॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে সরকারি টানা ছুটির কারণে বৈশাখের তীব্র গরম এবং কাল বৈশাখির খড়ক মাথায় নিয়ে হ্রদ-পাহাড়ের শহর রাঙামাটিতে ছুটে আসছে পর্যটকরা। পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো শহর। খাবার হোটেল থেকে শুরু করে আবাসিক বোডিংগুলো এখন ব্যস্ত সময় পাড় করছে।

আবাসিক বোডিংগুলো আগে বুকিং হয়ে যাওয়ায় অনেক পর্যটক অগ্রীম হোটেল বুকিং না দিয়ে রাঙামাটিতে আসায় চরম বিপাকে পড়েছে।

রাঙামাটির পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রাঙামাটির সিম্বল খ্যাত ঝুলন্ত সেতু, রাঙামাটি ৩০৫পদাতিক ডিভিশনের অধীন আরণ্যক রিসোর্ট, পুলিশ পলওয়েল পার্ক, ডিসি বাংলো, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য এলাকা, সুবলং ঝর্ণা, টুকটুক ইকো ভিলেজ এলাকাগুলোতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় লেগে আছে। জমজমাট ব্যবসা করছে খাবারের হোটেগুলো।

  • Facebook
  • Twitter
  • Print Friendly

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা ব্যবসায়ী সামসুল কাদেরী জানান, ব্যবসার কাজে সময় পায় না, তাই কয়েকদিন বন্ধ পেয়ে বউ-বাচ্চা নিয়ে পাহাড়- হ্রদের শহর রাঙামাটিতে ঘুরতে এসেছি।

সিরাজগঞ্জ থেকে আসা মো. মানজুরুল আলম শেখ জানান, রাঙামাটিতে পাঁচদিনের ট্যুরে এসেছি। গত দু’দিন ঝুলন্ত সেতু, বৌদ্ধ মন্দির, রাজবাড়ি এবং কাপ্তাই হ্রদে ঘুরেছি। তিনি বলেন, পর্যটন স্পটগুলোতে টয়লেটের সমস্যা, ময়লা আবর্জনা এবং যথাযথ নিরাপত্তার অভাব রয়েছে।

বগুড়া থেকে বেড়াতে আসা রিতু জাহান জানান, শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা রেহাই পেতে তিনদিনের ছুটিতে স্বামীকে নিয়ে রাঙামাটিতে বেড়াতে এসেছি। খুব ভাল লাগছে হ্রদ পাহাড়ের শহর। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্থানীয় সিএনজি ভাড়াটা শহরের চাইতে অধিক নিচ্ছে।

এদিকে ঝুলন্ত সেতুটিকে আশ্রয় করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সম্প্রদায়ের কিছু নারী জীবিকা নির্বাহের তাগিদে স্থানীয়দের হাতে তৈরি বিভিন্ন ডিজাইনের ব্যাগ এবং আচারের পসরা নিয়ে জমজমাট ব্যবসা করছে।

এদের মধ্যে মিতালী চাকমা জানান, আমি গত কয়েকদিন গড়ে ৮-১০হাজার টাকা পণ্য বিক্রি করেছি। বেচাকেনা খুব ভাল হয়েছে। স্থানীয়দের হাতে তৈরি চোখ ধাঁধানো বিভিন্ন ডিজাইনের ব্যাগ আকারের ভিত্তিতে বড়গুলো ডিজাইন ভেদে ৫০০-৪০০টাকা এবং ছোটগুলো ৩০০-২৫০টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

আরেক হস্ত সামগ্রী বিক্রেতা রতœা চাকমা বলেন, পরিবারের উপর নির্ভর না করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে স্বাধীন ভাবে নিজে ব্যবসা করছি। প্রতিদিন গড়ে ৩০০০-৪০০০হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করছি। মদৃ হাসি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ব্যবসা খুব ভাল ভাবে করতে পারছি।

রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের নির্বাহী কর্মকার্তা সূর্যসেন ত্রিপুরা জানান, টানা সরকারি ছুটির কারণে পর্যটকরা ক্লান্তি দূর করতে রাঙামাটিতে ছুটে এসেছে। প্রতিদিন ১৫০০০-২০০০হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটছে পর্যটন কমপ্লেক্সে। বেচা-বিক্রি ভাল হচ্ছে বলে তিনি জানান।

কমপ্লেক্সের নির্বাহী কর্মকর্তা আরও জানান, পহেলা মে পর্যন্ত কটেজের সবকয়টি রুম অগ্রিম বুকিং রয়েছে এবং আগামী কয়েকদিন কটেজের ৫০% রুম বুকিং থাকবে।

সূর্যসেন ত্রিপুরা বলেন, ভূমি ধসের কারণে পর্যটন কমপ্লেক্সের অনেক ক্ষতি হয়েছে। সংস্কারসহ নানা সমস্যা দূরীকরণে উর্দ্ধতন মহলকে অবগত করা হয়েছে।

হোটেল প্রিন্স’র স্বত্তাধিকারী নেছার আহম্মেদ জানান, আমার হোটেলের সবকয়টি রুম পহেলা মে পর্যন্ত বুকিং এবং মে মাসের ৮-১০ তারিখ পর্যন্ত ৬০% বুকিং রয়েছে।

ট্যুরিজম ডেভেলপার এসোসিয়েশনের অব বাংলাদেশ’র (টিডিএবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং হোটেল ইন্টারন্যাশনাল সুফিয়ার স্বত্তাধিকারী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, রাঙামাটিতে পর্যটক আসলেও আমার হোটেলে পর্যটক নেই। পর্যটকরা এখনো কম দামের হোটেল খোঁজে। এছাড়া রাঙামাটিতে হত্যা, গুম, চাঁদাবাজির কারণে আতঙ্ক তৈরি হওয়ায় তুলনামূলক পর্যটক কম আসছে বলে জানান তিনি।