॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এডভোকেট শক্তিমান চাকমা পাহাড়ের হিংসার রাজনীতিতে জড়িয়ে গুপ্ত ঘাতকের বুলেটাঘাতে অকালে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। তার এ অকাল প্রয়াণ একজন মেধাবী জনপ্রিয় রাজনীতিকে হারালো পার্বত্যবাসী। ঘটনার প্রতিবাদে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তথ্য পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের।

বৃহস্পতিবার (৩মে) সকাল ১১টায় রোজকার মতো কর্মস্থলের পথে রওনা হন তিনি। কিন্তু তার জানা ছিলো না পথেই ওঁৎ পেতে ছিলো গুপ্তহন্তারক। কর্মস্থলের কাছাকাছি পৌছেতেই ট্রিগার চেপে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায় গুপ্ত ঘাতকের দল।

পার্বত্যঞ্চলের পরিচিতি মুখ তুখোর রাজনীতিবিদ ও বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনে শক্তিমান চাকমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের মেধাবী ছাত্র ও অনলবর্ষী বক্তা হিসেবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে আপন যোগ্যতায় জায়গা করে নিতে তার খুব একটা সময় লাগেনি। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কার্যকরী সদস্য নির্বাচিত হন। ছাত্র রাজনীতিতে থাকা অবস্থায় পাহাড়ের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

পার্বত্য শান্তিু চুক্তি পরবর্তী এডভোকেট শক্তিমান চাকমা পাহাড়ের রাজনীতিতে ব্যপকভাবে সাড়া ফেলেন। তিনি জেএসএস’র রাজনীতির কাঙ্কিত মূখ হওয়ার পরও অভ্যন্তরীণ বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে আবারো পাহাড়ের রাজনীতিতে আলোচনা- সমালোনায় নিজেকে জড়ান। এক সময় প্রতিপক্ষের চাপ ও হুমকীতে নিজের এলাকা সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য খ্যাত নানিয়ারচর গণ্ডীবদ্ধ কেন্দ্রীক হয়ে পড়েন এ নেতা।

  • Facebook
  • Twitter
  • Print Friendly

 

গত ২০১৫ সালের উপজেলা নির্বাচনে লড়ে বর্তমান সাবেক্ষ্যং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইউপিডিএফ সমর্থিত সুশীল জীবন চাকমাকে হারিয়ে তার বিজয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হন। ব্যপক হারে ভোট প্রাপ্তি ও জনপ্রিয়তার কারনে নানিয়াচর এলাকায় তিনি হয়ে উঠেন অপ্রতিরোধ্য। এলাকার আধিপাত্য বিস্তারকারী প্রতিপক্ষও বসে ছিলোনা। তারা ছিলো সুযোগের অপেক্ষায়। পথের কাঁটা সরাতে লেলিয়ে দিয়েছিলো ঘাতক।

বৃহস্পতিবার সকাল এগারটার দিকে ওঁৎপাতা ঘাতকের দল এলাকার জনপ্রিয় মানুষটিকে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনী মাঠে নামে। ঘাতকদের আটক করতে বেশ কয়েকটি স্থানে যৌথ বাহিনী ব্যপক তল্লাশী করেছে। এলাকায় চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

তিনি ছিলেন নানিয়ারচর উপজেলায় নির্বাচিত তৃতীয় জনপ্রতিনিধি। পাহাড়ের রাজনৈতিক দ্বন্ধে বলি হয়ে একই উপজেলার প্রথম নির্বাচিত এবং জনপ্রিয় চেয়ারম্যান প্রয়াত তিরাজ চন্দ্র চাকমাও ঘাতকের বুলেটাঘাতে আহত হন। দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন থেকে বুলেটের ক্ষত নিয়ে মৃত্যু বরণ করেন। নানিয়ারচরের অস্ত্রের খেলা কবে শেষ হবে এই প্রত্যাশার প্রহর গুণছে এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ।

এদিকে কড়া পুলিশী প্রহরায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ময়না তদন্ত শেষে স্বজনরা নানিয়ারচর উপজেলার জনপ্রিয় চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমার মরদেহটি দাহ কর্মের জন্য উপজেলাস্থ তার গ্রামের বাড়ী নিয়ে গেছে। এ সময় নিহতের সদ্য বিধবা পত্নী ও মেডিক্যাল পড়ুয়া কন্যা সন্তান সাথে ছিলেন। শুক্রবার দুপর ১২টায় শক্তিমান চাকমার দাহ কার্য সম্পন্ন হবে।

প্রকৃতিক সৌন্দয্যের লীলাভুমি নানিয়ারচর উপজেলা বর্তমানে চরমভাবে সন্ত্রাস কবলিত। নানিয়ারচরকে ১৯৭৯ সালে থানায় এবং ১৯৮৩সালে উপজেলায় রূপান্তর করে তৎকালীন সরকার। ১শ ৪৬টি গ্রাম ও ৪টি মৌজা নিয়ে এই উপজেলা গঠিত। ২০,৬৮৫জন পুরুষ ও ১৮,৫০৫জন মহিলা নিয়ে সর্বমোট ৩৯,১৯০জন জনসংখ্যা অধ্যুষিত উপজেলা নানিয়াচরের জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যডভোকেট শক্তিমান চাকমা বিপুল ভোটের ব্যবধানে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে নির্বাচনে জয় লাভ করেন।