॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় আগামী ২৫শে জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উপ-নির্বাচন।

র‌্যাব-বিজিবি, আনসার, পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে অন্তত ৭শ’র অধিক সদস্যের উপস্থিতিতে নজীর বিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে একটি অবাধ-সুষ্ঠ নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটি জেলা প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ও নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার আব্দুল লতিফ শেখ।

ঘটনাবহুল নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোমবার থেকেই উপজেলাজুড়ে বিচরণ করবে এলিট ফোর্স র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব এর ৬টি বিশেষ টহল টিম।

এবারই প্রথমবারের মতো পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে এই ধরনের নজির বিহীন নিরাপত্তাবলয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উল্লেখ নিরাপত্তাবাহিনীর একজন উদ্বর্তন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে নির্বিঘেœ ভোট প্রদানের লক্ষ্যে কেন্দ্রকে সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এর নেতৃত্বে ১৪টি ভোট কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে প্রতিটি কেন্দ্রে যৌথ নিরাপত্তাবাহিনীর অন্তত ৫০জন সদস্যকে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রাখা হবে।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, নানিয়ারচরের উপ-নির্বাচনে যেকোন ধরনের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুবিধার্থে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে একজন করে সর্বমোট ১৪জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটকে নিয়োগ করা হয়েছে।

এদিকে রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবির জানিয়েছেন, নানিয়ারচর উপজেলার আসন্ন উপনির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠ নিরপেক্ষ করতে প্রতিটির কেন্দ্রের ভেতরে ১৫জন এবং বাইরে ৫জন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্বে থাকবে। এছাড়াও উপজেলার নদীপথে এবং সড়কপথে ৮টি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক টহলে থাকার পাশাপাশি নারী পুলিশের একটি বিশেষ টিমসহ রিজার্ভ স্টাইকিং ফোর্স মজুদ রাখা হয়েছে। এছাড়াও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পুলিশের একটি অংশকে সাদা পোশাকে নিয়োজিত রাখা হয়েছে।

এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমাকে দিনে-দুপুরে গুলি করে হত্যাসহ গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ এর নেতা তপনজ্যোতি ওরফে বর্মা চাকমাসহ ৭হত্যাকান্ড এবং ব্যাপকহারে অপহরণ-চাঁদাবাজির মতো অন্যতম ঘটনাবহুল উপজেলা রাঙামাটির নানিয়ারচরের সার্বিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে দৃশ্যমান এবং ছদ্মবেশে বেশ কয়েকটি অস্থায়ী ক্যাম্প ইতিমধ্যেই স্থাপন করা হয়েছে।
এরই মধ্যে অত্রাঞ্চল থেকে অস্ত্রসহ আটক হয়েছে বেশ কয়েকজন। তাই সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নানিয়ারচরে আসন্ন উপনির্বাচন সুষ্ঠ পরিবেশে অনুষ্ঠিত করতে নজীর বিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এদিকে সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, আর মাত্র দুইদিন পরেই (২৫শে জুলাই) উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চললেও এখনো পর্যন্ত উপজেলাজুড়ে নেই কোনো জমজমাট প্রচারণা। নেই উৎসবের আমেজ। এলাকায় পোস্টার ব্যানার লক্ষ করা গেলেও মাইকিংয়ের আওয়াজ নেই কোথাও। লক্ষ করা যায়নি সভা-সমাবেশ।

প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা প্রচারণা চালাচ্ছেন মোবাইলে। স্থানীয় লোকজনসহ বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, নির্বাচন ঘিরে জনমনে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক। ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না কেউ।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী হওয়ার সাহস পাননি দল দুটির কেউ। এ অবস্থার মধ্যে সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশে নেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এরই ধারাবাহিকতায় রোববার দুপুরে এদিকে নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে রোববার বেলা এগারোটার সময় নানিয়ারচর উপজেলায় সফরে এসে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা করেছেন যুগ্ম সচিব জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (এনআইডি)র পরিচালক আব্দুল বাতেন। এসময় তিনি উপজেলার নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সাথে ঘন্টাব্যাপী বৈঠক করে নির্বাচন অনুষ্ঠানে করনীয় সবরকমের কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।

গত ৩রা মে নিজ কার্যালয়ের সামনে দুর্বত্তের গুলিতে প্রকাশ্যে নিহত হয়েছিলেন নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা। এতে পদটি শূন্য হওয়ায় উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। নির্বাচন পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নারী ভাইস চেয়ারম্যান কোয়ালিটি চাকমাকে।

উপজেলা নির্বাচন অফিস জানায়, ২৫ জুলাইয়ের নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন চার প্রার্থী। তাদের মধ্যে রূপম দেওয়ান প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছিলেন। প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন প্রগতি চাকমা, প্রণতি রঞ্জন খীসা ও কল্পনা চাকমা। তিন প্রার্থীই স্বতন্ত্র।
তবে প্রগতি চাকমা ও প্রণতি রঞ্জন খীসার পক্ষে বিবদমান ও পরস্পরবিরোধী দুই বৈরী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এবং জেএসএস সংস্কারবাদী দলের সমর্থন রয়েছে বলে জানা গেছে। এখন জয় ছিনিয়ে নিতে মরিয়া উভয় প্রার্থীর পক্ষ দুটি।

উভয়পক্ষে ভেতরে ভেতরে সাধারণ জনগণকে ভোট প্রয়োগে প্রভাব খাটানো হচ্ছে বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে জনমনে বিরাজ করছে চাপা আতঙ্ক। নির্বাচন নিয়ে মতামত ব্যক্ত করতে মুখ খোলার সাহস করছেন না কেউ।