॥ কাপ্তাই প্রতিনিধি ॥

রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউপির নারানগিরির বড়পাড়ায় গত রোববার বিকাল ৪টার দিকে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৫৪পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।

পড়নের কাপড় ছাড়া তাদের বর্তমানে অবশিষ্ট আর কিছুই নেই। দিন রাত অতিবাহিত করছে তাঁরা খোলা আকাশের নিচে। হালকা বৃষ্টির সম্ভবনা তাদের মনে সৃষ্টি করছে নতুন এক ভয়ংকর আতঙ্কের। থাকার কোথাও জায়গা নেই।এই মুহুর্তে তাদের পাঁশে বৃত্তবানদের সহযোগীতাই যেন ক্ষতিগ্রস্থদের মনের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় তুফান শুরু হয়। তুফানে বড়পাড়ার অগ্নিকান্ডে পুড়ে যাওয়া স্তুপ উড়তে থাকে। মুহুর্তেই বৃষ্টি নামার ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে। যে যার মতো ছুঁটে যেতে চাচ্ছে নিরাপদ স্থানে। কিন্তু কোথায় যাবে? যাওয়ার কোন রাস্ত বা স্থান নাই।

যেখানেই যাবে সেখানেই অগ্নিকান্ডে পুড়ে যাওয়া স্তুপ। প্রায় ১৫মিনিটের বাতাসে অগ্নিকান্ডে পুড়ে যাওয়া ঘড়বাড়ি ও আসবাপত্রের ছাই উড়ে সমগ্র এলাকা অন্ধকার করে দিয়েছে। ছোট ছোট বাচ্চারা মায়েদের কাপড় টেনে আর্ত চিৎকার দিচ্ছে। এই যেন তাদের জন্য নতুন আরেক আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়া শুরু করেছে।

পরে মশুল ধারে বৃষ্টি নামা আরম্ভ করে। যে যার মতো ত্রাণ পাওয়া সামগ্রীগুলো নিরাপদ স্থানে নিতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। বৃষ্টি প্রায় দুই বারে আড়াই ঘন্টা হওয়ায় তাদের ত্রাণের সামগ্রীও ভিজে যায়।

ক্ষতিগ্রস্থরা জানায়, তাদের বর্তমানে নতুন আতঙ্ক হচ্ছে বৃষ্টি আর তুফান। তাদের এই মুহুর্তে টিনের অনেক প্রয়োজন। বাচ্চাদের সাথে বয়স্ক নারী-পুরুষরা প্রতিনিয়ত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বৃষ্টি পড়লে ত্রাণ সামগ্রী ভিজে যাচ্ছে। সব মিলেয়ে তাদের নতুন আরেকটি আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

মহিলা সাংসদ ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে তড়িৎ গতিতে ত্রাণ সামগ্রীসহ টিন পৌঁছানোর ব্যাপারে তিনি রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলবেন। তাদের পাশে আমরা আছি কোন ভয় নেই তাদের।

এদিকে কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ক্ষতিগ্রস্থদের টিন প্রদান করার বিষয়ে কথা হয়েছে। জেলা প্রশাসক তাদের অবহিত করে বুধবার বাজেট চলে আসলে খুব দ্রুত তাদের টিন নগদ টাকা প্রদান করা হবে।