॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

অধিকার আদায়ের নামে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসার পরিচালনাকারি তথাকথিত আঞ্চলিক দলগুলোর সশস্ত্র কার্যক্রম বন্ধে অবিলম্বে অস্ত্র উদ্ধারসহ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দেশের প্রচলিত আইনে বিচারের সম্মুখীন করার দাবি জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের নারী সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু। তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসীদের আর ছাড় দেওয়া হবে না।

সম্প্রতি রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিলাইছড়ি যুবলীগ নেতা দয়াল ও মহিলা লীগের সদস্য কাপুরি দেখতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

এসময় তিনি রাঙামাটি সদর হাসপাতালে আহত দু’জনের সাথে একান্ত আলাপ করে তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন। আহতদের সু-চিকিৎসা নিশ্চিতে নির্দেশনা প্রদান করে তাদের হাতে নগদ আর্থিক সহায়তাও তুলে তিনি।

এসময় সংসদ সদস্য বলেন, একটি আঞ্চলিক দল সরকারের খেয়ে পড়ে সরকারীদল সমর্থকসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের উপর নির্মম নির্যাতন চালাচ্ছে। বিগত কয়েক বছর যাবৎ এই সন্ত্রাসী দলটির সশস্ত্র ক্যাডাররা আমাদের নেতাকর্মীদের উপর নির্মম নির্যাতন চালাচ্ছে।

অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা টিকিয়ে রেখে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি করে চলা আঞ্চলিক দলীয় সন্ত্রাসীরা পাহাড়ের মানুষের বাক-স্বাধীনতা কেড়ে নিতে চাচ্ছে। তাদের কর্মকান্ডে পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে।

এই ধরনের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে অদূর ভবিষ্যতে এই অঞ্চল টিকিয়ে রাখাও কষ্টসাধ্য হবে, তাই পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো কঠোর হওয়ার আহবানও জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের নারী সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু।

উল্লেখ্য, দূর্গম পাহাড়ে বাস করে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করার অপরাধে রাঙামাটির বিলাইছড়িতে আঞ্চলিকদলের সন্ত্রাসীদের হাতে মারধরের শিকার হয়েছে ক্ষমতাসীনদলের উপরোক্ত দুই নেতা। শুক্রবার বিকেলে ৩নং ফারুয়া ইউনিয়নের উলুছড়ি পাড়ায় এই ঘটনা ঘটে।
দু’জনকে শুক্রবার বিকেলে বাড়ি থেকে পৃথকভাবে ধরে নিয়ে বেদড়ক পিটিয়ে আহত করেছে আঞ্চলিকদলীয় সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনায় সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বিলাইছড়ি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি অংসী প্রু মারমা জানিয়েছেন, জেএসএস এর সশস্ত্র শাখার ২০-২৫ জনের একদল সন্ত্রাসী শুক্রবার বিকেলে উলুছড়ি পাড়ায় হামলা চালায়। এসময় দয়াল তঞ্চঙ্গ্যাকে বাড়ি থেকে ধরে অদূরে জঙ্গলে নিয়ে বেদড়ক পেঠায়। আওয়ামীলীগের রাজনীতি কেন করছে এমন প্রশ্ন করে সারা শরীরে বেদড়ক পিটুনীতে সে আহত হয়ে লুটিয়ে পড়লে তাকে ফেলে চলে যায় সন্ত্রাসীরা। অপরদিকে এর কিছুক্ষণ পরেই ফারুয়া ইউনিয়নের মহিলা আওয়ামীলীগের সদস্য কাপড়ি তঞ্চঙ্গ্যার বাসায় হামলা দিয়ে তাকেও বেদড়ক পেঠায় সন্ত্রাসীরা। পরে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরা খবর পেয়ে তারা আহত দু’জনকে উদ্ধার করে প্রথমে বিলাইছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাত সাড়ে দশটার সময় উন্নত চিকিৎসার জন্যে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে এনে ভর্তি করে।
এদিকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য এরআগেও, বিলাইছড়ি উপজেলায় আঞ্চলিকদলীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হাতে স্থানীয় আওয়ামীলীগের ওঅন্তত ৬ জন নেতাকে পৃথক পৃথক হামলায় গুরুত্বর আহত করা হয়েছিলেন।