॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

রাঙামাটি: রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা গ্রুপ ) সহ-সভাপতি শক্তিমান চাকমাকে গুলি করে হত্যা এবং শুক্রবার দুপুরে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে খাগড়াছড়ি উদ্দেশ্য নানিয়ারচর থেকে যাওয়ার পথে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা বর্মাসহ ৫ জনকে হত্যার ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের করা হয়নি।

শনিবার (৫মে) নানিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওসি আরও বলেন, পরপর দুইটি ঘটনায় নিহত নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শক্তিমান ও জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা গ্রুপ ) সহ-সভাপতি শক্তিমান চাকমা এবং ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা বর্মাসহ নিহত অন্যান্যদের পরিবারের সাথে কথা বলেছি। তাদেরকে মামলা দায়ের করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি কিন্তু তারা মামলা দায়ের করবে কিনা এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্ধে ভুগছে।

পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, শনিবারের মধ্যে যদি ভিকটিমদের পরিবার মামলা না করে তাহলে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। দুইদিনে
৬জনকে হত্যার পর সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান। তবে পুরো নানিয়ারচর এলাকায় যৌথবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৩মে) সকালে নিজ কার্যালয়ে যাওয়ার সময় দুবৃর্ত্তের গুলিতে শক্তিমান চাকমা নিহত হন। এসময় তার সাথে থাকা রুপম চাকমাও গুরিবিদ্ধ হয়। অপরদিকে, শুক্রবার (৪মে) দুপুরে শক্তিমান চাকমার অন্ত্যোষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে ফিরে যাওয়ার পথে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা বর্মার গাড়ি বহরে একদল দুর্বৃত্ত নানিয়ারচর উপজেলার বেতছড়ি এলাকায় ব্রাশ ফায়ার করে হামলা চালালে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক প্রধান বর্মা এবং তার সাথে থাকা তার দলের তিন নেতা এবং গাড়ীর ড্রাইভার নিহত হন।

এসময় ঘটনাস্থলে আরও ৯জন গুলিবিদ্ধ হয়। এদের মধ্যে চারনজনকে চট্টগ্রাম জরুরী ভিত্তিতে চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং বাকীদের খাগড়াছড়ি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।