॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

আগামী ৩০ডিসেম্বর জাতীয় সংসদের একাদশ সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তারই ধরাবাহিকতায় পুরো দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নমিনেশন সংগ্রহ এবং দলের প্রধানদের নীতি নির্ধারণী নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে দেশের সব রাজনৈতিক দলগুলো।
এরই ধারাবাহিকতায় অন্যান্য দলের ন্যায় কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সিদ্ধান্তনুযায়ী রাঙামাটি জেলা বিএনপি’র নেতার কর্মীরা নির্বাচনে অংশ নিতে তৎপরতা শুরু করেছে।

রাঙামাটির ২৯৯ নং আসনে তিনবার আ’লীগ একবার বিএনপি একবার আঞ্চলিক সংগঠন সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন জেএসএস স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়ে বিজয়ী হয়েছে।

এবারের একাদশ সংসদীয় নির্বাচনে আ’লীগের একক প্রার্থী, এবং সন্তু গ্রুপের নেতৃত্বধীন পিসিজেএসএস’র দু’জন এবং ইউপিডিএফ’র একক প্রার্থী থাকলেও বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী নয়জন। এ নয় সংখ্যা রাঙামাটি বিএনপিকে জটিল সমীকরণে ফেলেছে।
দলটির সাধারণ নেতা-কর্মী এবং সমর্থকরা তাই দিশেহারা। ভোটের মাঠে দলীয় কর্মকান্ড পরিচালনার বদলে তারা এখন নেতা নির্বাচনে দৌঁড়-ঝাপ শুরু করেছে।

২৯৯ আসনে বিএনপি’র হয়ে কে পাবে দলীয় মনোনয়নের টিকেট। এ ভাবনায় নেতা-কর্মীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
দলটি দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে দু’টি গ্রুফে বিভক্ত ছিলো। একটি হলো জেলা বিএনপির সভাপতি শাহ আলমের গ্রুফ অন্যটি হলো- কেন্দ্রীয় বিএনপি’র উপ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক দীপেন দেওয়ানের গ্রুফ।

বর্তমানে এ দু’গ্রুফ থেকে এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে বর্তমানে নয়জন মনোনয়ন প্রত্যাশী দাবি তুলেছে। এদের মধ্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির উপ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক দীপেন দেওয়ান, উপজাতি বিষয়ক সম্পাদক কর্ণেল মণীষ দেওয়ান, জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহ আলম, জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নগর বিএনপি’র সভাপতি অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির, সাবেক পৌর মেয়র বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টো, কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, বাঘাইছড়ি পৌরসভার সাবেক মেয়র উপজেলা বিএনপি নেতা আলমগীর কবির এবং সর্বশেষ যোগ হয়েছেন বিএনপির’ শাসনামলে সাবেক পার্বত্য উপ-মন্ত্রী মণি স্বপন দেওয়ান।

দলটির একাধিক বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে- বাঘাইছড়ি পৌরসভার সাবেক মেয়র আলমগীর কবির এবং কাপ্তাই উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি দিলদার হোসেনকে মাইনাস ফর্মুলায় রেখেছে দলের উচ্চ পদের নীতি নির্ধারকরা।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বিএনপির উপ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক দীপেন দেওয়ান তার সরকারি বিচারকের চাকরী ছেড়ে দিয়ে বিএনপি’র খাতায় নাম লেখান। তিনি বর্তমানে দলটিতে পাকা পোক্ত অবস্থান সৃষ্টি করেছেন।

অপরদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল মণীষ দেওয়ানও বিএনপিতে যোগ দিয়ে বাগিয়ে নিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র উপজাতি বিষয়ক সম্পাদক। তিনি দলে সৎ আচরণের মধ্যে দিয়ে নেতা-কর্মীদের আস্থার প্রতীক হয়েছেন।

এছাড়া জেলা বিএনপি’র সভাপতি শাহ আলমও দলের পরিক্ষীত সৈনিক। দলের জন্মলঘœ থেকে তিনি বিএনপিতে ছিলেন।
তাই এবারের একাদশ জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে এসব নেতাদের থেকে ২৯৯ নং আসনে নির্বাচন করার জন্য একজন দলীয় টিকিট পাওয়ার সম্ভবনা ছিলো।

তবে তাদের স্বপ্নের ভারা ভাতে ছাঁই ঢেলে দিয়ে আবির্ভাব ঘটে সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মণি স্বপন দেওয়ানের। ২০০৮সালে বিএনপি ক্ষমতা হারালে তিনি এলডিপিতে যোগদার করেন। এরপর হন দল থেকে বহিষ্কার। তাই এত বছর দলের কোন নেতা-কর্মীর সাথে তার ছিলো না কোন যোগাযোগ।

কিন্তু অবশেষে একাদশ সংসদীয় নির্বাচনে তিনি বিএনপি থেকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। কেন্দ্রীয় বিএনপিও তার বহিষ্কারাদেশ উঠিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে দল থেকে নমিনেশন ক্রয় করায় তিনি এখন রাঙামাটি বিএনপি’র ট্রাম কার্ড। তাকে নিয়ে তৃলমূল বিএনপি’র ঘুম হারাম হয়ে গেছে।

এমন জটিল সমীকরণের মারপ্যাচে পড়ে সম্প্রতি রাঙামাটি বিএনপি দু’টি গ্রুফে বিভক্ত হয়ে সংবাদ সন্মেলনের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে।
গত ১৯নভেম্বর দুপুরে রাঙামাটি রিপোটার্স ইউনিটে সংবাদ সন্মেলন করেছে দীপেন দেওয়ান সমর্থিত কর্মীরা। তাদের দাবি দল থেকে কাউকে মনোনয়ন দিলে দীপেন দেওয়ানকে দিতে হবে। না হলে তারা গণহারে পদক্যাগের হুমকি প্রদান করেন।

অপরদিকে একইদিন সন্ধ্যায় জেলা বিএনপিসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা একটি সংবাদ সন্মেলন করে বিএনপি কার্যালয়ে। তাদের দাবি দলের হাই কমান্ড যাকে মনোনয়ন দিবে তাদের পক্ষে তারা কাজ করবে।

তবে তৃণমূল বিএনপি’র একটি সূত্র দাবি- জেএসএস এবারে নয়া কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে। যেহেতু তারা এতদিনেও এখনো তাদের প্রার্থী মনোনীত করেনি বা দলটির সমর্থিত কেউ মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেনি। তাদের ধারণা যেহেতু মণি স্বপন এক সময় শন্তিবাহিনীর মেজর ছিলো। তাই এবারের নির্বাচনে বিএনপির সাইনবোর্ড গলায় ঝুলিয়ে মণি স্বপন তার পুরনো মিত্রদের সাথে হাত মিলিয়ে নির্বাচন করার পরিকল্পনা এঁটেছেন। তাই মণি স্বপনকে তৃণমূল নেতারা মেনে নিতে পারছেন না বলে জানান তারা।

এদিকে লন্ডনে অবস্থানরত তারেক জিয়ার কাছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এসব মনোনয়ন প্রত্যাশী ব্যক্তিরা তাদের মতামত তুলে ধরেছেন। তবে দলটির নেতারা এসব বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দীপন তালুকদার দীপুর এক বাক্য- শহীদ জিয়ার আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে দল এবং জণগণের মাঝে যার প্রভাব বেশি থাকবে এবং নির্বাচনের জন্য দলের হাই কমান্ড যাকে মনোনয়ন দিবে তাকে নিয়ে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার লক্ষে কাজ করা হবে জানান বিএনপির এ নেতা।