॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় আ’লীগের সদস্য দীপংকর তালুকদার বলেছেন- পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (পিসিজেএসএস) সন্ত্রাসী দল হিসেবে আখ্যা দিলে ঊষাতন অভিমান করে। শনিবার (৩নভেম্বর) বিকেলে জেলা আ’লীগের আয়োজনে রাঙামাটি শহরের তবলছড়িস্থ বটতলা এলাকায় জেল হত্যা দিবস পালনকালে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দীপংকর আরও বলেন- পাহাড়ে কলঙ্কের ইতিহাস রচনা করেছে জেএসএস। অবৈধ অস্ত্র দিয়ে প্রতিনিয়ত খুন, গুম, চাঁদাবাজি করে। এখন সেসব ইতিহাস তুলে ধরলে তাদের গায়ে জ্বালা ধরে। পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করলে জেএসএস নেতা অভিমান করে, রাগ করে। উনার এ কথাগুলো শুনতে ভাল লাগে না।

দীপংকর জানান- জেএসএস নেতা বিভিন্ন সভা সমাবেশে জানান- কেন্দ্রীয় আলীগের সাথে জেএসএস’র কোন বিরোধ নাই, ভালবাসা আছে। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো তাহলে রাঙামাটি জেলা আ’লীগ কি দোষ করলো। আ’লীগ তাদের থলের বিড়ালের খবর বের করে বলে।

দীপংকর আরও জানান- আপনারা আ’লীগের ভালবাসা তখনি পাবেন যখন থেকে অবৈধ অস্ত্রের রাজনীতি বাদ দিয়ে পাহাড়ের মানুষের উন্নয়নে কাজ করবেন। রক্তের বদলে পাহাড়ে শান্তির পায়রা উড়াবেন।

আ’লীগের কেন্দ্রীয় এ নেতা ক্ষোভের সাথে বলেন- আ’লীগ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। মানুষের উন্নয়নে, দেশের উন্নয়নে কাজ করে। কোন সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেয় না। কোন দেশদ্রোহীকে পছন্দ করে না।

সাবেক এ মন্ত্রী আরও বলেন- বিএনপি জ্বালাও পোড়াও রাজনীতিতে বিশ্বাসী। দুর্নীতি করে দেশের অবস্থা বেহাল করেছে। আপনাদের সাথে তাদের কোন পার্থক্য খুঁজে পায় না। বিএনপি ককটেল, বোমাবাজি করে মানুষ হত্যা করে। আর আপনারা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে পাহাড়ে চাঁদাবাজি করেন। রাঙামাটির স্থানীয় আ’লীগ যখন এসব কথা বলে তখনি আপনারা বাস্তব সত্য কথা মানতে নারাজ। আ’লীগের নেতা-কর্মীকে গুম,খুন এবং মারধর করেন।

এসময় জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, হাজী কামাল উদ্দীন, নিখিল কুমার চাকমা, সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর, যুগ্ন সম্পাদক আব্দুল মতিন, সাবেক পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান হাবিব, জেলা পরিষদের চেয়াম্যান বৃষকেতু চাকমা, জেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সাওয়াল উদ্দিন, জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক নুর মোহাম্মদ কাজল, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমাসহ অন্যন্যা নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোদ্ধা জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।