॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

পাহাড়ি জেলা রাঙামাটির আকাঁবাকা সড়কগুলো এখন মুত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত এ সড়কগুলোতে দুর্ঘটনায় নিহত হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। আহত হচ্ছে অগণিত।যানমালের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তবুও টনক নড়ছে না কোন কর্তৃপক্ষের। দুর্ঘটনা রোধে কারও কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।

স্বাধীনতার পর রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কিছুটা উন্নতি হলেও যে হারে যানবাহনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে সে হারে সড়কের উন্নয়ন ছোঁয়া লাগেনি। এসব সড়কের ভয়ঙ্কর যেসব গিরিপথ পথ রয়েছে সেসব পথ মাড়াতে স্থানীয় চালকদের যেখানে হিমশিম খেতে হয় প্রতিনিয়ত সেখানে বাইরে থেকে আসা যানবাহনগুলো এসব গিরিপথে চালানোর অভিজ্ঞতা না থাকায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা গেছে, রাঙামাটি সদরের প্রবেশ মুখ মানিকছড়ি থেকে ভেদভেদী এলাকার লোকনাথ মন্দির এলাকা পর্যন্ত সড়কগুলোকে প্রতিদিন কোন না দুর্ঘটনা লেগেই থাকে।

এ এলাকার সড়কগুলো যেমন আঁকাবাকা তেমনি গিরিপথ। সড়ক বিভাগ মধ্যখানে এসব সড়কগুলোতে কিছু লুকিং গ্লাসের ব্যবস্থা করে দিলেও দুষ্টুলোকেরা তা ভেঙে দিয়েছে।

এছাড়া ট্রাফিক সাইন এবং রোড মাকিং না থাকায় ঝুকিঁপূর্ণ এই আঁকাবাকা উঁচু-নিচু সড়কগুলোতে চালকরা গতির তারতম্য না বুঝে অভারটেকিং এবং দ্রুত গতিতে চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনার পতিত হয়।

রাঙামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্তৃপক্ষ জানান, রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বেশকিছু ঝুঁকিপূর্ণ বাক (আঁকাবাকা পথ) চিহ্নিত করা হয়েছে। এই বাকগুলোর প্রধান সমস্যা হলো এর দু’পাশে পাহাড় থাকার কারণে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির যানবানগুলো দেখা যায় না। সড়কে নেই রোড সাইন এবং রোড মার্কিং চিহ্ন। যে কারণে দুর্ঘটনা হচ্ছে বেশি।

সড়কগুলোকে ঝুকিঁমুক্ত করতে হলে পাহাড় কাটা জরুরী বলে মনে করেন তারা। পাহাড় কাটা গেলে রুটগুলোকে নিরাপদ সড়কে পরিণত করা যাবে। এজন্য তাদের কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে। সেজন্য এই প্রতিষ্ঠানে একজন দক্ষ এবং অভিজ্ঞ কর্মকর্তার জরুরী প্রয়োজন বলে তারা মতামত ব্যক্ত করেন।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির কর্তারা আরও জানান, এসব রুটে দুর্ঘটনা কমাতে গত ১১জুলাই ২০১৯ খ্রি: রাঙামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রোড ডিজাইন এন্ড সেফটি সার্কেল বিভাগকে একটি চিঠি প্রেরণ করে। এরপরই একই বছরের গত ২৯জুলাই রোড ডিজাইন এন্ড সেফটি সার্কেল বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল স্থানীয় প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মককর্তাদের নিয়ে ঝুকিঁপূর্ণ সড়কগুলো পরিদর্শন করেন এবং সুপারিশমালা প্রণয়ন করেন।

এদিকে সুপারিশ মালা থেকে জানা গেছে, রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দু’পাশে অবিস্থিত পাহাড়গুলো কাটলে স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে এবং পাহাড় ধ¦সের ঝুঁকিপূর্ণতা বেড়ে যাবে। এজন্য পাহাড় না কেটে এসব ঝুর্কিপূর্ণ বাকগুলোতে বিআরটিএ এবং ট্রাফিক সাইন ম্যানুয়াল অনুযায়ী সাইন-সিম্বল ও রোড মার্কিং স্থাপন করতে হবে এবং স্থাপিত এসব সাইন-সিম্বল ও রোড মার্কিং সঠিক থাকতে হবে। না হলে রাতে দুর্ঘটনা বেড়ে যাবে বলে সুপারিশ মালায় উল্লেখ করা হয়।এছাড়া সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে ‘লুকিং গ্লাস বা কনভেক্স মিরর স্থাপন করতে হবে।

পাশাপাাশি বেশিঝুঁকিপূর্ণ বাকগুলোতে মাটি কেটে সমান করে (ফিলিং করে) রিটানিং ওয়াল করে দিতে হবে এবং সঠিক ড্রেনেজের ব্যবস্থা রাখতে হবে বলে জানানো হয়।
রাঙামাটি সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু মুছা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করছি, রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেশকিছু ঝুর্কিপূর্ণ আকাঁবাকা সড়ক রয়েছে। এসব সড়কগুলোতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা লেগে থাকে। এসব রুটে দুর্ঘটনা কমাতে রুটগুলোর তালিকা তৈরি করে প্রথমে সড়ক বিভাগের তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলীকে একটি চিঠি প্রেরণ করি করে বলে জানান।

এ চিঠির ভিত্তিতে তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী রোড ডিজাইন এন্ড সেফটি সার্কেল বিভাগকে একটি চিঠি প্রেরণ করলে টিঠির ভিত্তিতে ওই বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল ঝুঁকিপূণ সড়কগুলো পরদর্শন করেন এবং ডিজিটাল সার্ভে করেন। এরপর সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা এড়াতে একটি সুপারিশমালা প্রণয়ন করে গেছেন বলে জানান এ উপ-সহকারী প্রকৌশলী ।

এতদিন কেন কাজগুলো শুরু করা যায়নি এমন প্রশ্নে এ উপ-সহকারী প্রকৌশলী জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের প্রতিষ্টানটি প্রধান কর্মকর্তা পদটি শূণ্য ছিলো। একজন শুধু অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতেন নামেমাত্র।

তিনি আরও বলেন, কাজ করার মতো আমাদের ফান্ড রয়েছে। নতুন কর্মকর্তাও যোগদান করেছে। এখন উদ্যোগী হলে কাজটা আমরা খুব দ্রুত শুরু করতে পারি।

এ ব্যাপারে জানতে প্রশ্ন করা হলে রাঙামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারহীন রুখসানা বলেন, আমি এ ব্যাপারটি আপনার কাছ থেকে শুনেছি। এখনি লিখি রাখছি। এরপর খোঁজ নিবো কি করা যাবে।

রাঙামাটি নিরাপদ সড়ক আন্দোলন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সোলাইমান বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে যে হারে রাঙামাটিতে যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে গেছে সে তুলনায় সড়কের কোন উন্নয়ন চোখে পড়েনি।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলন কমিটির এ নেতা আরও বলেন, রাঙামাটি শহরটি এখন দিনদিন পর্যটন শহরে পরিণত হচ্ছে। জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য পরিধি বাড়ছে। জেলার বাইরে থেকে বড় আকারের পরিবহন রাঙামাটিতে প্রবেশ করছে।

কিন্তু আমাদের রাঙামাটি- চট্টগ্রাম সড়কে ভয়ঙ্কর যেসব আকাঁবাকা উচু-নিচু পথ রয়েছে সেগুলো খুবদ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার করে সমান সড়ক করার জোর দাবি জানান তিনি। এজন্য সড়ক বিভাগ যদি আন্তরিক হয় তাহলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সড়কের বিপদজনক পদগুলো সংস্কার করা সম্ভব বলে যোগ করেন এ নেতা