়ে জেলে রয়েছে বেশি। এর মধ্যে উপজেলার নিবন্ধিত ৬হাজার ৫৪৩জনের জন্য খাদ্য শস্য বরাদ্ধ আসলেও ১৫-১৬ সালে নতুন নিবন্ধিত ২১৫৮জন জেলে এখনো খাদ্য সহায়তা পাচ্ছে না। এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সাথে একাধিকবার কথা বলেছেন বলে জানান তিনি।

জেলেদের এ নেতা আরও বলেন, আমরা প্রতিবারে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিমাসের জন্য ২০ কেজি করে খাদ্যশস্য বরাদ্ধ পায় কিন্তু এ বছর প্রতি জেলে পরিবারের জন্য ১০কেজি করে দু’মাসের জন্য ২০ কেজি করে চাল বরাদ্ধ দেওয়া হয়। আমরা সরকারের এ বরাদ্ধ খাদ্যশস্য লংগদু জেলে পরিবার গ্রহণ করবো না।

এ বিষয়ে রাঙামাটি জেলা ত্রাণ ও দূর্যোগ শাখার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ও জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) তাপন শীল জানান, জেলেদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ত্রাণ ও দূর্যোগ মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছিলো।

মন্ত্রণালয় যা দিয়েছে তাই আমরা জেলেদের মাঝে বরাদ্ধ দিবো। বরাদ্ধ দেওয়ার লক্ষে জেলার ৮টি উপজেলায় এসব খাদ্যশস্য পৌছে দেওয়া হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক ভাবে এসব খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হবে বলে যোগ করেন তিনি।

গত পহেলা মে থেকে আগামী তিনমাসের জন্য কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের পোনা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন হ্রদে মাছ আহরণ, বিপনন ও বাণিজ্যের উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করে।