॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় পাহাড় ধসে ১১জন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন-বড়পুল পাড়া এলাকায় একই পরিবারের সুরেন্দ্র লাল চাকমা (৪৮), রাজ্য দেবী চাকমা (৪৫) সোনালী চাকমা (০৯), রুমেল চাকমা (১২), ফুল দেবী চাকমা, ইতি চাকমা, রীতা চাকমা ও রিটেন চাকমা। বাকি তিনজনের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (১২জুন) সকালে নানিয়ারচর উপজেলার পৃথক ৫টি গ্রামে এঘটনা ঘটে। গ্রামগুলো হলো-নানিয়ারচর উপজেলার বুড়ীঘাট, ধরমপাশা, আমতলী, বড়পুল ও ছড়াইপাড়া গ্রাম। রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) তাপস শীল বাংলানিউজকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কোয়ালিটি চাকমা জানান, রাতে ভারি বৃষ্টিতে পাহাড় ভেঙ্গে মাটিচাপা পড়ে বুড়িঘাট ইউনিয়নে ছয়জন ও নানিয়ারচর ইউনিয়নে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া টানা বর্ষণে নানিয়ারচর উপজেলার ইসলামপুরে-৪৫টি, বগাছড়িতে-৪২ ও বুড়িঘাটে-একটি স্থানে পাহাড় ধস হয়েছে। এসব এলাকায় মানুষের বাড়ি-ঘরের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে বলে জানান এ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান।

রাঙামাটি সিভিল সার্জেন ড. শহীদ তালুকদার জানান, নানিয়ারচর উপজেলায় পাহাড় ধসের ১১জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। কয়েকজনকে উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছে। এখনো উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক দিদারুল আলম জানান, আমরা উদ্ধারকাজে অংশ নিতে দু’টি টিম ঘটনাস্থলে রওনা করেছি। পাহাড় ধ্বসের কারণে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।
রাঙামাটি সড়ক জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এমদাদ হোসেন জানান, গত চারদিনের টানা বর্ষণে রাঙামাটি জেলায় প্রায় ১২৮টি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। পাঁচটিরও অধিক স্থানে সড়ক ভেঙ্গে গেছে। সড়কের কংক্রিট উঠে বড় বড় খানাখন্দ আর গর্তে পরিনিত হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাহাড় থেকে মাটির নেমে সড়কে স্তুপে পরিনত হয়েছে।

এদিকে, গত ৪দিনের টানা বর্ষণে তছনছ হয়ে গেছে রাঙামাটি শহর। পাহাড় ধসে বিধ্বস্ত হয়েছে অসংখ্য বাড়িঘর। ধসে পরছে পিলার, বাড়ি-ঘরের প্লাস্টার ও সীমানা প্রাচীর। সড়কে পাহাড় ধ্বসে যোগাযোগ । উপছে পরেছে গাছ পালা। বৃষ্টির পানি পরার কারণে বৈদ্যতিক খুঁটিগুলো থেকে ছিড়ে পরছে আগুন। রাত থেকে দিনে অর্ধেক সময় বিদ্যুৎ বিহীন ছিল রাঙামাটি।

এছাড়া শহরের রাঙামাটি চেম্বার অব কর্মাস ভবনের পাশ্ববর্তী সড়ক, সিনিয়র মাদ্রাসার পাশ্ববর্তী দেয়াল ও চম্পকনগর এলাকায় পরিবার পরিকল্পনা অফিসের দেয়াল, টিটিসি, বিজিবি রোড, ডিয়ার পার্ক, ঘাগড়া, সাপছড়ি, রাঙাপানি, পুলিশ লাইন ধসের ঘটনা ঘটেছে।

গত ২০১৭ সালে ১৩জুন রাঙামাটিতে পাহাড় ধ্বসে ১২০জন মানুষ প্রাণ হারায়। আহত হয় অর্ধশতাধিক। এছাড়া সেসময় ১৪৫টি স্থানে পাহাড় ধস হয়ে সারা দেশের সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় রাঙামাটি।