মঈন উদ্দীন বাপ্পী। হিলরিপোর্ট

রাঙামাটি: পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম জেলার নাম ‘রাঙামাটি’। আর এ জেলার অন্যতম হাট-বাজারের নাম ‘বনরূপা। বনরূপা হাটবাজার প্রতিদিন লোকারণ্যে ভরপুর থাকলেও হাটের দিন বুধবার এবং শনিবার লোকসংখ্যা দ্বিগুণ বাড়ে।

হাটে পাহাড়ি নারীরা তাদের উৎপাদিত জুম চাষের সবজি নিয়ে ভোর থেকে হাজির হয়। বিক্রি করে জুমের পাহাড়ি সবজি ‘তারা, ঠান্ডা আলু, পাহাড়ি কচু, ক্ষিরা, জঙ্গলী আলু, তেথো বেগুন, শামুক, পাহাড়ি হলুদ, আদা, মাল্টা, কাঁচা তেতুল, আমলকি’। যা সমতলের কোন বাজারে পাওয়া যায় না।

তারা (পাহাড়ি সবজি) :

পাহাড়ী পল্লী মানুষের পরিচিতি সবজির নাম ‘তারা’ এবং অন্যতম প্রিয় খাবার। সবজিটি পরিছন্ন করে এরপর কেটে সিদ্ধ করে স্যুটকি দিয়ে রান্না করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন তরকারীর সাথে মিশ্রণ করে রান্না করে। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে অন্যান্য ফসলের সাথে এ সবজিটিও চাষ করে জুমিয়ারা। সবজিটি চাষ করার এক বছর পর খাওয়ার উপযোগী হয়। বনরূপা বাজারে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির নারীরা কেজি প্রতি ৩০টাকা করে বিক্রি করছে সবজিটি।

জুমের কচু:

জুমের পাহাড়ি সবজি ভুট্টো, বেগুন, আলুর সাথে কচুও চাষ করা হয়। সমতলের কচুর চেয়ে এ কচুর কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। সমতলে জমিতে কচুর চাষ করা হলেও এ অঞ্চলে পাহাড়ে কচু চাষ করা হয়। আকারে ছোট এবং কালো রংয়ের হয়ে থাকে পাহাড়ি কচু। এ সবজিটি পাহাড়িরা সিদ্ধ করে শুটকি দিয়ে রান্না করে খায়। বাজারে এ সবজটি পাহাড়িরা নারীরা বিক্রি করছে কেজি প্রতি ৪০টাকায়।

তিত বেগুন:

পাহাড়িদের কাছে তিতে বেগুন বা তিত বেগুন হিসেবে পরিচিতি বেশি। বেগুনটির নাম হলো-‘ গোট বেগুন বা গুটগুটি বেগুন’। তিত বেগুন শুঁটকি, আলুর সাথে ভর্তা করে বা আলুর সাথে ভাজি করে খাওয়া যায়। মাছের সাথে রান্না করেও খাওয়া হয়।
এই বেগুন চাষ করতে হয় না। এমনিতেই হয়। তবে শখ করে এর চারা সংগ্রহ করে লাগানো হয়। শুষ্ক বালি মাটিতে এর ফলন ভালো হয়। বেগুনের সাইজ মটর দানা হতে সামান্য বড় হয়ে থাকে।

ঠান্ডা আলু:

পাহাড়ে ঠান্ডা আলু বেশ পরিচিতি। চাকমারা বলে-‘ জুড়ো আলু। মারমারা বলে- ‘রোঞেউ’। ঠান্ডা আলু কাঁচা খাওয়া যায় এবং খুব সুস্বাদু। আবার পাহাড়িরা শুটকি দিয়ে রান্না করেও খায়। ঠান্ডা আলুর চাষ হয়- ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাসে। পাহাড়ি লোকেরা জুমে এই আলু চাষ করে।

জুমে ধান চাষের পাশাপাশি ঠান্ডা আলুর বীজ বপন করা হয়। ধান উঠে গেলে আলুর গাছগুলো বাড়তে থাকে। এসময় আলুগুলো সংগ্রহ করা হয়। বনরূপা বাজারে এ আলু কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১২০টাকায়।

ধানি মরিচ:

পাহাড়ে উৎপাদিত মরিচকে ধান্য মরিচ বা ধনি মরিচ বলা হয়। মরিচটি বেশ ঝাল এবং সমতলের মরিচেয়ে চেয়ে ভিন্ন স্বাদ। মরিচটি তরকারি এবং সালাদে ব্যবহার করা হয়। পাহাড়ে বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালী সকলের মরিচটি বেশি ক্রয় করে স্বাদের জন্য। অন্য মরিচের চেয়ে পাহাড়ি এ ধান্য মরিচটির দাম দ্বিগুণ হয়। বনরূপা বাজারে মরিচটি কেজি প্রতি ২০০টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পাহাড়ি আলু:

পাহাড়িদের কাছে আলুটি ‘পাহাড়ি আলু বা জঙ্গী আলু হিসেবে বেশি পরিচিতি। তবে এর প্রকৃতি নাম হলো-‘শিমুল আলু’। এ আলুটি কাঁচা বা রান্না করে খাওয়া যায়। এ আলু গাছটির উপরিভাগ দেখতে অনেকটা শিমুল গাছের ন্যায় বলে একে শিমুল আলু বলা হয়। তবে সবজিটির নিচের অংশ খাওয়া হয়। গাছটি থেকে তিন বছর ফলন পাওয়া যায়। ফলনটি পুষ্টি সমৃদ্ধ একটি খাবার। পাহাড়িরা ফলনটি সিন্ধ করে স্যুটকি দিয়ে রান্না করে খেয়ে থাকে।