॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

পার্বত্য অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে খাগড়াছড়িস্থ মাটিরাঙা উপজেলার সংগঠনটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির উপদেষ্টা এইচ এম হেলালের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাহজল ইসলাম সজল এর পরিচালনায় এসময় পার্বত্য অধিকার ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা স্থায়ী সদস্য, উপদেষ্টা মন্ডলী, তিন পার্বত্য জেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও মহানগরের কমিটির নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

উক্ত আলোচনা সভায় উপস্থিত সকলের সিদ্ধান্তক্রমে পার্বত্য অধিকার ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় উক্ত কমিটি বিলুপ্ত করে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট নতুন করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটিতে দায়িত্ব প্রাপ্তরা হলেন আহ্বায়ক, সাহজল ইসলাম সজল, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবছার উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব, মোঃ সাদ্দাম হোসেন, মোঃ নাজিম আল হাসান, মোঃ ইউনুছ, সদস্য সচিব আনিসুজ্জামান ডালিম, সদস্য মোঃ সাহাব উদ্দিন, মোঃ ইখতিয়ার ইমন, মোঃ মোকতাদের হোসেন, মোঃ আহম্মেদ রেদওয়ান, মোঃ লোকমান হাকিম, মিছেস সালমা আহমেদ মৌ।

অন্যন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক রবিউল ইসলাম, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলার সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ পারভেজ, রাঙামাটি সরকারি কলেজ শাখার সভপতি মোমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাকি বিল্লাহ্ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার আহ্বায়ক মোঃ ইউনুছ বাঙালী সহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দগণ।

উক্ত আহ্বায়ক কমিটি আগামী তিন মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় কাউন্সিল নির্বাচনের মাধ্যমে সম্পন্ন করবে ও বর্তমানে সংগঠনের সকল কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত আহ্বায়ক কমিটই পরিচালনা করবে।

সভায় বক্তরা বলেন, পার্বত্য অধিকার ফোরাম প্রতিষ্ঠার পর হতেই রাষ্ট্র বিরোধী পাহাড়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দলোন করে ও পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করার মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করছে।

পার্বত্য অধিকার ফোরামের জনপ্রিয়তা সহ্য করতে না পেরে কিছু মহল ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছিলো। পার্বত্য অধিকার ফোরাম কোন ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত না করে দৃড় চিত্তে এগিয়ে যাবে ও সন্ত্রাস বিরোধী কঠোর আন্দোলন অব্যাহত রাখবে বলে ঘোষনা দেন।

বক্তারা আরো বলেন- পাহাড়ের বাসিন্দারা আর রক্তের হলিখেলা দেখতে চায় না। আর কোন মায়ের বুক খালি দেখতে চায় না। স্ত্রী স্বামীকে মা তার সন্তানকে, ছেলে-মেয়েরা তার বাবাকে হারাতে চায় না।
ব্যবসায়ীরা চাঁদামুক্ত হয়ে শান্তিতে ব্যবসা করতে চায়, রাজনীতিবিদরা জীবনের নিরাপত্তা চায়। দেশের স্বার্বভৌমত্ব রক্ষা হোক এটাই দাবি পাহাড়ের বাসিন্দাদের।

বক্তারা আলোচনা সভায় ১০টি দাবী তুলে ধরেনঃ-
১। ১৯০০ সালের ১নং আইনসহ সকল প্রকার বিতর্কিত অসাংবিধানিক আইন সমূহ বাতিল করতে হবে।

২। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে সংশোধন করে “উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল” এই অসাংবিধানিক শব্দগুলি বিলুপ্ত করতে হবে।

৩। বাংলাদেশের সংবিধানের ৬ (২) অনুচ্ছেদ মোতাবেক জাতি হিসাবে বাঙালী এবং বাংলাদেশী নাগরিকত্বের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত বৃহত্তর বাঙালী জনগোষ্ঠীকে অসাংবিধানিক ভাবে “অ-উপজাতি” হিসাবে অভিহিত করা যাবে না।

৪। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি হতে পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন সহ বিদ্যমান সকল আইন সংশোধন করে “অ-উপজাতি” শব্দগুলিকে বিলুপ্ত করতে হবে।

৫। পার্বত্য চট্টগ্রামের বৃহত্তর বাঙালী জনগোষ্ঠীদের গুচ্ছগ্রাম হতে তাদের স্ব স্ব ভূমিতে পুনর্বাসন করে ভূমির অধিকার ফেরত সহ আর্থিক ক্ষতি পূরণ দিতে হবে।

৬। বাঙালীদের ভূমি জবর দখল চলবে না। ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কল্পে দ্রুত ভূমি জরিপ চালু করতে হবে। ভূমি জরিপ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তথাকথিত বিতর্কিত অসাংবিধানিক “ল্যান্ড কমিশন” এর সকল কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।

৭। অবিলম্বে খাস জমি বন্দোবস্তি প্রক্রিয়া ও কার্যক্রম চালু করতে হবে।

৮।পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিতর্কিত ও অসাংবিধানিক ক (১), খ(৩), ২৬(ক), গ (১০), (ঘ)১০ নং দফা সহ পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের ৬৪(১) (ক) ধারা অবিলম্বে সংশোধন করতে হবে।

৯। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ঘ(৪) দফা সংশোধন পূর্বক ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের রায়, আদেশ কিংবা কোন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে (মহামান্য সুপ্রীম-কোর্ট) আপীল করার বিধান প্রনয়ন করতে হবে।

১০। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ঘ (৫) দফা সংশোধন করে “ল্যান্ড কমিশনে” তিন পার্বত্য জেলা হতে কমপক্ষে ০৩(তিন) জন বাঙালী প্রতিনিধি নিযুক্ত করার বিধান করতে হবে।