॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ রাঙামাটি জেলা শাখার ঈদ পূনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা শহরের একটি ব্যক্তিমালিকাধীন রেষ্টুরেন্ট এ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, পার্বত্য নাগরিক পরিষদ রাঙামাটি জেলা ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক জামাল উদ্দীন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিবিসিপির জেলা সভাপতি মো: জাহাঙ্গীর আলম। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আব্দুল মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, সাবেক কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি আব্দুল জাব্বার, আরো উপস্থিত ছিলেন ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদিকা হালিমা আক্তার মোহনা, জেলা সাংস্কৃতিক সম্পাদক আল আমিন, জেলা সহ সাংগঠনিক মামুনুর রশিদ, কলেজ ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদিকা ঝর্ণা আক্তার, কলেজ সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদিকা আমেনা আক্তার, কলেজ যুগ্ম সম্পাদক রবিউল ইসলাম, রাঙ্গামাটি কৃষি ডিপ্লোমার সভাপতি নাঈম উদ্দীন, রাঙামাটি পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড সভাপতি লিটন, সেক্রেটারি জামিল উদ্দীন, রাঙমাটি পৌর আহব্বায়ক মো: ইউসুপসহ জেলা ও কলেজ শাখার নেতৃবৃন্দ।

জেলা প্রচার সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মোমিনের পরিচালনায় ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দরা বলেন, পার্বত্য চট্রগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য আদিবাসি স্বীকৃতি অপচেষ্টা চালাচ্ছে বিচ্ছিন্নতাবাদী উপজাতী সন্ত্রাসীরা।

সরকারি প্রজ্ঞাপনের তোয়াক্কা না করে উপাজাতী সন্ত্রাসীরা প্রশাসনের সহযোগীতায় প্রতি বছর আদিবাসী দিবস পালন করে যাচ্ছে যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি স্বরূপ। নেতৃবৃন্দরা বলেন, ১৯৯৬ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর লংগদুর পাকুয়াখালী এলাকায় ৩৫ নিরীহ কাঠুরিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল যার বিচার এখনো হয়নি এবং বিচার না হওয়াতে পাহাড়ে হ্ত্যাকান্ড বেড়েই চলেছে। তাই অবিলম্বে ৩৫ কাঠুরিয়া হত্যাকারীসহ সকল হত্যার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

ছাত্র পরিষদের নেতারা বলেন, সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করলেও হাইকোর্ট থেকে রাজাকার ত্রিদিব রায়ের নামে সকল স্থাপনা থেকে তার নাম মুছে ফেলার নির্দেশ দিলেও রাঙ্গামাটির প্রশাসন তা কার্যকর উদ্দ্যেগ না নেয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন ছাত্র পরিষদের নেতারা।

অনুষ্ঠানে পিবিসিপির রাঙমাটি জেলা সভাপতি মো: জাহাঙ্গীর আলম, তার বক্তব্যে বলেন ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি চুক্তির নামে যে চুক্তি হয়েছিল তা পার্বত্য অঞ্চলের একটি জনগোষ্টিকে সম্পুর্নভাবে সংবিধান ও অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সভাপতির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন শান্তি চুক্তির পূর্বে পার্বত্য অঞ্চলে একটি মাত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ছিল, এখন শান্তি চুক্তির পরে এসে দেখছি ৪টি সশস্ত্র সংগঠন ।তাই তিনি বলেন শান্তি চুক্তি করেছিল পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যে কিন্তু পাহাড়ে এখনো শান্তির দেখা মেলেনি, উপরন্তু এখানে প্রতিনিয়ত চলছে গুম, খুন, অপহরণ ও চাদাবাজির মতো ঘটনা। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন সকল অবৈধ অস্ত্রধারীদের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে এদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হোক।

ব্যস্ততার মাঝেও আজকের অনুষ্ঠান সফল করার জন্যে নেতা কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যৎ -এ ন্যায্য অধিকার আদায়ের সকল আন্দোলনে উপস্থিত হওয়ার আহবান জানিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত ঘোষনা করেন।