আজগর আলী খান, উপজেলা প্রতিনিধি। হিলরিপোর্ট

রাজস্থলী: গত কয়েকদিন যাবৎ থেকে চন্দ্রঘোনার তিনজন,শান্তিনিকেতনের একজন,রাজানগরের একজন মুদির দোকান ব্যবসায়ী,একজন হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী একজন ইটভাটার মালিক,দক্ষিন রাজানগরের একজন,সরফভাটার আট জন,আমাকে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা থেকে গত একমাস আগে বদলি হওয়া পুলিশ অফিসার বর্তমান

চট্টগ্রাম বোয়ালখালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) সুমন কুমার দে’র সাথে যোগাযোগ হয় কিনা,তার বদলির কারণ কি তিনি ভাল অফিসার ইত্যাদি বিষয়ে আমার কাছে কোন নোট আছে কিনা জানতে চাই৷৷

উত্তর ছিল::যোগাযোগ নেই,বদলি পুলিশি অফিসিয়াল বিষয় আমার জানার প্রয়োজন নেই৷৷

এমন উত্তর মানুষগুলো আমার কাছে আশা করেনি,অনেকের ধারণা আমি যেহেতু মাদক সন্ত্রাস অনিয়মের বিরুদ্ধে লেখালেখি করি সেহেতু আমি অনেক বিষয়ে জানি,আমার কাছে তথ্য আসে তাই তাদের জানতে চাওয়া৷

তাছাড়া এস আই সুমনের বদলীর সময় আমার কিছু লেখা নাকি তাদের নজরে আসে যা পড়ে তারা বুঝতে পারেন আমি বদলীর বিষয়ে সব জানি৷

কিন্তু আপসোস আমার সব জানার পরও রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার কিছু অর্থলোভী অসাধু পুলিশ নামের কলংক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমান থাকার পরও কিছু বলতে পারছিনা৷

কারণ তাদের হাত রেলগাড়ির থেকে লম্বা৷ প্রশ্ন আসতে পারে পুরো বিশ্বে মহামারি যার মধ্যে বাংলাদেশও আক্রান্ত কিংবা মহামারি সংকটে, রাঙ্গুনিয়াও তার বাহিরে নয়৷

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় যোগদান করা পুলিশ অফিসার এসআই সুমনের দায়িত্ব পালন কতটুকু প্রশংসার দাবীদার আজ সবাই ভুলে গেছে৷

রাষ্ট্রবিরোধী শক্ররা যখন নির্বাচন ভাংচাল করতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত,জান মালের ক্ষতি করতে বিভিন্ন কৌশলমুখি তখন এস আই সুমনের ভূমিকা ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছিল৷
তখন অনেকের সুমন ভাই ছাড়া কারো ঘুমও হতনা,জাতীয় নির্বাচন শেষে উপজেলা নির্বাচন,ইউপি নির্বাচনে পুলিশ অফিসার সুমনের ভূমিকা রাঙ্গুনিয়ার সাধারণ মানুষ মনে রাখবে আজীবন৷৷

কি অপরাধে বদলী করা হল এস আই সুমনকে? কিছু মানুষের কাছে পুলিশ অফিসার সুমন খুবই বিয়াদব উগ্র অভদ্র৷ কেন অভদ্র পুলিশ অফিসার সুমন? মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করার পর কোন আপোষ না করে মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করার কারণে কোন অফিসার যদি বিয়াদব হয় সেইক্ষেত্রে পুলিশে এমন অফিসারের দরকার বেশী৷

সরকারি রাজকীয় পোষাক লাগিয়ে কারো হাতের লাঠি ভূমিদস্যু সন্ত্রাসী অস্ত্র মামলার আসামীর পক্ষে না গিয়ে পুলিশি ভূমিকা রাখার নাম যদি বিয়াদব হয় এমন পুলিশ অফিসারকে নিয়ে গর্ব করা যায়৷৷

নিরবতা গম্ভীর চুপচাপ কারণ কি জানতে না চেয়ে বদলি পেপার নিয়ে চলে গেল সেই মানুষটি যে মানুষটি রাঙ্গুনিয়াকে মাদক মুক্ত করতে যুদ্ধ নেমেছিল৷৷

এস আই সুমন মাদকের বিরোধী ছিল বলে অনেক মাদক গড ফাদার থানায় আসতে পারতনা অথচ এস আই সুমন বদলী হওয়ার পর রাঙ্গুনিয়া থানায় সেই মাদক গড ফাদারের উপস্থিতি এবং নির্দেশনা দেখে কি রাঙ্গুনিয়াবাসী হতাভাগ৷৷

তিন মামলা চার্জসিট ভুক্ত এক নম্বর আসামী জনৈক এক স্বেচ্চাসেবক লীগ নেতার সহযোগীতায় সার্কেল এসপির অফিসে যায়৷ একজন পুলিশের বিরুদ্ধে একজন সন্ত্রাসী অভিযোগ করতে কি করে পুলিশ কর্মকর্তার সামনে যেতে পারে এটাই এখন মূল বিষয়৷৷

মাদক বিরোধী সচেতন মহল চুপ আজ কেউ মাদক নিয়ে মুখ খুলেনা৷কারণ পুলিশ যেইখানে মাদক বিরোধী করতে গিয়ে ঠিকতে পারেনা সেইখানে সাধারণ মানুষ কি করে প্রতিবাদ করবে?

সংবাদ কর্মীরা জানেনা বলে একটা নিউজ পর্দার আড়ালে রেখে বুকভরা কষ্ট নিয়ে রাঙ্গুনিয়াকে মাদক মুক্ত করার প্রত্যয় নিয়ে রাতদিন পরিশ্রম করা এসআই সুমন নিরবে চলে যায় বোয়ালখালি থানায় যোগদান করতে৷

কি ছিল সেই পর্দার আড়ালে নিউজ? অপহরণ হওয়া তরুনীকে দুইমাস পর ঠাকুরগাঁ পীরগঞ্জ থানা থেকে পাঁচদিন চেষ্টা চালিয়ে উদ্ধার করে মা বাবার বুকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর থানা কতৃক ধন্যবাদ কিংবা বাহবা পাওয়ার কথা বিনিময়ে পেল বদলী লেটার৷
এর থেকে বড় পুরুষ্কার একজন পুলিশ অফিসারের জন্য কি হতে পারে? সেটা পুলিশ ডিপার্মেন্ট ভাল জানার কথা৷
অন্যসব পুলিশ হলে নিজে কৃতিত্ব রক্ষা করতে অপহরণ হওয়া তরুনীকে নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে আসত কত গল্প বানাত কিন্তু এসআই সুমন সেই তরুনীর ভবিষ্যত চিন্তা করে সম্পন্ন গোপনীয়তা রেখে অপহরণকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ভিকটিমের জবানবন্দি সব করেছে কোন সংবাদ মাধ্যম জানতনা৷৷ এসআই সুমনের মত পুলিশকে আমি একজন গনমাধ্যম কর্মী হিসাবে স্যালুট জানাই৷