তাং- ২৯.১১.২০১৭

মঈন উদ্দীন বাপ্পী, রাঙামাটি

চলতি বছরের ২রা ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২০ বছর পূর্তি পালন করা হবে। ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের জাতীয় কমিটির আহবায়ক আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয়র
(সন্তু লারমা) মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি। যা ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তি চুক্তি নামে অভিহিত।

ঢাকায় চুক্তি স্বাক্ষরের সে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, তৎকালীন ও আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চুক্তি অনুসারে সেময় খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে শান্তিবাহিনীর সদস্যরা অস্ত্র সমর্পণ করে। পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের দু’দশক পরেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো চলছে নানা বিতর্ক। চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে জনসংহতি সমিতি হতাশা দেখালেও সরকারের দাবী চুক্তির বেশিরভাগই ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে।

আলোচিত পার্বত্য চুক্তি বা শান্তি চুক্তি নিয়ে পাহাড়ের নেতারা যা বলছেন:

সজীব চাকমা:

জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সহতথ্য প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, অত্যন্ত দু:খজনক পার্বত্য চুক্তিটি এখনো পূর্ণাঙ্গ ভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। আজকে চুক্তির ২০ বছর পার হওয়ার পরও চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করছে। তিনি বলেন, ২০ বছর আগেও পার্বত্য জনগণকে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে।

রাজা দেবাশিষ রায়:

চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিস্টার দেবাশিষ রায় বলেন, স্বাভাবিক ভাবে চুক্তির ২০ বর্ষপূর্তিতে আনন্দে দিয়ে করার মতো কিছু দেখিনা। সেটা একটি করুণ একটা বিষয়। ত্রিশ বছর পর যদি বেঁচি থাকি তাহলে একই কথা শুনা হবে। গ্লাসের খালি অংশের দিকে থাকিয়ে আছি, তবে ভরা হয়েছে কিছু। চুক্তির যতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে তা নিযে কথা না বলে যতটুকু বাস্তবায়ন হয়নি তা নিয়ে আলোচনা করা দরকার। সরকারের কাছে আবেদন করি সরকার যেন মনোযোগী হোন তা যেন বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করে। রাজা বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নে এক বছর, দু’বছর যা সময় যাক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষযক মন্ত্রলালয়ের উপদেষ্টা কমিটিকে বৈঠকে নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।
রাজা আরও বলেন,দলীয় মতাভেদ থাকতে পারে। যদি প্রধানমন্ত্রী সুদৃষ্টি থাকে, সময় দিতে পারেন তাহলে অনেকগুলো বিষয় সমাধান করা যাবে। চুক্তি বাস্তবায়ন দেশের মঙ্গলের জন্য, জনগণের কোন অধিকার খর্ব করবে না বলে রাজা জানান।

জাহাঙ্গীর আলম মুন্না:

পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মুন্না বলেন, ১৯৯৭ সালের স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি সরকার যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে তখন আমরা মনে করেছিলাম দীর্ঘ ২৩বছরের সশস্ত্র সংগ্রাম বন্ধ হবে। পাহাড়ি-বাঙালী সকল সম্প্রদায় মিলে মিশে বসবাসের সহবস্থন সৃষ্টি হবে। কিন্তু চুক্তি হওয়ার পর থেকে পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলো পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রের মাধ্যমে চাঁদাবাজি, খুন, গুম করছে।

এ নেতা বলেন, ২০১৪ সালে সরকারের যখন মেডিকেল কলেজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশবিদ্যালয় স্থাপন করছে করছে তখনি আঞ্চলিক সংগঠনগুলো জনগণের মৌলিক অধিকারে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়ন কতটুকু সম্ভব হবে, চুক্তি বাস্তবায়ন হলে এখানকার মানুষের শান্তি আসবে কিনা এনিয়ে তিনি দ্বিমত পোষণ করেন। এ অঞ্চলের পাহাড়ি-বাঙালী সকলে মনে করে, আগে শান্তি প্রতিষ্ঠা তারপর চুক্তি বাস্তবায় করা হোক বলে এ নেতা জানান।

দীপংকর তালুকদার:

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন, আমরা কি বলেছি শান্তি চুক্তি একশো ভাগ বাস্তবায়ন করেছি? সাবেক এ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি ওইদিন ইন্টার নেটে দেখেছি চুক্তির ৬৫ভাগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
সাবেক মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা কি বলেছি ভূমি কমিশনের মাধ্যমে ভুমি সমস্যা দূর করেছি। সরকারের চুক্তি বাস্তবায়নে ইতিবাচক ভুমিকা রাখছে। কিন্তু এখানে নেতিবাচক মনোভাবটা বেশি। আর নেতিবাচক মনোভাবটা বেশি থাকলে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন ত্বরানিত হয়।

তিনি জানান,এ অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি, অবৈধ অস্ত্রের মাধ্যমে সশস্ত্র সংগঠনগুলো মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন করছে, মানুষের বাক স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হচ্ছে। সাবেক এ মন্ত্রী আরও জানান, শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করার আগে পাহাড় থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে।

তাং- ২৯.১১.২০১৭