॥ আল-মামুন ॥

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে। তাই নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশের ন্যায় পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে নির্বাচনী হাওয়া লাগতে শুরু করেছে। এবারের নির্বাচনে জাতীয় দলগুলো ২৯৮ আসনটিতে বিজয়ী হতে দৌড় ঝাঁপ শুরু করেছে। বসে নেই আঞ্চলিক সংগঠনগুলো। নিজস্ব কৌশল নিয়ে যে যার মতো কাজ করে যাচ্ছে।

পার্বত্য এ জেলাটিতে নয়টি উপজেলা রয়েছে। আর পুরো জেলার ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৪ লক্ষ ৪১ হাজার ৬১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ১৪ হাজার ১৯৯ ও পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ২৬ হাজার ৮৬৯ জন রয়েছে। তবে গত নির্বাচনে ভোটার ছিল ৩ লক্ষ ৮১হাজার ৫শ ১৬ জন। এবার তাতে প্রায় ৬০হাজার ভোটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

খাগড়াছড়িতে বর্তমানে আলীগের যেমন অবস্থা:

২০০৮ সালের পর থেকে আ’লীগ এ আসটিতে পরপর দু’বার বিজয়ী হলেও এবার চরম বিপাকে পড়েছে । দেশের সর্ববৃহৎ দলটির এমন দশার মূল কারণ হলো দলীয় কোন্দল, বর্তমান সংসদ সদস্যর সাথে নেতা-কর্মীদের সমন্বয়হীনতা, ক্ষমতার অপব্যবহার সব কিছু মিলে মুখ থুবড়ে পড়েছে দলটি। তাই দলটির অধিকাংশ তরুণ নেতা-কর্মীদের চাহিদা দলের জন্য ত্যাগী এবং যোগ্য নেতাকে এবারের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী প্রদান করা হোক। তাইতো নৌকা সমর্থকরা এখন সৎ ও কর্মীবান্ধন নেতাকে নমিনেশন দেবে এমনটা প্রত্যাশা নিয়ে দিন গুনছে।

এবার ২৯৮ আসনটিতে আ’লীগে রয়েছে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী। তারা হলেন- জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ সমীর দত্ত চাকমা, টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, বর্তমান সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী।

দলটির সূত্রানুযায়ী এসব প্রার্থীদের মধ্যে কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে আলাদা পরিচিতি আছে আ’লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ সমীর দত্ত চাকমার। জনপ্রিয়তা এবং ক্লীন ইমেজের খ্যাতি আছে টাক্সফোর্স চেয়ারম্যান যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরারও।

দলটির সূত্র বলছে যদি হিসেবে কোন ভুল না হয় তাহলে সমীর এবং যতীন্দ্র এই দুই প্রার্থীর মধ্যে একজনকে দিলে আ’লীগ আসনটিতে আবারো বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।

দলটির একাংশ নেতাদের অভিযোগ- বর্তমান সাংসদ দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছে। তার দূরদর্শীতার অভাবে উপজেলা এবং পৌরসভায় দলীয় প্রার্থীরা বিজয়ী হতে পারেনি। এছাড়া এ সাংসদ কর্র্তৃক দলের অনেক নেতা-কর্মী হামলা-মালার শিকার হয়েছে। সাংসদের বিরুদ্ধে হরিলুটের অভিযোগ তুলেছে খোদ দলটির একাংশ নেতারাও।

২৯৮ আসন থেকে আ’লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আলীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ সমীর দত্ত চাকমা জানান- জননেত্রীকে খাগড়াছড়ির আসনটি উপহার দিতে সকল ধর্মের জাতি স্বত্তার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমান সরকারের আমলে পাহাড়ে যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে তা কারো অজানা নয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর সব কিছু বিবেচনা করে প্রকৃত কর্মীবান্ধব নেতাকে মনোনয়ন দিলে নৌকার জয় এবারের নির্বাচনেও সু-নিশ্চিত।

তিনি বলেন-কর্মীবান্ধব যে নেতাকে মনোয়ন দিবে দল তার পক্ষে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবো এবং এ আসনটি দলের সভাত্রেী শেখ হাসিনাকে উপহার দিবো। আক্ষেপ নিয়ে এ নেতা আরও জানান- দলের জন্য দুর্দিনে কাজ করেছি। বিনিময়ে দল থেকে কোন সুবিধা গ্রহণ করেনি।

মনোনয়ন প্রত্যাশী টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা জানান- ২০০৮ সালে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা আমার উপর ভরসা করে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। আর সে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তিনি আমাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কাজ করার সুযোগও দিয়েছিলেন।

কিন্তু ২০১৪ সালে আমি অসুস্থতার কারণে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারিনি। আশা করছি আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী আমাকে আবারও নৌকা প্রতীক দিয়ে জনগণের সেবা করার সুযোগ দিবেন।

বর্তমান সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন- আগামী সংসদ নির্বাচনে কে প্রার্থী হবেন সেটি কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। নেত্রী যাকে নৌকা প্রতীক দিবেন তার পক্ষে আমি ও আমার নেতৃত্বাধীন খাগড়াছড়ি আ’লীগ কাজ করবে।

বিএনপি’র যেমন অবস্থান:

২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে দেশের অন্যতম বৃহৎ দল বিএনপি আর এ জেলায় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। তাই অনেক বছর দলটি অগোছালো ছিলো। ভেঙে গেছে দলটির মেরুদন্ড।

কিন্তু বর্তমানে আ’লীগের মধ্যে অর্ন্তকোন্দলসহ নানা সমস্যায় বিএনপি আবার সরগরম হয়ে উঠেছে। দলটি ওয়াদূদ ভুইয়ার নেতৃত্বে নিরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছে। যদি এবারের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয় তাহলে হারানো এ আসনটি বিএনপি আবারো পুনরুদ্ধার করে নিবে বলে দলটির সূত্রে জানানো হয়।

ইউপিডিএফ’র অবস্থান:

শান্তি চুক্তির পর শান্তি চুক্তি বিরোধী আঞ্চলিক সংগঠন প্রসীত খীসার নেতৃত্বে ইউপিডিএফ অনেক বছর ধরে এ জেলায় দৃঢ় অবস্থান সৃষ্টি করে তাদের কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের স্বার্থে যোগাযোগ বাড়িয়েছে তাদের কঠিন শত্রু সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সাথে। শত্রুতার সাথে সখ্যতা গড়ে বন্ধুত্বে পরিণত করেছেন। তাই এবারের নির্বাচনে তাদের প্রভাব রয়েছে।