॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় পৃথক দু’টি ঘটনায় ২৩জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারী) সকালে উপজেলার ১৭মাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।

আহতরা হলেন- ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা নাছির, আনন্দ মোহন চাকমা, খোকন, বাবু, মালেক, সেলিম, সরোয়ার ও ফারজানা বেগম, রাঙামাটি সদরের মানিকছড়ি এলাকার বাসিন্দা শ্রমিক মাঝি মো. ইসমাইল (৫০), একই এলাকার শ্রমিক মো. নাছির (২৮), আব্দুর রহিম এবং খাগড়াছড়িস্থ দীঘিনালা উপজেলার বাসিন্দা শ্রমিক মো. সুমন (৪৮)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে নানিয়ারচর উপজেলাধীন বগাছড়ি ১৭ মাইল এলাকার ডিসেন পাড়ায় স্থানীয় বাঙ্গালী বাসিন্দা হাবিব তার নিজস্ব রেকর্ডীয় জায়গায় বসতঘর নির্মাণ করতে গেলে স্থানীয় আঞ্চলিকদল ইউপিডিএফ সমর্থকরা এসে বসতঘরটি ভাংচুর করার সময় বাধা দিলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে নানিয়ারচর সেনাজোন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অপরদিকে একইদিন সকালে ১৭মাইল এলাকায় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের হামলায় ১৪জন শ্রমিক আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে শ্রমিক সর্দার মো. ইসমাইলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসা দিতে চট্টগ্রাম পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ওই ঘটনায় আহত মো. আব্দুর রহীম বলেন, মঙ্গলবার সকালে রাঙামাটির কাঠ ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হাশেম আবুর কাঠ ট্রাকে লোড করার সময় একদল পাহাড়ি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এসে ট্রাক থেকে শ্রমিকদের নামিয়ে আনে। এরপর শ্রমিকরা কিছু বুঝার আগে সন্ত্রাসীরা তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকে। শ্রমিকরা ঘটনার কারন জানতে চাইলে সন্ত্রাসীরা তাদের বলে বাঙ্গালী বলে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করে এবং বাঙ্গালী জাতি হওয়ায় তাদের মারধর করা হচ্ছে বলে জানান। এরপর তাদের হাতে থাকা মুঠোফোন এবং নগদ টাকা চিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনা চারদিক জানাজানি হলে সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রাঙমাটি সদর হাসপাতলে ভর্তি করিয়ে দেয় বলে যোগ করেন এ শ্রমিক।

রাঙামাটি সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত ডা: দীপংকর তঞ্চঙ্গ্যা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নানিয়ারচরে পৃথক দু’টি ঘটনায় আহতদের সুচিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকীরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে বলে যোগ করেন ডা: দীপংকর।

নানিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কেউ কোন অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।