॥ খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥

খাগড়াছড়ি জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে স্থানীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ফুটবল টুর্নামেন্টে উদ্বোধনী খেলায় মহালছড়ি উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাকে ২-০গোলে উড়িয়ে দিয়ে শুভ সূচনা করেছে মারমা উন্নয়ন সংসদ। মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে অনুষ্ঠিত খেলায় দলটি হেসে-খেলে তাদের জয় ছিনিয়ে নিয়েছে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে উভয় পক্ষ গোলের দেখা না পেলেও দ্বিতীয়ার্ধের সময় ১০ মিনিটের মাথায় প্রথম গোলটি করেন মাউস’র খেলোয়ার মুরো মারমা। এরপর ৩০মিনিটের মাথায় আবারো সেই মুরো মারমা দ্বিতীয় গোলটি করে বিজয়ের পথটি সুগম করেন। এরপর কোন পক্ষ আর গোল করতে না পারায় নির্ধারিত সময়ের পর ২-০ গোলের ব্যাবধানে বিজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মাউস দল।

এর আগে প্রধান অতিথি হয়ে টুর্নামেন্টের শুভ সূচনা করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড’র চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা।

  • Facebook
  • Twitter
  • Print Friendly

এসময় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদুল হক, বিজিবি’র সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল গাজী মুহাম্মদ সাজ্জাদ, জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি সেনা জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরাফাত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম সালাউদ্দিন, পৌর সভার মেয়র মো. রফিকুল আলম, ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিসদ সদস্য জুয়েল চাকমা, খাগড়াছড়ি রিজিয়নের জিএসও (টু) মেজর রফিক, জেলা পরিষদ সদস্য ও বাংলাদেশ মারমা উন্নয়ন সংসদ-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু, জেলা পরিষদ সদস্য পার্থ ত্রিপুরা জুয়েল, সদর থানার ওসি সাহাদাত হোসেন টিটো, জেলা ক্রীড়া অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক ধুমকেতু মারমা ও জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি অনুপ কুমার চাকমা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেন, ক্রীড়া চর্চার মাধ্যমে পাহাড়ে নব দিগন্তের সূচনা হবে। সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড-কে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি তিন পার্বত্য জেলার ক্রীড়া-সংস্কৃতি-শিক্ষা উন্নয়নেও পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিয়ে চলেছেন। পাহাড়ের ক্রীড়াঙ্গনকে সক্রিয় রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই। খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করলে মাদকমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব। তাই মাদক নয়, ক্রীড়ার প্রতি মনোনিবেশ করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়।

এবারের টুর্নামেন্টে বিভিন্ন উপজেলার মোট ১৪টি দল অংশগ্রহণ করেছে। খেলায় স্থানীয় খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের ফুটবলাররাও অংশ নিয়েছেন। টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে চাকমা-মারমা-ত্রিপুরা বাঙালি সংস্কৃতির সম্মিলনে প্রদর্শিত মনোরম ডিসপ্লে দর্শকদের মনকে পুলকিত করে তোলে।