॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

রাঙামাটি সদর উপজেলার ৬৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী স্কুলগুলোর জন্মলঘ্ন থেকে জাতীয় ভাবে ঘোষিত মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের কুচকাওয়াজ থেকে বঞ্চিত ।

স্কুলগুলোর পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষকমন্ডলী এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষটি আরও জানায়, রাঙামাটি জেলা সদরে সর্বমোট ৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে জেলা সদরের ইউনিয়গুলোর মধ্যে ৬৬টি এবং রাঙামাটি পৌরসভা এলাকার মধ্যে ২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

প্রতি বছর জাতীয় অনুষ্ঠান বিজয় দিবস এবং স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজের অনুষ্ঠানে রাঙামাটি পৌরসভা এলাকার অধীন স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীরা এসব অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারলেও ইউনিয়ন স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীরা জাতীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে স্কুলগুলোর জন্মলঘ্ন থেকে। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি দুর্গমতার দোহায় দিয়ে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাঙামাটির ১০টি উপজেলার মধ্যে ৯টি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের স্ব-স্ব উপজেলায় জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নিচ্ছে এবং দুর্গমতা তাদের হার মানাতে পারেনি। কিন্তু একমাত্র জেলা সদরের ইউনিয়নগুলোর শিক্ষার্থীরা জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দুর্গমতার দোহায় দিয়ে শিক্ষার্থীদের এসব অনুষ্ঠান থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বরে মনে করেন সচেতন মহলও। কিন্তু বর্তমানে জেলা সদরে দুর্গম অঞ্চল বলে কোন এলাকা নেই বলে মনে করেন মহলটি।

রাঙামাটি জেলার সদরের বালুখালী ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত বালুখালী বটতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাসান উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে  জানান, জাতীয় স্বাধীনতা বা বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন চিঠি পান না, তাই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন না বলে যোগ করেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে এ স্কুলের প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাদের স্কুলগুলোকে দুর্গম এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করায় মূলত আমাদের শিক্ষার্থীরা এসব জাতীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক হাসান উদ্দীন জানান, জাতীয় দিবস পালন করার জন্য আমাদের স্কুলে আলাদা কোন তহবিল নেই। তাই নিজেদের উদ্যোগে স্কুলে জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো পালন করি।

যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি নির্দিষ্ট খরচের মধ্যে আমাদের যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেন তাহলে আমাদের শিক্ষার্থীরা সরকারি এসব জাতীয় অনুষ্ঠানে স্বত:স্ফূর্ত ভাবে অংশ গ্রহণ করতে পারবে এবং দেশের জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোর সাথে পরিচিতি লাভ করতে পারবে।

এ বিষয়ে জানতে রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইঅ) মো. খোরশেদ আলম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুধু জেলা সদরের পৌর এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জাতীয় বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নিতে চিঠি প্রদান করা হয়। আর জেলা সদরের ইউনিয়নগুলোর অন্যান্য স্কুলগুলো তাদের স্ব-স্ব স্কুলে জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো পালন করবে বলে যোগ করেন এ শিক্ষা কর্মকর্তা।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, রাঙামাটির জেলা শহরে অনুষ্ঠিত জাতীয় অনুষ্ঠানে জেলা সদরের ইউনিয়নগুলোর স্কুলের শিক্ষার্থীদের ভোর বেলায় এসে অংশ নেওেয়াটা কষ্টের বিষয় বলে মতামত ব্যক্ত করেন তিনি।

রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আল হক বলেন, যারা শহরের স্কুল তারা শুধু জাতীয় অনুষ্ঠান কুচকাওয়াজে অংশ নিবে আর সদরের স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীরা জাতীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবে না বিষয়টি খবুই দু:খজনক। যারা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আগ্রহী তাদেরকে প্রশাসনের উচিত এসব জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নেওয়ার জন্য ব্যবস্থা করে দেওয়া।