॥ খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥

পার্বত্য চট্টগ্রামে শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের মাধ্যমে নতুন করে উদ্বাস্তু সাজিয়ে ৮২ হাজার উপজাতি পরিবারকে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র বন্ধের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ করেছে বাঙ্গালি ছাত্র পরিষদ। একইসাথে পাহাড়ের গুচ্ছগ্রামে বন্দি প্রকৃত আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু ৩৮ হাজার বাঙ্গালি পরিবারকে পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয় কর্মসূচি থেকে।

মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) সকালে শহরের শাপলা চত্ত্বরে পার্বত্য বাঙ্গালি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এসময় বক্তারা বলেন, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২০ দফা প্যাকেজের আওতায় টাস্কফোর্সের মাধ্যমে ভারত প্রত্যাগত সকল উপজাতীয় শরণার্থীদের যথাযথভাবে পাহাড়ে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

সর্বশেষ ২০০৮ সালে ২১টি উপজাতীয় শরণার্থী পরিবারকে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার জামতলীতে পুনর্বাসন করা হয়। কিন্তু ১৯৯৮ সালের টাস্কফোর্সের ৩য় বৈঠকে ৩৮ হাজার ১৫৬টি বাঙ্গালি আভ্যান্তরীণ উদ্বাস্তু পরিবারের তালিকা অনুমোদন দেয়ার পরও অদ্যবধি পর্যন্ত পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

টাস্কফোর্সের নতুন চেয়ারম্যান সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার সমালোচনা করে তারা বলেন, তিনি সকল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও কৌশলে আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু বাঙ্গালিদের বাদ দিয়ে নতুন করে ৮২ হাজার মায়ামনমার ও ভারতীয় নাগরিকদের উপজাতি উদ্বাস্তু সাজিয়ে পাহাড়ে পুনর্বাসন করতে চায়। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় এ সাংসদ পাহাড়ে বাঙ্গালিদের বিতাড়িত করার ষড়যন্ত্র করছে।

বক্তারা কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে পার্বত্যঞ্চলের লোকদের নিয়ে ষড়যন্ত্র না করতে আহবান জানান।
অবিলম্বে নেতৃবৃন্দ নতুন করে উপজাতি পুনর্বাসনের নামে টাস্কফোর্সের সিদ্ধান্তের ষড়যন্ত্র বন্ধসহ পার্বত্য চট্টগ্রামকে রক্ষায় সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানো ও পুনবার্সন তালিকায় স্থান পাওয়া পরিবারের সদস্যদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন সরকারের কাছে।
কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য বাঙ্গালি ছাত্র পরিষদের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মজিদ, কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম সোহাগ ও সংগঠনটির জেলা শাখার সভাপতি লোকমান হোসেন, সিনিয়র সহ সভাপতি নজরুল ইসলাম মাসুদ প্রমুখ। এদিকে, একই দাবিতে পার্বত্য অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা শহরে লিফলেট বিতরণ করেন।