সালাউদ্দীন শাহীন, স্টাফ রিপোর্টার ।হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: করোনার প্রভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাও য়ায় প্রতিদিন ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে শত শত বিভিন্ন কর্মজীবি মানুষ শত বাঁধাকূল পেরিয়ে খাগড়াছড়ি হয়ে নিজ গৃহ বাঘাইছড়ি উপজেলায় প্রবেশ করছে। এমন কঠিন সময়ে সেইসকল মানুষকে বাঘাইছড়ি উপজেলায় প্রবেশ করানো ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও উপজেলা প্রশাসন মানবতার কাছে হার মেনেছেন।

আর এমন যুগপযোগী সিন্ধান্ত যিনি নিয়েছেন তিনি হলেন- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহসান হাবীব জিতু। তার চতুর এমন সিন্ধান্তে মুগ্ধ হয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমাসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

তাই এমন জটিল সমস্যার সহজ সিন্ধান্ত নিয়ে এমন সমস্যার মোকাবিলার করার কারণে উপজেলা চেয়ারম্যান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তার ফেইসবুজ পেজে ইউএনওকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি স্টাটাস দিয়েছেন। যা হিলরিপোর্ট-এ হুবহু তুলে ধরা হলো-

 

অনেক সময় সিদ্ধান্ত আর বাস্তবায়নের বাস্তবতা মিল থাকে না। আমরা বাস্তবতার কাছে হার মেনেছি। তাই ঢাকা/চট্টগ্রাম থেকে আগত কর্মজীবি বন্ধুদের মানবিক ও যৌক্তিক কারনে এলাকায় ঢুকানোর অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছি। এতে বিশেষতঃ উপজেলা প্রশাসনের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব- আহসান হাবিব জিতু সাহেবের দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রমের রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল। এ কাজে আমরা শুধু মাত্র প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাকে সহযোগিতা করেছি, তার কি পরিমান অবদান/ পরিশ্রম ছিল তা আমরা সকলেই অবগত। তাই তাকে সচেতন বাঘাইছড়ি উপজেলাবাসী পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই। আসলে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত যেমন সঠিক, আবার কর্মজীবিরা আসতে বাধ্য সেটাও যৌক্তিক। তাই ফলাফল ধরে নিতে হবে যৌক্তিক( সন্তোষ) + সিদ্ধান্ত (হতাশা)=যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। সিদ্ধান্তটি অনেকটা হ-য-ব-র-ল হয়ে গেল। অর্থাৎ আমরা যারা বাইরের মানুষ না ঢুকানোর পক্ষে তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে গেলাম। আর যারা ঢুকতে চাই বা তাদের পক্ষে তারা সন্তুষ্ট হয়ে গেল। সচরাচর রাস্ট্রীয় প্রশাসনের দায়িত্বে যারা তারা যে কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কঠোর থাকতে চান, আর আমার মত জনপ্রতিনিধিরা(যেহেতু জন+প্রতিনিধি) সেহেতু স্বাভাবিকভাবে আমরা কঠোর হতে পারি না। কিন্তু প্রশাসনের সিদ্ধান্তটাই সঠিক ছিল, ইউএনও সাহেব মানবিক বলেই এবং বাস্তবতা বুঝেই আর আমাদের কথা রক্ষা করতে গিয়েই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ছাড় দিতে বাধ্য হয়েছেন। তাছাড়া প্রশাসন শুধু এক জায়গায় ঠিক থাকলে চলে না। চট্টগ্রাম,হাটহাজারী,ফটিকছড়ি,মানেকছড়ি,গুইমারা,মাটিরাঙ্গা, খাগড়াছড়ি জেলা সদর ও দিঘীনালা উপজেলা পার হয়ে যদি তারা আসতে পারে, নিজ এলাকায় বাঘাইছড়ি ঢুকতে না দেওয়া কোনভাবেই যৌক্তিকতার মধ্যে পড়ে না। আমি এই যৌক্তিকতাকে এবং অবস্থাকে বিবেচনা করে সাথে সাথে বাঘাইছড়ি প্রশাসনকে আমাদের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ছাড় দিতে অনুরোধ করেছি। যার ফলে আগত লোকদের অপেক্ষার কষ্ট পোহাতে হলেও পরবর্তীতে ঢুকানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যাক, আমরা সকলেই জানি মূলতঃ বিদেশ থেকেই করোনা ভাইরাস আমাদের দেশে আমদানি হয়েছে যেমন-করোনা প্রবন দেশ চীন,অস্ট্রেলিয়া,ফ্রান্স,কানাডা,স্পেন,সৌদিআরবথেকে যারা দেশে ফিরেছে তারাই এ ভাইরাসের বাহক। চীনে বা বিদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সাথে সাথে যদি সরকার বিমানবন্দর, স্থলবন্দর লগ ডাউনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করতো, তাহলে আমাদের বাংলাদেশ করোনায় আক্রান্ত হতে পারতো না। ঠিক তেমনি বর্তমানে আমাদের দেশে ১৭ টি জেলা করোনা মুক্ত জেলা রয়েছে, তার মধ্যে তিন পার্বত্য জেলা। আমরা যদি করোনা প্রবন জেলা গুলো থেকে লোকজন আসা যাওয়া বন্ধ করতে সক্ষম হতাম, তাহলে তিন পার্বত্য জেলার মানুষ করোনা ভাইরাস থেকে শতভাগ নিরাপদ থাকতো। বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন সে প্রচেষ্টা করেছিল প্রিয় বাঘাইছড়ি উপজেলাকে করোনা থেকে রক্ষা করতে। কিন্তু আজ আমরা ব্যর্থ, মানুষকে বুঝাতে পারেনি। এখন আমাদের উৎকন্ঠা বেঁড়েই গেল। এখন শুধু অপেক্ষা,আগামী ১৫ দিন পর বুঝা যাবে পরিস্থিতি কেমন হয়। স্থানীয় জনগন যদি অত্যান্ত সচেতনভাবে আগত লোকদের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে রাখতে না পারে তাহলে বাঘাইছড়ির পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করবে যা আমরা কেউই কল্পনা করতে পারবো না। আমাদের বাঘাইছড়ি উপজেলাতে অনেক লোক ঢুকে পড়েছে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা এখন জরুরী। তাদেরকে বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে কোন ছাড় দেওয়া ঠিক হবে না । যদি কোন ব্যক্তি কোয়ারান্টাইন না মানে তার বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। আমি জানি, মুরুব্বী এবং যুব সমাজের পক্ষ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনের জন্য গ্রামে গ্রামে ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন তাই আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আর আমি প্রাইমারী ও হাই স্কুলগুলো এ কাজে ব্যবহার করার জন্য ইউএনও সাহেবের কাছ থেকে অনুমতি চেয়ে দিয়েছি, তিনি অনুমতি দিয়েছেন। তবে কোন ব্যক্তি যাহাতে কোয়ারান্টাইন ভঙ্গ করতে না পারে তার প্রতি কড়া নজর রাখতে হবে। এ করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সকলের দায়িত্ব। তাই
আসুন সকলেই মিলে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করি# ঘরে থাকি# স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলি# সকলকে করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত রাখি#