॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

রাঙামাটিতে আমের বাম্পার ফলন হওয়ায় বাজার এখন সরগরম। জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরে রপ্তানী করা হচ্ছে আম। কৃষকরা দামও ভাল পাচ্ছে।

এ মৌসুমে স্থানীয় জাতের আম্রপালি এবং রাঙ্গু রাঙামাটির বাজার জমিয়ে তুলেছে। তবে রাঙ্গুর চেয়ে আম্রপালির দাম সামান্য বেশি।

সরেজমিনে শহরের কয়েকটি আমের বাজার ঘুরে দেখো গেছে, ভরা মৌসুমে শহরের অধিকাংশ ফুটপাত দখল করে ভাসমান আম ব্যবসায়ীরা আম ব্যবসা জমিয়ে তুলেছে এবং দামও পাচ্ছে বেশ ভাল। স্থানীয় জাতের আম্রপালি , রাঙ্গুর পাশাপাশি রাজশাহী থেকে আনা লক্ষণভোগ এবং ল্যাংড়া জাতের আমের বিকিকিনি হচ্ছে বেশি। ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করছে পুরো মৌসুম জুড়ে।

এদিকে স্থানীয় জাতের আম্রপালি বিক্রি করা হচ্ছে ৪০-৫০টাকায়, রাঙ্গু বিক্রি করা হচ্ছে ৩৫-৪০টাকায়। পাশাপাশি রাজশাহীর লক্ষণভোগ বিক্রি করা হচ্ছে ৬০-৭০টাকায় এবং ল্যাংড়া বিক্রি করা হচ্ছে ৭০-৮০টাকায়

আমের বাম্পার ফলন হওয়ায় মৌসুমী ব্যবসায়ীরা অন্যান্য ব্যবসার পাশাপাশি আম ব্যবসা হরদম চালিয়ে যাচ্ছে।

জেলা শহরের বনরূপা বাজার এলাকায় আম কিনতে আসা গৃহিনী আমেনা নওশিন  বলেন, এ বছর আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। সাধ এবং সাধ্যর মধ্যে আম কিনতে পেরে ভাল লাগছে।

বনরূপা বাজার এলাকার আরেক ক্রেতা সরকারি চাকরীজীবি মাসুদ রানা বলেন, মৌসুমী ফল বছরে একবার পাওয়া যায়। তাই চেষ্টা করি পকেটের টাকা হিসেব করে বাচিয়ে মৌসুমী ফল কিনতে। এসব মৌসুমি ফলে ফরমালিন না থাকায় টেনশনবিহীন খাওয়া যায় বলে তিনি জানান।

আম বিক্রেতা রমজান আলী  জানান, রাঙামাটিতে এ বছর আমের ব্যাপক চাষ হয়েছে। তাই স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে আম এখন জেলার বাইরে রপ্তানী করা হচ্ছে।

এ ব্যবসায়ী আরও জানান, আমের বাম্পার ফলন এবং কৃষকরা ন্যার্য মূল্য পাওয়ায় তাদের মুখে হাসি ফুটেছে।

আম বিক্রেতা মো. মিজান  বলেন, বাজার জুড়ে এখন আমের সয়লাব। জেলার প্রতিটি উপজেলা থেকে আমের সরবরাহ ব্যাপক।

রাঙামাটি কৃষি বিভাগ সূত্রে জানানো হয়- গত ২০১৩ সালে ১৯০৮ হেক্টর জমিতে ২১হাজার ৩৩১ মেট্রিক টন, ২০১৪ সালে ২৯৪৩ হেক্টর জমিতে ৩২হাজার ৯০৩ মেট্রিক টন, ২০১৫ সালে ২৯৫৫ হেক্টর জমিতে ৩৬হাজার ৯৫ মেট্রিক টন, ২০১৬ সালে ৩৩৫০ হেক্টর জমিতে ৩০হাজার ১৮৪ মেট্রিকটন এবং ২০১৭ সালে ৩৩৭০ হেক্টর জমিতে ২৩হাজার ৪১০ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর আমের ভাল ফলন হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাঙামাটি শাখার উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা বলেন, এ বছর জেলায় আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। আর আমের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকরা বেজায় খুশি বলে তিনি জানান।

এ কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, বৃষ্টি হওয়ার পর কৃষকরা যদি বালাইনাশক কিটনাশক ব্যবহার করে তাহলে ফলের অনেক ক্ষতি কম হবে।

এছাড়া আম সংরক্ষণের জন্য জেলায় হিমাগার না থাকায় অনেক আম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে তিনি যোগ করেন।