॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

বিলাইছড়ি জোনের জোন কমান্ডার লে.কর্ণেল শেখ আব্দুল্লাহ পিএসসি বলেছেন- পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য সেনবাহিনীর পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বৃহস্পতিবার (১নভেম্বর) সকালে উপজেলার শুক্কুরছড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

লে.কর্ণেল আব্দুল্লাহ আরও বলেন- পাহাড়ে বসবাস করা জনগোষ্ঠির পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হলো- শিক্ষা ক্ষেত্রে অনগ্রসরতা। এই অনগ্রসরতার অন্যতম কারণ হলো- শিক্ষা অর্জনে অনীহা, সঠিক সময়ে স্কুলে না যাওয়া এবং অস্বচ্ছলতার কারণে শিশুদের স্কুলে না পাঠানো।

জোন কমান্ডার জানান- পাহাড়ের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠিকে সহযোগিতা করতে সেনাবাহিনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আর্থিক সহযোগিতা, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান এবং ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিক বিকাশের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী প্রতিনিয়ত সহযোগিতা করে যাচ্ছে বলে জানান কমান্ডার।

লে.কর্ণেল আব্দুল্লাহ আরও জানান- অন্ধকার পাহাড়ে আলো জ্বালাচ্ছে সেনাবাহিনী। পাহাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজ করা, অস্বচ্ছল মানুষকে চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তায় সজাগ দৃষ্টি রেখে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী।

বক্তব্য পরবর্তী জোন কমান্ডার আব্দুল্লাহ স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ এবং স্কুলের একজন অস্বচ্ছল শিক্ষককে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন। কমান্ডার এসময় ওই অস্বচ্ছল শিক্ষককে মাসিক ভিত্তিতে পরবর্তীতে বেতন প্রদান করবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন। এসময় স্কুল পরিচালনা কমিটির কর্তৃপক্ষ, স্কুলের শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা এবং স্থানীয় কার্বারী উপস্থিত ছিলেন।

ওইদিন স্কুল পরিদর্শন অনুষ্ঠান পরবর্তী লে.কর্ণেল আব্দুল্লাহ উপজেলার স্থানীয় কৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়। মতবিনিময় সভায় জোন কমান্ডার কৃষকদের নানা সমস্যার কথা মন দিয়ে শুনেন এবং তাদের বিভিন্ন সুপরামর্শ প্রদান করেন।

আলোচনা পরবর্তী কৃষকদের কষ্ট দূরীকরণ করতে আসন্ন শীত মৌসুমে কৃষকদের বিভিন্ন সবজি বীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ এবং আর্থিক সহযোগিতা করবেন বলে জানান কমান্ডার।

একইদিন দুপুরে লে. কর্ণেল শেখ আব্দুল্লাহ উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের গোয়াইনছড়ি এলাকার আর্য ধুর্তাঙ্গ বিমুর্তি বিহার (বৌদ্ধ মন্দির) পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন পরবর্তী বৌদ্ধ মন্দির পরিচালনা কমিটির সাথে মতবিনিময় সভা করেন। কমিটি কর্তৃক মন্দিরের বিভিন্ন সমস্যার কথা মন দিয়ে শুনেন। মতবিনিময় পরবর্তী মন্দির পরিচালনার কমিটির হাতে মন্দিরের উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং মন্দিরের উন্নয়নে ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতা করা হবে বলে জানান কমান্ডার।