॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে রাঙামাটির ২৯৯ নং আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার দলীয় টিকিট পেয়েছেন- সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় আ’লীগের সদস্য দীপংকর তালুকদার।

রোববার (২৫নভেম্বর) দুপুরে রাজধানী ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় আ’লীগের কার্যালয় থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ২৩০জন দলীয় প্রার্থীর নামে চিঠি প্রেরণ করেন।

এর মধ্যে চিঠিতে রাঙামাটির পাশ্ববর্তী জেলা খাগছড়িতে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এবং বান্দরবানে বীর বাহাদূর ঊশৈসিং’র নাম থাকলেও দীপংকরের নাম ওই চিঠিতে ছিলো কিনা ছিলো না এ নিয়ে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা হতাশা, ভয়, উৎকন্ঠা নিয়ে সময় কাটাতে থাকে। কোন নেতা-কর্মী দীপংকরের ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে পারছে না।

তবে দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ফেইসবুক, মুঠোফোনে সরব ছিলো জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর। তিনি সকলকে নির্ধিদ্বায় বুকে সাহস নিয়ে বলতে থাকেন এক বাক্যে- দীপংকর তালুকদার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন।

তবুও যেন তর আর সইছে না নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে গণমাধ্যম কর্মীদের । আসলে দীপংকর তালুকদার দলীয় টিকিট পেয়েছেন কিনা? যদি না পেয়ে থাকে তাহলে দল কাকে মনোনয়ন দিলো?

সম্পাদক মুছার কথায় নেতা-কর্মীরা আশার বানী খুঁজে পেলেও কেন্দ্র থেকে কোন সংবাদ না পাওয়ায় সকলে মুখে কুলুপ এটেঁছেন।

তাই দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা বাতি জ্বলে উঠলো কিন্তু তারপরও দীপংকর তালুকদারের মনোনয়ন নিয়ে কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। অবশেষে সন্ধ্যা বাতির উজ্জ্বল আলোয় সম্পাদক মুছার বাণী সত্য হলো; দীপংকর তালুকদারই পেলো নৌকার টিকেট, চিঠি পেলে হাতে।

এ সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে উচ্ছ্বাসিত নেতা-কর্মীরা হতাশার গ্লানি মুছে ফেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে রাজপথে, দলীয় অফিস সব জায়গায় সরব হলো। সকলের গোমরা মুখে হাসি ফুটলো। দাদা দীপংকর মনোনয়ন পেলো বুঝি।

  • Facebook
  • Twitter
  • Print Friendly

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমা হিল রিপোর্টকে জানান- দাদা দীপংকর তালুকদার ছাড়া আমরা কিছু ভাবতে পারি না। জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের হতাশ করেনি। ছাত্রলীগের এ নেতা আরও জানান- ২৯৯নং আসনটি জয়ী করার লক্ষ্যে ছাত্রলীগ তার সর্বশক্তি প্রয়োগ করে মাঠে নামবে।

রাঙামাটি জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর হিল রিপোর্টকে জানান- আমার শতভাগ বিশ্বাস ছিলো- দাদা দীপংকর তালুকদার নৌকার টিকিট নিয়ে ঘরে ফিরবেন।

জেলা আ’লীগের এ নেতা আরও জানান- পাহাড়ের অবিসংবাদিত কোন নেতা যদি থাকেন তাহলে তিনি দীপংকর তালুকদার। এ নির্বাচনে ২৯৯নং আসনে আ’লীগ থেকে জয়ী হতে হলে দীপংকর তালুকদার ছাড়া কোন বিকল্প নেই।

তাই যে যা বলুক- আমি দৃঢ় ছিলাম- জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের মনের ইচ্ছার দাম দিবেন। আর সে দামই দিলেন- প্রধানমন্ত্রী।

মুছা বলেন- এখন আমাদের অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। জয়ী হতে হবে এ আসনে। আর ২৯৯নং আসনটিতে দীপংকর তালুকদারকে জয়ী করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বিজয়ী আসনটি উপহার দিবো।

মহিলা সংরক্ষিত আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু হিল রিপোর্টকে জানান- আমরা শতভাগ নিশ্চিত ছিলাম দাদা দীপংকর তালুকদার দলীয় টিকেট পেয়ে যাবেন। সামনে আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। তাই ঘরে বসে থাকার সময় নেই।

সকল অবৈধ অস্ত্রবাজদের পরাশক্তিতে পরাজিত করে হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করার জন্য সকল নেতা-কর্মী একযোগে কাজ করতে হবে বলে জানান এ সংসদ সদস্য।