স্টাফ রিপোর্টার । হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: সরকার নির্দেশিত ভোটার তালিকায় হালনাগাদ কার্যক্রমে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান) জন্য দেয়া বিশেষ শর্ত বাতিল এবং হালনাগাদের সময় সীমা বৃদ্ধি চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে-পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ। মঙ্গলবার (০৬জুন) সকালে জেলা শহরের বনরূপা এলাকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন রেস্টুরেন্টে সংগঠনটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এমন তথ্য জানান।

বক্তারা বলেন- চলতি বছরের ২০মে থেকে শুরু হওয়া ভোটার তালিকার হালনাগাদের কার্যক্রম চলবে ৯জুন পর্যন্ত। সারা দেশের ন্যায় তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায়ও এ কার্যক্রম চলমান রয়েছ। কিন্তু উদ্বেগের বিষয়-ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে নতুন ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে পার্বত্য এলাকার বাসিন্দাদের জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে আলাদা কিছু শর্ত দেয়া হয়েছে।

বিশেষ করে স্থায়ী বাসিন্দা প্রমাণের জন্য পৌরসভা বা ইউপি চেয়ারম্যানের সনদের বাইরে পাহাড়িদের প্রথাগত নেতৃত্ব হেডম্যান/কার্বারীর সনদ এবং জায়গার সনদ চাওয়া হয়েছে। সবচেয়ে দু:খের এবং জটিল বিষয় হলো- স্থায়ী বাসিন্দার ক্ষেত্রে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সনদ পাওয়া গেলেও বেশিরভাগ মানুষের কাছে নিজস্ব রেকর্ডিয় জায়গা না থাকায় জায়গার সনদ নেই। জায়গা না থাকায় পাহাড়িদের প্রথাগত নেতৃত্ব হেডম্যান কার্বারীরাও এসব বাসিন্দাদের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে প্রত্যয়নপত্র/সনদ দিচ্ছে না। পার্বত্য চট্টগ্রামের বেশিরভাগ মানুষ নির্বাচন কমিশনের দেয়া এ দুটি শর্ত মানতে পারছে না বিধায় তারা ভোটার তালিকায় অর্ন্তভূক্ত হতে পারছে না। অথচ বাদ পড়তে যাওয়া এসকল মানুষ ও তাদের আত্মীয় স্বজন দীর্ঘদিন থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করে আসছে।

বক্তারা আরও বলেন- দীর্ঘ বছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি বন্দোবস্তি বন্ধ রেখেছে সরকার। এখানে জমি বেচাকেনাতেও রয়েছে নানা জঠিলতা। এ কারণে এখানে দীর্ঘ সময় ধরে বসবাসরত বাঙ্গালীদের খাস দখলীয় জমি থাকলেও তাদের জমির কোন রেকর্ডপত্র হাতে নেই। এখানে বসবাসরত বেশিরভাগ বাঙ্গালী হত দরীদ্র ও ভূমিহীন। এছাড়াও স্থানীয় পাহাড়িদের নেতৃত্ব হেডম্যান/কার্বারীরা পাহাড়িদের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের চাপের মুখে বাঙ্গালীদের স্থানীয় বাসিন্দার প্রত্যয়ন পত্র দিতে রাজি হচ্ছেন না। এ অবস্থায় চলমান ভোটার তালিকা হাল নাগাদ কার্যক্রমে নতুন করে বহু বাঙ্গালী বাসিন্দা ভোটার হওয়ার মতো নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় বাঙ্গালীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

তাই নির্বাচন কমিশনের কাছে জোর দাবি-চলমান ভোটার তালিকা হাল নাগাদ কার্যক্রমে পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য আলাদা করে দেয়া শর্ত বাতিল, হাল নাগাদ কার্যক্রমের সময়সীমা বৃদ্ধি করতে হবে। না হলে ভোটার হওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত পার্বত্যবাসীকে সাথে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ শাব্বির আহম্মেদ, সিঃ যুগ্ম সম্পাদক মোঃ সোলায়মান, যুগ্ন সম্পাদক মোঃ আবু বকর সিদ্দীক, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিঃ সহ-সভাপতি মোঃ হাবিব আজম, এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মোরশেদা আক্তারসহ দলটির নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।