॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

কাপ্তাই হ্রদে তিন মাস ধরে মাছ ধরা বন্ধ থাকার পর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক মঙ্গলবার (৩১জুলাই) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর জেলেরা মাছ ধরতে হ্রদে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের চোখে মুখে ফুঠে উঠে আনন্দের ফোয়ারা।

বুধবার (১আগষ্ট) সকাল থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চালান রাঙামাটি মৎস্য অবতরণ ঘাটে এসে পৌছায়। সকাল থেকে জেলার স্থানীয় মাছের বাজার গুলোতেও বিপুল পরিমান মাছের আগমন ঘটে।

বুধবার সারাদিনে কাপ্তাই হ্রদ থেকে আহরিত আনুমানিক ১শ ১৭ মেট্রিকটন মাছের বিপরীতে সরকার রাজস্ব আদায় করেছে ১৭ লাখ টাকা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) রাঙামাটি শাখা।

কাপ্তাই হ্রদে কার্প প্রজাতির মাছসহ অন্যান্য মা মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিতকরণে হ্রদে অবমুক্তকৃত পোনার সুষ্ঠু বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত পহেলা মে থেকে কাপ্তাই হ্রদের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়।

তিনমাস পর হাতের নাগালে সু-স্বাদু মাছ আসায় মাছের চাহিদাও ছিল প্রচুর। মাছ আহরন চালু হওয়ার পর রাঙামাটির বিভিন্ন বরফগুলোতে পূর্ণোদমে বরফ উৎপাদন শুরু হয়েছে। ফলে অনেক বরফ শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সূযোগ হয়েছে। হ্রদের মৎস্যজীবি, ব্যবসায়ীদের মাঝে নতুন কর্ম চাঞ্চল্যের সৃষ্ঠি হয়েছে।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) রাঙামাটি শাখার ব্যবস্থাপক কমান্ডার (নৌ-বাহিনী) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, কাপ্তাই হ্রদের মাছ ধরা বন্ধকালীন সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর বুধবার থেকে পূর্নদমে কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা শুরু হয়েছে। সরকারিভাবে নিবন্ধিত ২১ হাজার স্থানীয় জেলেসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো জেলে কাজে উৎসবমুখর পরিবেশে কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ শুরু করেছে।

প্রথমদিনে হ্রদ থেকে চাপিলা, কেচকি ও আইর মাছ বেশি ধরা পড়েছে জানিয়ে কমান্ডার আসাদ বলেন, রাঙামাটি মৎস্য অবতরণ ঘাট, মহালছড়ি ও কাপ্তাই মিলে সারাদিনে অন্তত ১শ ১৭ মেট্রিক টন মাছ সরকারি রয়েলটি দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গেছে ব্যবসায়িরা। এতে করে প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা সরকারি রাজস্ব অর্জিত হয়েছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটউট, নদী উপকেন্দ্রর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কাজী মোঃ বেলাল উদ্দিন জানান, চলতি মৌসুমে মাছ আহরণ বন্ধকালীন সময় প্রাকৃতিক পরিবেশ মা মাছের ডিম ছাড়ার জন্য সহায়ক ছিল বিধায় হ্রদের প্রায় ৩৯ প্রজাতির দেশীয় মা মাছ ডিম ছাড়ার সূযোগ পেয়েছে।

পাশাপাশি কার্প জাতীয় মাছের যে ৪ টি প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র ছিল তার মধ্যে মাইনী চ্যানেল ধেকে এবছর স্বল্প পরিমানে কার্প জাতীয় মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে।

এদিকে, বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ জানান, ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটিতে সংগঠিত ভয়াবহ প্রাকুতিক বিপর্যয়ের ফলে কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য সম্পদ ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে মাছ পরিবহনও বন্ধ থাকে। তবে এতো কিছুর পরেও গত বছর মাছ ধরা মৌসুমে ১০ হাজার ১শত ২৩ মেট্টিকটন মাছ আহরিত হয় এবং সরকার রাজস্ব আদায় করেছে ১৩ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা।