॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

রাঙামাটি নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমাসহ ৬খুনের ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- সুকৃতি চাকমা, (৪০), ক্লান্তময় চাকমা (৩৫), জিকু চাকমা (২৫)। তারা সবাই গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম ও পিসিপি’র নেতা।

মঙ্গলবার ২৯ মে ভোরে চট্টগ্রাম ইপিজেট ও বায়েজিত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

রাঙামাটি গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপ-সহকারী (এএসআই) আহসান জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাঙামাটি সদর থানার এস আই সৌরজিৎকে সাথে নিয়ে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দলসহ তিনি চট্টগ্রাম ইপিজেট ও বায়েজিত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

এসময় গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক সুকৃতি চাকমা, বন্দর থানা শাখার সভাপতি ক্লান্তময় চাকমা ও পিসিপি’র চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক জিকু চাকমাকে গ্রেফতার করা হয়।

তারা সবাই রাঙামাটি নানিয়ারচরে উপজেলা চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি শক্তিমান চাকমা, ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক এর আহ্বায়ক তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মা, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) যুব সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য তনয় চাকমা, মহালছড়ি যুব সমিতির সভাপতি সুজন চাকমা, সেতুলাল চাকমা এবং গাড়ি চালক সজীব হওলাদারের হত্যান্ডের তালিকাভূক্ত আসামী বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

আটকের পর আসামীদের রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলা থানায় হস্তান্তর করা হয় বলে যোগ করেন তিনি।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুফ সমর্থিত গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অংগ্য মারমা এবং পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বিনয়ন চাকমা মঙ্গলবার দুপুরে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক থুইক্যচিং মারমা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

এ বিষয়ে গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অংগ্য মারমা বলেন, বিনা ওয়ারেন্টে পুলিশ আমাদের নেতাদের গ্রেফতার করেছে। অভিলম্বে তাদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ৩ মে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা নিহত হন। এ ঘটনায় নানিয়ারচর থানায় মামলা করেছেন জেএসএস সংস্কারবাদী গ্রুপের উপজেলা সহসভাপতি রূপম চাকমা। মামলায় ইউপিডিএফ সভাপতি প্রসিত বিকাশ খীসা ও সাধারণ সম্পাদক রবি শঙ্কর চাকমাসহ ৪৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পরদিন অর্থাৎ ৪ মে শক্তিমান চাকমার দাহক্রিয়া অনুষ্ঠানে যোগদানের পথে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে একইভাবে নিহত হন ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক দলের প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মাসহ ৫ জন। এ ঘটনায় বাদী হয়ে আরেকটি পৃথক মামলা করেছেন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) গ্রুপের সদস্য অর্চিন চাকমা। এ মামলায় প্রসিত ও রবি শঙ্করসহ ৭২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা দায়ের পর চলতি মাসের ১০ মে দুপুরে রাঙামাটি শহরের কল্যাণপুর এলাকা থেকে ইউপিডিএফ সমর্থিত কিরণ জ্যোতি চাকমা (৫৫) এবং একই তারিখে দিনগত রাতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি সন্তু গ্রুপ’র (পিসিজেএসএস) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুঅতিশ চাকমা ওরফে তন্টু মণি চাকমাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ।

নানিয়াচর ৬হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতের অভিযোগে সর্বশেষ পুলিশ এ পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে ।