॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

চট্টগ্রাম ২৪ পদাতিক ডিভিশনের এরিয়া কমান্ডার (জিওসি) মেজর জেনারেল এসএম মতিউর রহমান বলেছেন- পার্বত্যঞ্চল ঘিরে আলাদা রাষ্ট্র চিন্তাকারীদের বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ধূলিসাৎ করে দিবে। তাদের স্বপ্ন কোনদিন পূরণ হবে না। সোমবার (২২অক্টোবর) দুপুরে দূর্গম বিলাইছড়ি উপজেলায় পাংখোয়া পাড়া ট্রাইবাল ভিলেজ উদ্বাধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেজর জেনারেল আরও বলেন- ১৯৭৪ সাল থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্যঞ্চলের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। ১৯৯৭ সালে শান্তি চুক্তির পর সেনাবাহিনী নতুন করে পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রতি এবং উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে এবং ধৈয্যর পরিক্ষা দিচ্ছে।

  • Facebook
  • Twitter
  • Print Friendly

মেজর জেনারেল মতিউর জানান- চুক্তির পরবর্তী শান্তি চুক্তি বিরোধী একটি মহল পাহাড়ে আবারো অরাজকতা, খুন, গুম, হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি করছে। যারা এসব অপকর্ম করে তারা মাত্র গুটিকয়েক স্বার্থন্বেষী ব্যক্তি।

মেজর জেনারেল আরও জানান- পাহাড়ের সকল মানুষ শান্তি চাই। পাহাড়ের যে কোন সম্প্রদায়ের বিপদে সেনাবাহিনী ছুটে যাচ্ছে। রাঙামাটিতে ভূমি ধস তার দৃষ্টান্ত উদাহরণ। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া সেনাবাহিনীর দুইজন অফিসারসহ তিন সৈনিক সেসময় নিহত হয়েছে।

তিনি পাহাড়ের অরাজকতাকারীদের হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন- পার্বত্যঞ্চল স্বাধীন বাংলাদেশের অংশ। এখানে আর কোন নতুন রাষ্ট্র হবে না। যারা রাষ্ট্রের স্বার্বভৌমত্বকে ক্ষীন চোখে দেখে পার্বঞ্চলকে ঘিরে স্বাধীন রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন দেখে তাদের আশা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পূরণ করতে দিবে না।

বিলাইছড়ি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও ১২০ তিনকোনিয়া মৌজার হেডম্যান লাল ইং লিয়ানা পাংখোয়ার সভাপতিত্বে এসময় রাঙামাটি রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রিয়াদ মেহমুদ, বিলাইছড়ি জোন কমান্ডার লে.কর্ণেল শেখ আব্দুল্লাহ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শুভ মঙ্গল চাকমা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ ইকবাল, স্থানীয় পাংখোয়া সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের প্রারম্ভে পাংখোয়া সমাজের সাংস্কৃতিক কর্মীরা তাদের সংস্কৃতির নাচ, গান পরিবেশন করে অতিথিদের মুগ্ধ করেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি মেজর জেনারেল মতিউর পাংখোয়া সমাজের নানা সমস্যা দূরীকরণে নগদ ৬লাখ টাকা সহায়তা প্রদান করেন। এসময় পাংখোয়া সমাজের পক্ষ থেকে অতিথিদেরকে ঐতিহ্যের উপহার প্রদান করা হয়।