॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

রাঙামাটির নানিয়ারচর উপ-নির্বাচনে উত্তাপ নেই। নেই তেমন কোন প্রচার- প্রচারণা। কিন্তু চারদিকে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পাহাড়ের রক্তাক্ত এ উপজেলায় কখন কি হয় বলায় মুশকিল।

তাই স্থানীরা ভোট কেন্দ্র যাবে কি যাবে না এ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্ধ পড়েছে। ভোট প্রদান করার আগে ভাবছে তাদের নিরাপত্তার কথা।

এবারের উপ-নির্বাচনে জাতীয় রাজনৈতিক দল আ’লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি কিংবা স্বতন্ত্র কোন বাঙালী প্রার্থী নেই। তাই ইউপিডিএফ এবং জেএসএস এমএন লারমা গ্রুপ মরিয়া এ আসনটি ভাগিয়ে নিতে। এক ভিন্ন রকম পরিস্থিতির মোকাবেলা করবে এ অঞ্চলের বাসিন্দারা।

এ উপজেলার চারটি ইউনিয়নে ৩২হাজার ৮৫৪জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ১৭হাজার আট জন এবং নারী ভোটার রয়েছে ১৫হাজার ৮৪৬জন। ১৪টি কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে একযোগে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে নির্বাচন অফিস সূত্রে জানানো হয়। এজন্য নির্বাচন অফিস তাদের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করেছে।

বর্তমান সরকারের মেয়াদে দ্বিতীয়বারের মতো উপজেলা নির্বাচনের উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন প্রগতি চাকমা, কল্পনা চাকমা এবং প্রনতি রঞ্জন খীসা । এদের মধ্যে প্রগতি চাকমা জেএসএস সংস্কার এমএন লারমা গ্রুফ, কল্পনা চাকমা হচ্ছে স্বতন্ত্র এবং ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থী হচ্ছে প্রণতি চাকমা।

তবে ইউপিডিএফ এবারের নির্বাচনে কৌশলী এবং আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। অপরদিকে জেএসএস এমএন লারমা গ্রুপ ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিককে (বর্মা গ্রুফ) নিয়ে নতুন শক্তি প্রদর্শন করবে এ নির্বাচনে। উভয়ই দল তাদের সুকৌশলে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

অতীতে এ উপজেলায় জেএসএস সংস্কার’র নেতা অ্যাড: শক্তিমান চাকমা ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুফের সমর্থন নিয়ে এ আসনটি নিজেদের দখলে রেখেছে।

তবে বর্তমানে দল দু’টি নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে নেমে এক অপরের কঠিন শত্রুতে পরিণত হয়েছে। এজন্য জেএসএস সংস্কার নেতা শক্তিমানকে প্রাণ দিতে হয়েছে। তাই এ নির্বাচনে ইউপিডিএফ এক বিন্দু পরিমাণ ছাড় দিবে না। আসনটি তাদের দখলে নিতে সব রকম প্রস্তুুতি শেষ করে ফেলেছে সংগঠনটি। নিরভ-নিভৃতিতে ভোটারদের ঘরে ঘরে তাদের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে ভোট প্রদানের দাওয়াত পিিঠয়ে দিয়েছে।

অপরদিকে জেএসএসও তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় তাদের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে ভোট প্রদানের আহ্বান জানিয়ে দিয়েছে।

আঞ্চলিক দল দু’টি আ’লীগ এবং বিএনপি ভোটারদের টেনে নিতে নতুন টোপ ফেলেছে। কারণ এ উপজেলায় জাতীয় এ দল দু’টির অস্তিত্ব থাকলেও আঞ্চলিক দলগুলোর অস্ত্রের কাছে তারা অসহায়। তাই দল দু’টির কর্মী-সমর্থকরা এবার আঞ্চলিক দল দু’টির কাছে তাদের ভোট বিলিয়ে দিবে। তাদের নেতাদের কাছ থেকে পেয়েছে তারা এমন সংকেত।

এখন শুধু অপেক্ষার প্রহর, রাত পৌহালেই বুঝা যাবে আঞ্চলিক দল দু’টির মধ্যে কে আসনটি দখল করবে। পূর্বের ন্যায় জেএসএস সংস্কার নাকি ইউপিডিএফ।

এদিকে রাঙামাটি জেলা প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ও নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার আব্দুল লতিফ শেখ জানান-ভোটাররা ভোট প্রদানের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করে ফেলেছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালেট পেপারসহ ভোট প্রদানের যাবতীয় সরঞ্জমাদি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাঙামাটি পুলিশ সুপার আলমগীর কবির জানান, নানিয়ারচর উপজেলার উপনির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠ নিরপেক্ষ করতে প্রতিটির কেন্দ্রের ভেতরে ১৫জন এবং বাইরে ৫জন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্বে থাকবে। এছাড়াও উপজেলার নদীপথে এবং সড়কপথে ৮টি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক টহলে থাকার পাশাপাশি নারী পুলিশের একটি বিশেষ টিমসহ রিজার্ভ স্টাইকিং ফোর্স মজুদ রাখা হয়েছে।

এছাড়াও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পুলিশের একটি অংশকে সাদা পোশাকে নিয়োজিত রাখা হয়েছে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ জানান,  ভোট কেন্দ্রে  ভোট প্রদানের লক্ষ্যে কেন্দ্রকে সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এর নেতৃত্বে ১৪টি ভোট কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে প্রতিটি কেন্দ্রে যৌথ নিরাপত্তাবাহিনীর অন্তত ৫০জন সদস্যকে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রাখা হবে।

যেকোন ধরনের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুবিধার্থে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে একজন করে সর্বমোট ১৪জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটকে নিয়োগ করা হয়েছে।

গত ৩মে নিজ কার্যালয়ের সামনে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা। এতে পদটি শূন্য হওয়ায় উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। নির্বাচন পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন নারী ভাইস চেয়ারম্যান কোয়ালিটি চাকমা।